মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগে শীঘ্রই নিয়োগ করা হচ্ছে বিচারপতি

প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

বিকাশ দত্ত ॥ মামলাজট নিরসন ও কয়েকজন বিচারপতি অবসরে যাওয়ার কারণে সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগের শূন্যপদে ও হাইকোর্ট বিভাগে শীঘ্রই বিচারপতি নিয়োগ করা হচ্ছে। আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, এটা প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার। আমি আশা করছি, হয়তো শীঘ্রই প্রধান বিচারপতি এটা করবেন। অন্যদিকে আইনজীবীগণ বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগ করতে হলে দক্ষ ও যোগ্যদেরই নিয়োগ করতে হবে। তা না হলে মামলাজট নিরসনের চেয়ে আরও বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

বর্তমানে আপীল বিভাগে ১১টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে। মামলার জট দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আপীল বিভাগের শূন্য চারটি পদ ও হাইকোর্ট বিভাগে আরও বেশ কয়েকজন বিচারপতি নিয়োগের জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলছে। আপীল বিভাগে নিয়মিত মামলার পাশাপািশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা এসেছে, যেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও বিচারপতি নিয়োগের প্রয়োজন। এ প্রসেঙ্গ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি প্রধান বিচারপতির ব্যাপার। শীঘ্র করলে করবেন। তবে আমি আশা করছি, শীঘ্রই বিচারপতি নিয়োগ হতে পারে। এটা প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার। উনি প্রস্তাব পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ করেই বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। আমি সেতুবন্ধন মাত্র।

আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমানে সারাদেশে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮ লাখ ৬১ হাজার তিনটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরমধ্যে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে ১৪ হাজার ৮শ’ ৩৭টি, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে তিন লাখ ৫০ হাজার ২শ’ ২২টি এবং সকল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নয় লাখ ৮৭ হাজার ৪শ’ ৩৭টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আপীল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ মোট সাতজন বিচারপতি রয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছাড়াও আপীল বিভাগে বিচারপতিদের মধ্যে আছেনÑ বিচারপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমাম আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক ও বিচারপতি এএইচ সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি অবসরে গেছেন। আপীল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল অবসরে গেছেন। বর্তমানে আপীল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্যে বিচারপতি এএইচ সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক চলতি বছরের ২ অক্টোবর অবসরে যাবেন। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগে ৮৮ জন বিচারপতি রয়েছেন। এরমধ্যে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী চলতি বছরে ১৩ ডিসেম্বর ও বিচারপতি শহীদুল ইসলাম ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন। এর আগে বিচারপতি এএফএম আলী আসগর চলতি বছরের ১ জানুযারি, ২০১৪ সালের ১ জানুযারি এটিএম ফজলে কবির, বিচারপতি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর অবসরে গেছেন। ২০১৬ সালে আরও কয়েকজন বিচারপতি অবসরে যাবেন। হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে দুইজন অতিরিক্ত বিচারপতি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসেবে রয়েছেন।

বর্তমানে হাইকোট থেকে ছয়জন বিচারপতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রয়েছেন, যাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিচার করছেন। এরমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এ ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫টি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। এরমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে ১২টি মামলার আপীল করা হয়েছে।

সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিম জনকণ্ঠকে বলেছেন, মামলার জট দূর করতে হলে অবশ্যই বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে। বিচারপতি নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদার বিষয়টিও ভাবতে হবে। বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন জনকণ্ঠকে বলেছেন, দক্ষ, যোগ্যদেরই বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে। দলীয়ভিত্তিতে অযোগ্যদের নিয়োগ দিলে তাতে কোন লাভ হবে না। মামলাজট নিরসন দূরের কথা, বরং বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে নতুন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) শপথ নেয়ার পর পরই সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে দুটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন। হাইকোর্টের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সময়সূচী ও বেশকিছু বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন। ২৮ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক। প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মামলাজট নিরসনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিচার বিভাগের যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের বিষয় নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের লোকবল বৃদ্ধি, আপীল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং নিম্ন আদালতের মামলাজট দ্রুত নিষ্পত্তিতে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে প্রধান বিচারপতি তা আমাকে জানিয়েছেন। রোজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আপীল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন ১১ জন। বর্তমানে আপীল বিভাগে বিচারপতি রয়েছেন সাতজন। এই বিভাগে মামলাজট রয়েছে ১৪ হাজারেরও বেশি।

প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: