মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মালয়েশিয়াগামী ডুবন্ত ট্রলার থেকে ৮ লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী ২০১৫
  • ১১ দালালের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা

চট্টগ্রাম অফিস/কক্সবাজার, কুতুবদিয়া সংবাদদাতা ॥ কুতুবদিয়ার অদূরে মহেশখালীর মাতারবাড়ির ধলঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ডুবে যাওয়া ফিশিং বোটটির অভ্যন্তর থেকে শুক্রবার আট মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এ দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার জীবিত ৪২ জনের পর ৮ লাশ উদ্ধার হলো। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ দুটি সংস্থার কর্মকর্তাদের ধারণা হয়ত বা আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারে। তবে বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত নয়। উদ্ধার লাশগুলো কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট সদস্যদের কাছে স্থানান্তরের পর তা কুতুবদিয়া পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টের পর এসব লাশের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করা হবে। অপরদিকে, এ ঘটনায় উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৬ দালালসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ জনসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে কুতুবদিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে থানার এসআই কামাল হোসেন। তদন্তভার দেয়া হয়েছে অপর এসআই এবিএম কামাল উদ্দিনকে।

শুক্রবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট থেকে অজ্ঞাতনামা একটি বড় আকৃতির ফিশিং বোটে করে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে প্রায় দুশ’ জনের একটি দলকে নিয়ে যাওয়া হয়। কুতুবদিয়ার অদূরে এদের মধ্যে প্রায় ৭০ জনকে এফবি ইদ্রিস নামের একটি ফিশিং বোটে তুলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয় বোটটি। কুতুবদিয়ার অদূরে এবং মহেশখালী ধলঘাটের প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সাগর এলাকায় এটি নিমজ্জিত হয় বৃহস্পতিবার ভোরে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ফিশিং বোট ও অন্যান্য নৌযান তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ। যৌথ উদ্ধার অভিযানে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার হয় মোট ৪৩ জন। এদের মধ্যে ১১ জনকে মহেশখালী মাতারবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও অপর ৩২ জনকে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়। কুতুবদিয়ায় স্থানান্তর ৩২ জনের মধ্যে রয়েছে ৬ দালাল।

এদিকে, শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে কোস্টগার্ডের জাহাজ সিজিএস তানভীর, সিজিএস তৌহিদ, দুটি হাইস্পীড বোট মেটাল সার্ক এবং নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস অপরাজেয় ও বিএনএস শাহজালাল সাগরে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এ প্রক্রিয়ায় নিমজ্জিত এফবি ইদ্রিস নামের ফিশিং বোটটিকে টেনে ডাঙ্গায় উঠানো হয়। পরে পাটাতনের নিচে রক্ষিত মাছ ধরার জালের অভ্যন্তর থেকে বেরিয়ে আসে একে একে আট লাশ। এদের কোন পরিচয় মেলানো যায়নি। বিকেল নাগাদ উদ্ধারকৃত লাশগুলো নিয়ে আসা হয় কুতুবদিয়ার কোস্টগার্ড স্টেশনে। সেখান থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয় কুতুবদিয়া পুলিশের কাছে।

নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, স্থানীয় বিভিন্ন ধরনের নৌযানের সহায়তায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের নিয়োজিত জাহাজগুলোর সাগরে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত কোথাও কোন লাশ ভাসতে দেখা যায়নি। কোস্টগার্ডের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন শহীদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, নিখোঁজ থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে তাদের ধারণা হচ্ছে। অনুরূপ ধারণা দিয়েছেন কুতুবদিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অং সা থোয়াই।

১১ দালালের বিরুদ্ধে মামলা ॥ অবৈধপথে মালয়েশিয়াগামী ফিশিং বোটযোগে মৃত্যুর ঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় বৃহস্পতিবার রাতে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কুতুবদিয়া থানার এসআই কামাল হোসেন বাদী হয়ে এ মামলাটি রুজু করেন। মামলায় উদ্ধারকৃতদের মধ্যে যে ৬ দালাল রয়েছে তারাসহ আরও ৫ দালালকে আসামি করা হয়েছে। যে ৬ দালাল কুতুবদিয়া পুলিশ হেফাজতে রয়েছে তারা হচ্ছে কক্সবাজারের পোকখালির তৈয়ব, রাসেল, ইয়াসিন হোসেন, ইসমাইল হোসেন ও কক্সবাজার সদর এলাকার ওবায়দুল হক ও নুর মোহাম্মদ। বাকি ৫ দালালকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ৬ দালালসহ কুতুবদিয়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা ৪২ জনকে কুতুবদিয়া উপজেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ফিশিং বোটটি ডুবে যাওয়ার নেপথ্যে ॥ কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর অদূরে বঙ্গোপসাগরে ৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে এফবি ইদ্রিস নামের ফিশিং বোটটি ডুবে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে দালালদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিত-ার একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি মারামারির একপর্যায়ে বোটটি কাত হয়ে ডুবে যায়।

উদ্ধারকৃত যাত্রীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বক্তব্যের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, বোটে থাকা দালালরা যাত্রীদের মালয়েশিয়া পৌঁছে দেয়ার পর টাকা নেয়ার আশ্বাসে তাদের বোটে তোলা হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যে কুতুবদিয়ার অদূরে পৌঁছার পর দালালরা সম্মিলিতভাবে ওয়াদা লঙ্ঘন করে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিলে বাকবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে দালালদের সঙ্গে কিছু যাত্রীর হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে তা মারামারিতেও রূপ নেয়। এ অবস্থায় ফিশিং বোটটি একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে কাত হয়ে ডুবে যায়। উদ্ধারকৃতদের কেউ কেউ জানিয়েছে, বুধবার রাতে চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট থেকে রওনা হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ নম্বর জেটি থেকে ২০ আর বাঁশখালীর ছনুয়া, চকরিয়ার মগনামা ও করিয়ারদিয়া থেকে আরও কিছু যাত্রী নিয়ে এফবি ইদ্রিস রওনা দেয় মালয়েশিয়ার উদ্দেশে। ফিশিং বোটটির মালিক সাগর পথে মানব পাচারের চিহ্নিত গডফাদার উখিয়ার সোনাইছড়ির ইসলাম মিয়ার ছেলে শামসুল আলম বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সূত্রে শুক্রবার সন্ধ্যায় জানানো হয়েছে, সাগরে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গভীর সমুদ্রেও লাশের সন্ধানে টহল চলছে।

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী ২০১৫

৩১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: