আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মার্কিন কৃচ্ছ্রনীতি শিথিল হচ্ছে

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • কংগ্রেসে ওবামার চার লাখ কোটি ডলারের বাজেট প্রস্তাব, বড় বড় কোম্পানি ও বিত্তবানদের
  • ওপর কর বাড়ছে

বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের ওপর উল্লেখযোগ্য হারে করবৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোমবার আগামী অর্থবছরের জন্য চার ট্রিলিয়ন ডলার বা ৪ লাখ কোটি ডলারের বাজেট প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন। এটি এখন কংগ্রেসের বিবেচনার জন্য পাঠান হয়েছে। খবর বিবিসি/ নিউইয়র্ক টাইমসের

সর্বশেষের আগের বাজেটে ওবামা গভীর মন্দা থেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বিজয় ঘোষণা করে বলেন, জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করতে কৃচ্ছ্র নীতির কঠোরতা শিথিল করার সময় এসেছে। তিনি ২০১৬’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সুসংবদ্ধ করার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষা, নির্মাণ অবকাঠামো ও জনশক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবান শ্রেণীর ওপর উচ্চহারে করবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন, যা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিষয় ছিল বলে তিনি মনে করেন। খবর বিবিসি, এএফপি, ডন ও গার্ডিয়ানের

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরে এই ভাষণ দেন। এই দফতর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ তহবিল সঙ্কটের মুখোমুখি হবে। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ওবামার ব্যয় বরাদ্দের পরিকল্পনাকে কংগ্রেসের প্রত্যাশিত আলোচনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রিপাবলিকান বাজেট কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের নিজস্ব প্রস্তাব তুলে ধরবেন। বিরোধী দল সরকারের ব্যয়ের বৃহত্তম ক্ষেত্র সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কর্মসূচীতে পরিবর্তন না এনে কর আরোপ ও ব্যয় বরাদ্দের নীতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য ওবামাকে দোষারোপ করেছেন।

ওবামা সামরিক খাত ও বেশিরভাগ ওভ্যন্তরীণ সংস্থায় ব্যয় সঙ্কোচনের অবসানের আহ্বান জানান যা ২০১১তে প্রথম বলবৎ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেট বিদেশে ২ লাখ কোটি ডলারেরও বেশি মুনাফা করে এমন মার্কিন বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠীর ওপর কর ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ্যাপেল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রধান কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর কর ধার্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে ১০০০ কোটি ডলারের কর বিল দিতে হবে। ওবামা তাঁর প্রস্তাবিত বাজেটে জঙ্গী ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৮৮০ কোটি ডলার বরাদ্দের অনুরোধ জানান। এর মধ্যে ৫৩০ কোটি ডলার পেন্টাগনের এই জঙ্গী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ-এ ব্যয় করা হবে। গত আগস্টে ইরাক ও সিরিয়ায় ধারাবাহিক বিমান হামলার মাধ্যমে ওই অভিযান শুরু করা হয়।

বাজেটে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় অব্যাহত সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হয়। পররাষ্ট্র দফতর বাজেট ঘোষণার পাশাপাশি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘পাকিস্তানের জন্য বাজেটে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির বিকাশে আমাদের অঙ্গীকার প্রকাশিত হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ ও বিদ্রোহ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে ইসলামাবাদ ও কাবুলকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে, আগামী অর্থবছরের এই বাজেটে ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে আমাদের অঙ্গীকার সুদৃঢ হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ৪ লাখ কোটি ডলারের এই বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৫৬১০০ কোটি ডলার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। বাজেটে পররাষ্ট্র দফতর ও মার্কিন সংস্থা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন তহবিলের জন্য ৫০৩০ কোটি ডলারের ডিসক্রেশনারি তহবিল থাকবে। এই দুটি উৎস থেকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকা- এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উন্নয়নে সহায়তা করতে অর্থ সংস্থান করা হবে।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: