হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফিরে দেখা ভাষা আন্দোলন

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • এমআর মাহবুব

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ব্যারাক

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে মেডিক্যাল ব্যারাকের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার গুলিবর্ষণ করলে এখানেই শহীদ হন ভাষা শহীদরা। ছাত্রহত্যার পর আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয় এই মেডিক্যাল ব্যারাক। আন্দোলন পরিচালনার জন্য এখানে স্থাপন করা হয় এই মেডিক্যাল ব্যারাক। আন্দোলন পরিচালনার জন্য এখানে স্থাপন করা হয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। মেডিক্যাল ব্যারাক সমকালীন সকল রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের একমাত্র ঘাঁটি ছিল। এছাড়া তৎকালীন রাজনীতি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মেডিক্যাল ব্যারাকের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম ব্যাচ (১৯৪৬) এবং দ্বিতীয় ব্যাচের (১৯৪৭) ছাত্রদের জন্য কলেজের নিজস্ব কোন ছাত্রাবাস ছিল না। ছাত্রদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে পলাশী ব্যারাকে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে হতো । ছাত্রীরা থাকত নার্সিং হোস্টেলে। এমতাবস্থায়, ছাত্রদের দাবির মুখে কলেজ ও স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত ছাত্রাবাস অর্থাৎ মেডিক্যাল ব্যারাক তৈরির কাজ শুরু করে। ছাত্রদের আবাসিক সমস্যা নিরসনে ১৯৪৮ সালে তৈরি হয় বাঁশের ছাউনির অস্থায়ী ছাত্রাবাস যা পরিচিত ঐতিহাসিক ‘মেডিক্যাল ব্যারাক’ হিসেবে। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রথমে ১১টি, পরে আরও দুই দফায় ৬টি ও ৩টি মোট ২০টি ব্যারাক তৈরি হয়েছিল। মেডিক্যাল ব্যারাকের নির্মাণ, নামকরণ ও বৈশিষ্ট্য সব কিছুতেই ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ও বিচিত্র সব ঘটনা।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, সমসাময়িক রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের তীর্থকেন্দ্র ঐতিহাসিক মেডিক্যাল ব্যারাকের পূর্ণাঙ্গ কোন ছবি তুলে রাখা হয়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যারাকের কিছু অংশের ছবি তুলে রাখেন কয়েকজন মেডিক্যাল ছাত্র। এর মধ্যে অন্যতম হলেন ১৩ নং ব্যারাকের ৬ নং ছাত্র এমদাদুল হক এবং ৯ নং ব্যারাকের ২নং ছাত্র এম.আই চৌধুরী (ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ)।

ব্যারাকের থাকা-খাওয়া জীবনযাপন প্রণালীসহ সকল কর্মকা-েই ছিল এক বৈশিষ্ট্যময় পরিবেশ। ব্যারাকের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল উন্মুক্ত। রাজনীতিতে মতভেদ ছিল কিন্তু কোন বিরোধ ছিল না। দলমত নির্বিশেষে ছাত্ররা ও জাতীয় নেতারা এখানে মিলেমিশে থাকতেন। আড্ডা, গানে জনজমাট হয়ে থাকত পরিবেশ। ফলে সঙ্গত কারণেই মেডিক্যাল ব্যারাক তৎকালীন রাজনীতির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

ভাষা আন্দোনের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানটি এখন পর্যন্ত সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

লেখক : গবেষক

ঊ-সধরষ: সৎসধযনঁন@ুধযড়ড়.পড়স

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: