কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রতিদিন আসছে নতুন বই, অপেক্ষা পাঠকের

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মোরসালিন মিজান ॥ তৃতীয় দিন পার হয়েছে। এখনও নবীনের চেহারা। ধীরে ধীরে আপন রূপে ফিরবে। ইতোমধ্যে সে আভাস স্পষ্ট করেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন বই। পাঠকও নেহায়েত কম নয়। তবে মেলার পরিসর অনুযায়ী বাড়েনি পাঠক। প্রকাশকরা প্রতীক্ষা করে আছেন।

বিকেলে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, বিচ্ছিন্নভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পাঠক। মাথার উপর তখনও প্রচ- রোদ। অনেকেই সে রোদ এড়িয়ে বই দেখার চেষ্টা করছিলেন। কেউ কেউ গাছের ছায়ায় জমিয়েছিলেন আড্ডা। একাধিক পাঠকের সঙ্গে কথা বলে ধারণা হয়, যাদের বইমেলার প্রতি বহুকালের প্রেম তারাই আগেভাগে ঢুঁ মারছেন। ঠিক বই কেনার জন্য নয়। মেলার জন্য ভেতরে যে ছটফট, সেটি দূর করতে আসছেন তারা। তাই বলে বই কেনার লোকের খুব অভাবÑ এমনটি বলা যাবে না। অনেকেই কিনছেন। দশটি বই হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে একটি প্যাকেট করে দিতে বলছেন। বিকেলে রোদ পড়লে পরে মেলায় প্রবেশ করেছিলেন তিন বন্ধু নাফিস, রিয়াজ ও শাহীন। দেখা গেল একজনের হাতে বই। কে পড়বে? জানতে চাইলে শাহীনের জবাবÑ সবাই পড়ব। একজনের শেষ হলে অন্যজন। নাফিস যোগ করেনÑ টাকা বাঁচানোর চেষ্টা। যে টাকা বাঁচবে তা দিয়েও বই কেনা হবে বলে জানান তিনি। এভাবে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে মেলা।

অবস্থাটিকে বর্ণনা করে অনুপম প্রকাশনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এক মাসের মেলা। শুরুটা এমনই হয়। ধীরে ধীরে লোকসমাগম বাড়ে। আমরা সেই সময়টির জন্য অপেক্ষা করে আছি। হরতাল অবরোধের মতো বিষয়গুলো কী কোন প্রভাব ফেলছে? জানতে চাইলে প্রশ্ন মোটামুটি উড়িয়ে দেন এই প্রকাশক। বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা সুন্দর মানুষের। সৃজনশীল মননশীল মানুষের মেলা। এই মেলা কারও প্রতিপক্ষ হতে পারে না। কখনও হয়নি। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গোটা জাতি বইমেলার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান। তাঁদের প্রাণ পড়ে থাকে মেলা প্রাঙ্গণে। নব্বইয়ের দশকে রাজনীতি বহুগুণে উত্তাল ছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তখনও বইমেলা ছিল জমজমাট। এখন বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটছে। মেলায় এসবের কোন প্রভাব পড়বে না। আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনীর সঙ্গেও কথা হলো এ বিষয়ে। তাঁর মতে, এখন যথেষ্ট ভাল মেলা হচ্ছে। পাঠক উপস্থিতি অবশ্যই সন্তোষজনক। এবার মেলার পরিসর কয়েকগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে লোকসমাগম অতোটা চোখে পড়ছে না। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এ্যাডর্ণের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন মনে করেন, মেলায় উপস্থিতি ভাল। তবে তাঁরা অপেক্ষা করে আছেন শুক্র ও শনিবারের জন্য। এ দুই দিন মেলা দারুণ জমবে বলে আশা তাঁর। আর মেলা একবার জমে গেলে সেটি আর পেছন ফিরে তাকায় না।

নতুন বই ॥ তৃতীয় দিন মঙ্গলবারও এসেছে বেশ কিছু নতুন বই। বিভিন্ন স্টলে খোঁজ নিয়ে কিছু বইয়ের তথ্য জানা গেছে। বইগুলোর মধ্যে অনুপম প্রকাশনী থেকে এসেছে স্বপন বিকাশ ভট্টাচার্যের লেখা ‘বাংলাদেশ জাতিতত্ত্ব’। একই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে ‘নব আনন্দে জাগো রবীন্দ্রসংগীত স্বরলিপি’। বইয়ের এটি প্রথম খ-। সম্পাদনা করেছেন ড. করুণাময় গোস্বামী। আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে ‘আমাদের আধুনিক কবিতার দুই দশক বরেণ্য কবিদের নির্মাণকলা’। লিখেছেন আবিদ আনোয়ার। একই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে রাবেয়া খাতুনের ‘একাত্তরের নয় মাস’। এ্যাডর্ণ থেকে প্রকাশিত হয়েছে গাজী তানজিয়ার ‘কালের নায়ক’। বইটিতে লেখিকা আহমদ ছফাকে কালের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বলাটি এ রকমÑ আহমদ ছফা তাঁর আচরণে, তাঁর দেশপ্রেম ও দৃঢ়তায়, স্পষ্টবাদিতায় ও নির্ভীকতায় নায়ক হয়ে দেখা দিয়েছেন বার বার। রোদেলা থেকে এসেছে সানজিদা হক মিশুর ‘বাংলাদেশের নাটক বিদ্রোহ আখ্যান ও শিল্পবৈচিত্র্য’। একই প্রকাশনী থেকে এসেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ সংকলন ‘সাহিত্যের অন্তর্জগৎ’। বিভাষ থেকে এসেছে ‘ভালো থাকার শুলুক সন্ধান’। লিখেছেন আহমদ রফিক।

মেলা মঞ্চের আয়োজন ॥ মঙ্গলবার গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ষাট বছরে বাংলা একাডেমি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ভারতের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, ভূঁইয়া ইকবাল, ড. করুণাময় গোস্বামী ও ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। মূল প্রবন্ধে শাহিদা খাতুন বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বাংলা একাডেমি বাঙালীর জাতিতাত্ত্বিক অভিযাত্রার সাক্ষী এবং অন্যতম অনুঘটকও বটে। বাঙালী জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের এই অনন্য প্রতীক প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ৬০ বছরে বাংলা একাডেমির অর্জন অনেক। বাংলা একাডেমি আইন ২০১৩, অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও নির্মাণগত সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য কার্যক্রম বাংলা একাডেমিকে নতুন শক্তি ও নান্দনিকতা দান করছে। তিনি বলেন, জ্ঞানচর্চার পরিধিকে আরও সম্প্রসারিত হলে বাংলা একাডেমি নতুনতর প্রাণলাভ করবে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে পরিবেশিত হয় সামিনা লুৎফা নিত্রা রচিত এবং মোহাম্মদ আলী হায়দার নির্দেশিত বটতলা-এর নাটক ‘খনা’।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: