মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মিরপুরে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১৩ দগ্ধ ৩ জন

প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
মিরপুরে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১৩ দগ্ধ ৩ জন
  • নিচতলার প্লাস্টিক কারখানা থেকে সূত্রপাত ॥ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
  • নিচতলার প্লাস্টিক কারখানা থেকে সূত্রপাত ॥ দুটি তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে চিড়িয়াখানা রোডে নাসিম প্লাজা নামে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন। নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তরফ থেকে দুইটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ভবনসহ গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটিতে এ্যাপকো লিমিটেড নামের একটি প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কারখানা রয়েছে। কারখানায় দুই শিফটে কাজ হয়। বিকেলের শিফটে ৩১ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা কর্মচারীসহ অন্তত ৫০ জন কর্মরত ছিলেন। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ভবন থেকে চিৎকার আর কান্নাকাটির আওয়াজ ভেসে আসতে থাকে। মুহূর্তেই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লেগে যায়। দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। আর ভবনের অন্যান্য ফ্লোরে প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির করার সামগ্রী ছিল। প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির মালামাল থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পুরো ভবনে আগুন ধরে যায়। ভবন থেকে তাড়াহুড়া করে নামার সময় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন।

এমন ঘটনায় মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় আশপাশের এলাকার রাস্তাঘাট। ভবনটির আশপাশের ভবনগুলোতে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা যে যার যার মতো দৌড়ে নিরাপদে নিচে নামতে থাকেন। শত শত মানুষ আগুন নিভানোর জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন। রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা কর্ডন করে ফেলে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, আনসার আর বিজিবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবনের আশপাশে সনি সিনেমা হল, গোলচত্বর এলাকা, মিরপুর-১ নম্বর, চিড়িয়াখানা রোডসহ আশপাশের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শত শত মানুষ ভিড় করেছে অগ্নিকা-ের ঘটনা দেখতে। উৎসুক জনতাকে সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে। এছাড়া অগ্নিকা-ের স্থল নাসিম প্লাজার আশপাশের সমস্ত ভবন থেকে লোকজনদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা এ্যাম্বুলেন্সে করে ভবনটি থেকে পুড়ে কঙ্গাল হয়ে পড়া দুই নারী, এক পুরুষের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আর চারজনের লাশ শেরেবাংলানগর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে প্রাথমিকভাবে ৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে আরও লাশ আছে কিনা তার অনুসন্ধান চলছে। এদিকে আহত অবস্থায় ভবনটির নিচতলায় দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী কামাল হোসেন (৩৮), নিরাপত্তা প্রহরীদের তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম (৫০) ও রবিউল (২৪) নামে এক শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অগ্নিকা-ের ঘটনায় তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকা-ের ঘটনাটি ঘটেছে বলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কমিটিতে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। অগ্নিকা-ের ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতা কি-না তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি অফিসার ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ভবনটিতে বেশ কিছু মার্কেট ও পোশাক কারখানা রয়েছে। নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: