মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কি বিপদেই না তুমি আমায় ফেলেছ

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫
  • জুলফিয়া ইস্রায়লোভা

মাসগুলো পেরিয়েছে দুঃখ সাথে নিয়ে

হৃদয় এখনও নীল

তোমার সাথে বিচ্ছেদে আমি এখনও ভারাক্রান্ত

কি বিপদেই না তুমি আমায় ফেলেছ?

ব্যথায় আমি চোখ খুলতে পারছি না।

বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় আমার মাথায় জ্বলছে আগুন।

বই ও কলম আমার হৃদয়কে শান্ত করতে পারেনি,

আমার কবিতাগুলো আর্তনাদ করে কাঁদছে।

এমন পবিত্র ও নিখাদ ভালবাসা কি সম্ভব?

যার মধ্যে রয়েছে এত কষ্ট?

ইচ্ছা ও জ্ঞান যা রুখতে পারেনি

মন ও বোধ হয় পড়েছে অনুভূতিহীন

আমার হৃদয় যা কিনা পাহাড়ের মতই শক্ত,

তার শুধু কিছু অবশিষ্টাংশ পড়ে আছে।

আমি যতই না চেষ্টা করেছি দুঃখের সাথে যুঝতে,

আমার ভেতরের ব্যথার আগুন ততই প্রকট হয়েছে।

তোমার কাছ থেকে দূরে গিয়ে নয়,

আমি চেষ্টা করছি আমার হৃদয়কে পুড়তে না দিতে;

তোমার সাথে থেকে যেতে।

আমি পুড়ব কিন্তু মরব না।

জীবনী : উজবেকিস্তানের জাতীয় কবি জুলফিয়া ইস্রায়লোভা ১ মার্চ ১৯১৫ খ্রি. তাসখন্দ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। এ বছর উজবেকিস্তান সরকার যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালন করছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন কারিগর (হস্তশিল্প বিশারদ)। মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি টিচার্স টেনিং ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে একজন সম্পাদক হিসেবে তিনি একাধিক প্রকাশনা সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সবশেষে সা’দত নামক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

১৭ জুলাই ১৯৩১ সালে তাঁর প্রথম কবিতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তী বছর তাঁর কবিতা সঙ্কলন হায়াত ভারাকলারী (জীবনের পাতাগুলো) প্রকাশিত হয়। তাঁর অন্যান্য কবিতা সঙ্কলনের মধ্যে অন্যতম উড়াগিসগা ইয়াকিন কিসিলার (মানুষ যারা কিনা আমার হৃদয়ের কাছাকাছি), উড়াক হামিশাহ ইয়োসদা (হৃদয় সর্বক্ষণ রাস্তার ওপরে), কামালাক (রংধনু)। ১৯৩৯ সালে তাঁর গানের বই কিজলার দেশেগী (মহিলাদের গান) প্রকাশিত হয়। ১৯৪১ সালে তিনি উজবেকিস্তানের প্রকাশনা অধিদফতরের সাহিত্য বিভাগের প্রধান নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে ১৯৩৫ সালে তিনি হামিদ ওলিমজানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৪৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর একাধিক দুঃখের কবিতা রচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘উলদুজ’, ‘সেনাকায়দাসান উড়াজিম,’ ‘নেবোলোগা এতদিন মুবতালো’, ‘কেচির কোলদিম গাফলাতদা’, ‘কোরগানমিদিন কোজলারিমদা ইয়শ’, এবং ‘বাহর কেলদি সেনি ছোরকলাব।’

কবি জুলফিয়া ১৯৫০-৫৩ পর্যন্ত উইমেন অব উজবেকিস্তান শীর্ষক জার্নাল বিভাগের প্রধান ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ‘জনগণের কবি’ পুরস্কার লাভ করেন এবং তাঁর কবিতা সঙ্কলন ঝড়হমং ভড়ৎ ুড়ঁ ও প্রবন্ধ সঙ্কলন ঐড়সবং প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার ‘নীলুফার’ লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁর কবিতা ভিসল প্রকাশিত হয়। বুলগেরিয়ান সরকার ১৯৭২ সালে তাঁকে ঙৎফবৎ ড়ভ ১ংঃ ঈষধংং ড়ভ করৎরষষ ধহফ গবভড়ফরধ সম্মানে ভূষিত করেন। ১৯৭৪ এবং ১৯৭৫ সালে তাঁর কবিতা সঙ্কলন অমবং এবং ণবধৎং, প্রকাশিত হয়। সত্তর দশকের মাঝামাঝি তিনি তাঁর কবিতা সঙ্কলনের জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হন এবং তাঁর শেষ কবিতা সঙ্কলন মালোলা প্রকাশিত হয়।

১৯৭৪ সালে তিনি ঐবৎড় ড়ভ খধনড়ঁৎ শীর্ষক উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৬৬ সালে স্বাধীন উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রে ৮১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর কবিতার মধ্যে দেশ প্রেম, প্রকৃতি, শ্রমিক আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষ ও নারীবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়াদি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনকালে তাঁর সব লেখা উজবেক, ইংরেজী এবং কারকাল পাক ভাষায় প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর একটি বিশেষ উড়পঁসবহঃধৎু ভরষস তৈরি করা হচ্ছে। ২০০৪ সালে উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জনাব ইসলাম কারিমভের উদ্যোগে ইতোমধ্যেই একটি রাষ্ট্রীয় প্রিমিয়া কবি জুলফিয়ার নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেখানে প্রতি বছর ২২-২৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান মেয়েদের মাঝে সাহিত্য, শিল্প, শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি বিষয়ে একাধিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়ে থাকে। এ যাবতকাল পর্যন্ত ১১২ জন এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে এই প্রখ্যাত কবির একটি ভাস্কর্য তৈরি করার ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অনুবাদ : মসয়ূদ মান্নান

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: