কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দেশকে তালেবানী রাষ্ট্র বানাতে রাজনীতিকে সহিংস করা হচ্ছে

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • গোলটেবিল বেঠকে শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরামর্শ বিশিষ্টজনদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজনীতি কখনই সহিংস হয় না। অপরাজনীতির মাধ্যমে একে সহিংস করে তোলা হয়। দেশকে তালেবানী রাষ্ট্র বানানোর প্রয়াসেই এগুলো করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে। দুর্বৃত্তরা সংখ্যায় খুবই কম। জনগণকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে কতিপয় দুর্বৃত্তকে দমন করা সম্ভব। রবিবার রাজধানীর হোটেল লেকশোরে সহিংস রাজনীতি অবরুদ্ধ দেশ : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজনরা এমন অভিমন ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার অবসানে শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, ‘ওনাদের মধ্যে বিশ্বাস নেই, সম্মান নেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওনাদের বসতেই হবে, সংলাপ করতেই হবে।’ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে রিজিওনাল টেররিস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (রাত্রি)। রাত্রির নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব) মোহাম্মদ সিকদারের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক জিনাত হুদা।

দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার বলেন, রাজনীতি যদি হয় শিক্ষা ধ্বংস করা, তাহলে সেই রাজনীতির দরকার নেই। একে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। আপনার (খালেদা জিয়া) কাছে অনেক সুযোগ ছিল। কিন্তু আপনি সংলাপকে না করেছেন, নির্বাচনকে না করেছেন। সর্বশেষ দরজা বন্ধ করেছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, রাজনীতিকে কখনই সহিংস বলব না। অপরাজনীতির মাধ্যমে একে সহিংস করা হচ্ছে। দেশকে তালেবানী রাষ্ট্র বানানোর প্রয়াসেই এগুলো করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে। কারণ দুর্বৃত্তরা সংখ্যায় খুবই কম। জনগণকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে কতিপয় দুর্বৃত্তকে দমন করা সম্ভব।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, বিএনপি নেতা মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কিসের পরীক্ষা, কিসের কীÑ তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাক্সিক্ষত।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, একজন অবরোধ ডাকতে পারেন। এটি তার অধিকার। তেমনি আমার পণ্য আমি বাজারে নিয়ে যাব, পণ্যের ট্রাক চট্টগ্রামে নিয়ে যাব। এটিও আমার অধিকার। সংগঠনটির আরেক সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এখন রাজনৈতিক অস্থিরতায় সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেন, যখন হেফাজতের ঘটনা ঘটল, তখন শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন যেন বিষয়টির সমাধান হয়। খালেদা জিয়া ওই সময় শেখ হাসিনাকে আমল দেননি। দু’দলের মধ্যে অবিশ্বাসের যে জায়গা রয়েছে, তা থেকে বের হয়ে আসতে উদ্যোগী হতে হবে। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে কিভাবে কনফিডেন্স বিল্ডিং করা যায় তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল আজিম বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।

সংসদ সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয় বলেন, যখনই দেশের ব্যবসা এগিয়ে যায় তখনই এ ধরনের কাজ শুরু হয়। বিএনপি নেত্রী দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রাজনীতি করছেন। সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন তিনি।

এ্যাডভোকেট স ম রেজাউল করিম বলেন, অপরাধগুলোকে আড়াল করার কারণেই দেশের এ অবস্থা। ক্ষমতায় থাকলে গ্রেনেড মারব, বাইরে থাকলে পেট্রোল মারবÑ এটা চলতে দেয়া যায় না। আইনের কঠোর প্রয়োগ হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, পেট্রোলবোমাকে কোন ছাড় নয়, সন্ত্রাসকে কোন ছাড় নয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ এ ধরনের খারাপ অবস্থার মধ্যে কখনও পড়েনি। যারা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- করছে তাদের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।

সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের বলেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, কারণ দু’পক্ষেই জনসমর্থন রয়েছে। যেসব সন্ত্রাস চলছে সেসবের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। এদের নির্মূল করতে হলে ওই সব জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে হবে। তবে এটি সমাধান নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, আমরা সংলাপ চাই। তবে তার আগে পেট্রোলবোমার সন্ত্রাস বন্ধ চাই।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, পেট্রোলবোমায় পোড়া একজন ট্রাকচালক রাজনীতিবিদদের চেনেন না। বিএনপি যদি পেট্রোলবোমার রাজনীতি না করে, তাহলে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিক।

বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব) আখতারুজ্জামান বলেন, আন্দোলনকারীরা শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। বিএনপি এক মাসের সফল আন্দোলন করে পুরো জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, জনগণের সঙ্গে সংলাপ হতে হবে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের সঙ্গে কোন সংলাপ হতে পারে না।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, উদীয়মান জাতির অর্জনকে ধূলিসাত করতে কারা এগুলো করছে? তারা সমাজকে দুর্বল অবস্থানে নিয়ে যেতে চাইছে।

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: