মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যাত্রামঞ্চের রাজা-রানীরা এখন অসহায়

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী ২০১৫
  • গোলাম ছারোয়ার ছানু মানিকগঞ্জ থেকে

যাত্রা মানিকগঞ্জের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য হলেও বর্তমানে চরম প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে দুঃসময় পার করছে। দর্শক মোহিত করা মঞ্চের রাজা-রানী, উজির-নাজির, জমিদার চরিত্রের যাত্রাশিল্পীরা ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত আর্থিক কষ্টে, অবহেলায় দিনাতিপাত করছেন। এ দুঃসময়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত যাত্রানায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ সেলিমসহ মানিকগঞ্জ জেলায় যাত্রাশিল্পের সঙ্গে জড়িত অসংখ্য শিল্পী ও কলাকুশলী এক এক করে ছেড়ে দিচ্ছেন যাত্রার আঙিনা।

শুরুর দিকে মানিকগঞ্জ এলাকায় যাত্রাদলে পুরুষরাই নারী সেজে অভিনয় ও নৃত্য করত। তারা মাথায় লম্বা চুল রাখত, মেয়েদের মতো নাক-কান ফুটো করে অলঙ্কার পরে নারী সেজে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। এদের মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর থানার হাসলী গ্রামের খ্যাতিমান লোকশিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতীর নাম উল্লেখযোগ্য। সাইদুর রহমান বয়াতীর সঙ্গীত জীবন শুরু হয় বাইতরা গ্রামের বাসুদেব অপেরায় নর্তকি নাচের মধ্যদিয়ে। সে সময় তাঁর নাম ছিল ছবি রানী। তাঁর মাথায় আজও লম্বা চুল ও কান ফুটো রয়েছে। সে সময়ের ছবি রানীই আজকের লোক সঙ্গীতের ভুবনে উজ্জ্বল নক্ষত্র সাইদুর রহমান বয়াতী।

মানিকগঞ্জে যাত্রাজগতে প্রথম নারী শিল্পী হলেন চট্টগ্রামের মঞ্জুশ্রী চৌধুরী। তিনি মাঝে মাঝে এসে বিশেষ কোন দলের হয়ে নারী চরিত্রে অভিনয় এবং নৃত্য করতেন। তাঁর সাহসিকতায় অনুপ্রাণীত হয়ে আস্তে আস্তে দু-একজন করে নারী শিল্পী যাত্রাদলে আসতে থাকেন। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে যাত্রাজগতে পুরাপুরিভাবে মহিলাদের আগমন ঘটে বলে জানা যায়। নারী যাত্রাশিল্পীদের মধ্যে ঘিওর উপজেলার জাবরা গ্রামের জোৎনা বিশ্বাসের নাম উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশে যাত্রাজগতের কিংবদন্তি শিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাসের স্ত্রী। পরবর্তীকালে তাঁদের কন্যা অরুণা বিশ্বাসের নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অরুণা বিশ্বাস বর্তমানে চলচ্চিত্রাঙ্গনে উজ্জ্বল তারকা। পুরুষদের মধ্যে পুটাইল ইউনিয়নের বাইতরা গ্রামের রাখালচন্দ্র ম-ল, গরপাড়া গ্রামের এমএ সেলিম, জাবরা গ্রামের বলাই, নায়ক স্বপন কুমার দেবনাথ, মৃণাল কান্তি দে, মুসাঘোষ, বালিরটেক গ্রামের রবি পাল, শানবান্দার নিখিল চন্দ্র ম-লÑ এদের দৃষ্টিনন্দন অভিনয় গ্রামবাংলার মানুষ আজও স্মরণ করে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলায় নিবন্ধিত যাত্রাদলের সংখ্যা ১২টি। নিবন্ধন ছাড়াও ছোট ছোট প্রায় ৮-১০টি দল রয়েছে। এই যাত্রাদলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ গণেশ অপেরা, সত্য নারায়ণ অপেরা, প্রভাতী অপেরা, বলাকা অপেরা, নবপ্রভাত অপেরা, চারনিক নাট্যগোষ্ঠী, রাজলক্ষ্মী অপেরা, সতী সাবেত্রী অপেরা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত যাত্রা নায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া গ্রামের সুলতান সেলিম বলেন, ২০১০ সালে তিনি ডায়াবেটিসের কারণে একটি পা হারিয়েছেন। কৃত্রিমভাবে লাগানো পা-ও এখন অকেজো হয়ে গেছে। প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া ৫ হাজার টাকা সরকারী ভাতাই এখন তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে যাত্রামঞ্চের নায়ক সেলিম আরও বলেন, অবহেলার নিদারুণ যন্ত্রণা আর প্রচ- অর্থকষ্ট নিয়ে দিন কাটছে তাঁর। এমন দুঃসময়ে সহায়তা করার কেউ নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নানা নিষেধাজ্ঞা, বাধার কারণে যাত্রাশিল্পে ধস নামে। বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকার যাত্রাশিল্পের বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করলেও গুণী শিল্পীরা এর সুফল পাচ্ছেন না।

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী ২০১৫

৩১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: