মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৭শ’ শিক্ষার্থী বই পায়নি

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী ২০১৫
  • পাবনায় প্রাইমারী স্কুলে লেখাপড়া অনিশ্চিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ৩০ জানুয়ারি ॥ নাকালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের হাটাইল আড়ালিয়া গ্রামে অবস্থিত চরপাইখন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৯১ শিক্ষার্থী নতুন বছরের সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে সরবরাহকৃত বই পায়নি। উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্কুলটিতে বই সরবরাহ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বেড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদেরের নির্দেশে বই সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে চরপাইখন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় সাতশ’ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সূত্র মতে আরও জানা গেছে, বিগত ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বেড়া উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের হাটাইল আড়ালিয়া, চরপাইখন্দ, চরসাফুল্লা এবং রিহাই গ্রামের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে ওই স্কুলে। বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি কার্ডধারীর সংখ্যা ২৭১। ২০০৩ সালে যমুনা নদীর তীরবর্তী বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠাকালীন দাতা সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সম্মিলিত উদ্যোগে হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের হাটাইল আড়ালিয়া গ্রামে ‘চরপাইখন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানান্দর করেন। এরপর বিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচনে অসম্মতি প্রকাশ করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাবশালী আবুল কালাম আজাদ। তিনি দুইবার জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের ঘর ও আসবাবপত্র ভেঙে নিয়ে যান। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন থেকে পার্শ্ববর্তী চরভাড়েঙ্গা ইউনিয়নের চরসাফুল্লা গ্রামে ঘর উত্তোলন করে সেটিকেই চরপাইখন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বলে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন। এ বিদ্যালয়ের প্রকৃত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৮০-৮৫ জন। চরপাইখন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মফিদুল ইসলামকে চরসাফুল্লা গ্রামে নির্মিত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয়। ক্ষমতার দাপটে এ প্রতিষ্ঠানটিতে ভুয়া রেজিস্টার খুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেশি দেখানো হয়েছে। সম্পূর্ণ বে-আইনী ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ষড়যন্ত্র করে হাটাইল-আড়ালিয়া গ্রামে অবস্থিত চরপাইখন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নতুন বছরের বই সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়াও ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পৃথক দুটি মামলা পাবনার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বই সরবরাহ করা না হলে সাতশ’ কোমলমতি ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। চরপাইখন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বছরের বই সরবরাহ করার জন্য পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এবং পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র পাঠিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী ২০১৫

৩১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: