রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গ্যাস লাইন সম্প্রসারণে সহায়তা দিচ্ছে জাপান

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • ধনুয়া-এলেঙ্গা প্রকল্প আজ একনেকে উঠছে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ গ্যাস লাইন সম্প্রসারণে সহাযোগিতা দিচ্ছে জাপান। দেশটি তাদের জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে এ সহায়তা দিচ্ছে। এ অর্থে ধনুয়া হতে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইন স্থাপন হচ্ছে। ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। সেই সঙ্গে বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন বিদ্যুত কেন্দ্র, সার-কারখানা ও অন্যান্য কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সক্রান্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা দিচ্ছে ৫০৭ কোটি ১ লাখ টাকা। আর সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৪৬৪ কোটি ৭২ লাখ এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। অনুমোদন পেলে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীনভাবে অনুমোদনহীন প্রকল্পের তালিকায় এ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাইকার সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়-নলকা-হাটিকুমরুল-ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা (৩০ ইঞ্চি ব্যাস সম্পন্ন ১০১ কিলোমিটার) পর্যন্ত উচ্চচাপ গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপন সংক্রান্ত একটি মূল প্রকল্প ছিল। কিন্তু বৈদেশিক সহায়তার অভাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত হতে নলকা পর্যন্ত উচ্চচাপ গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন অংশটির কাজ সমাপ্ত করা যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা, টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর ও কালীহাতি এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সায়দাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৬৪ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপন, ৬টি নদীর তলদেশে এইচডিডি পদ্ধতিতে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের দুই কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, তিনটি মিটারিং স্টেশন স্থাপন, সিপি সিস্টেম স্থাপন, স্কাডা সিস্টেম স্থাপন এবং ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ও অন্যান্য পূর্ত কাজ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বছরভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ চাহিদা দেয়া হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ১২ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৩৪ কোটি ১২ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৭২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৫৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা।

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: