কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করেছে ২৯ ব্যাংক

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান ফের বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) আবারও কিছুটা বেড়েছে। ব্যাংকগুলো অব্যাহতভাবে আমানতের সুদহার কমালেও সে অনুপাতে ঋণে সুদহার কমায়নি। ফলে নবেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে স্প্রেড আবারও কিছুটা বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংক খাতে মোট স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২১ ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট; যা এর আগের মাস নবেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। দেশে কার্যরত ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টি ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করেছে।

সূত্র মতে, শিল্পের মেয়াদী ঋণ এবং চলতি মূলধনের জন্য কোন কোন ব্যাংক ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। এতে উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পণ্য আমদানিতেও খরচ বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়বেন। ফলে শিল্প কারখানা বন্ধের পাশাপাশি নতুন কোন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে না। অন্যদিকে ব্যাংকারদের মতে, বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ কম থাকায় ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থ পড়ে থাকলেও আমানতকারীদের নিয়মিতভাবে সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের পরিচালনা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিসেম্বর শেষে ঋণের তুলনায় আমানতে অনেক বেশি সুদহার কমানো হয়েছে। এসময়ে আমানতের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা এর আগের মাস নবেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ঋণের গড় সুদহার হয়েছে ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ; যা আগের মাসে ছিল ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এতে ব্যাংকিং খাতে গড় স্প্রেড (ঋণ-আমানতের ব্যবধান) দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংকের স্প্রেড আবারও কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০৬ দশমিক ০১ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া, বেসরকারী ও বিদেশী মালিকানার আরও ২৯টি ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টর উপরে রয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণে গড় সুদ হার কমে ১২ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। আর আমানতের গড় সুদহার কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল ১৩ দশমিক ০৫ ও ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেডের ব্যবধান ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে বেশি। এ ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর পরে ডাচ-বাংলার ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও ওয়ান ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া বেসরকারী খাতের এবি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংকে ৬ দশমিক ৬১, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬ দশমিক ১১, পূবালীর ৫ দশমিক ৪১, উত্তরা ব্যাংকের ৬ দশমিক ০৯, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৫ দশমিক ১৭, এনসিসি ব্যাংকের ৫ দমশিক ২২, প্রাইম ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭৭, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৫ দশমিক ৫০, ঢাকা ব্যাংকের ৫ দশমিক ১১, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকে ৫ দশমিক ১২, এক্সিম ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭২, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ৫ দশমিক ৩৫, প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৬ দশমিক ৮৪, ব্যাংক এশিয়ায় ৫ দশমিক ৬১, ট্রাস্ট ব্যাংকে ৫ দশমিক ৪৪, যমুনা ব্যাংকে ৫ দশমিক ৭২, মেঘনা ব্যাংকে ৫ দশমিক ৪১, ইউনিয়ন ব্যাংকে ৫ দশমিক ১২ এবং মধুমতি ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের ব্যবধান ৫ দশমিক ২৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এদিকে, বরাবরের মতোই বিদেশী মালিকানার ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানতের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্টে। এ ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার কমে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ঋণের সুদহার ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এনএ’র ৭ দশমিক ৯৭, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ৬ দশমিক ৯৩, ওরি ব্যাংকের ৭ দশমিক ৩৩, এইচএসবিসি ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপর রয়েছে। এদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার ব্যাংকের ঋণে গড় সুদ হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশে।

আমানতে সুদ হার আরও একটু কমে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়েছে। এতে তাদের স্প্রেডের ব্যবধান ৪ দশমিক ১৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো গড়ে ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। আমানতে সুদ দিয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: