আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কারাতে নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। কনকনে শীতে গরম চাদরের উষ্ণতা ছেড়ে সাদা পোশাকে মাঠে নামছেন একদল নারী। কিছুক্ষণ পরে সারিবদ্ধ হয়ে নির্দেশনা মাফিক করণীয় কাজ করতে লাগলেন। বলছিলাম কারাতে প্রশিক্ষণার্থী একদল নারীর কথা। দৃঢ় প্রত্যয়ে ধানম-ির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে কারাতে শিখছেন তাঁরা। এসব প্রশিক্ষণার্থীর আত্মবিশ্বাস দেখে চলতি পথে অনেকে কৌতূহলী চোখ নিয়ে ভিড় করছেন আশপাশে। অনেকে আবার মেয়েদের কারাতে শেখা দেখে হচ্ছেন অবাক। ভাবছেন মেয়েরা আবার কারাতে শিখে কী করবে? কেউ কেউ আবার নিজের মেয়েকে কারাতে শেখাতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। জানতে চাইছেন কখন কীভাবে নিজেদের সুবিধামতো শেখানো যায়। আবার অনেকে আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কারাতে প্রশিক্ষণ শেখাটা নিজের জন্যও জরুরী বলে মনে করছেন। ‘কারাতে হতে পারে নারীদের আত্মরক্ষার প্রথম হাতিয়ার। শুধু তাই নয়, এটি নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়’। কারাতে প্রশিক্ষণার্থী সায়মা এমনটাই বলেন।

সম্প্রতি শেষ হয়ে গেল বিশেষ মহিলা কারাতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ২০১৪-১৫। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় ও নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে মাসব্যাপী চলে এই ক্যাম্প। কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলী আহসান এই ক্যাম্প প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নারীদের আত্মরক্ষার কৌশল জানা জরুরী। এই উপলব্ধি থেকে আমরা মেয়েদের জন্য বিশেষ কারাতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করছি’।

২০০৮ সাল থেকে সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মহিলাদের কারাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারী এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। কারাতে প্রশিক্ষণে শুধু রাজধানীর নয়, এর বাইরের নারীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর জন্য কমপ্লেক্সে মহিলা হোস্টেল রয়েছে। যেখানে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য থাকা-খাওয়ার সুবিধা রয়েছে। কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে এই হোস্টেলে।

খালিহাতে আত্মরক্ষার প্রথম হাতিয়ার কারাতে বলা হলেও আমাদের দেশে এটি তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। তবে যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে নারী-পুরুষ সবাইকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে। বর্তমানে দেশে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নারীরা অনেকটা এগিয়ে গেলেও এখনও শহরে কিংবা গ্রামে নারীর চলাচল ততটা নিরাপদ নয়। এ কথা সবাই জানেন যে, নারী এখন ঘরে-বাইরে পুরুষের পাশে সমানতালে কাজ করছে। তবুও রাস্তাঘাটে, অফিসে কিংবা যানবাহনে নির্বিঘœ বা নিরাপদ চলাচল এখনও নিশ্চিত হয়নি। সেজন্যে শুধু সমাজ বা প্রশাসনের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নারীর নিজেকেও আত্মবিশ্বাসী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় রাস্তাঘাটে কিংবা যানবাহনে চলাচলের সময় নারী বা মেয়েরা নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, আচরণ কিংবা কটু মন্তব্যের শিকার হন। ওই পরিস্থিতিতে নারীরা হয় চুপ করে থাকেন, নতুবা শুনেও না শোনার ভান করে এড়িয়ে যান। প্রতিবাদ না করে নিজের সম্মান বাঁচানো গেল মনে করে নীবরে সয়ে যান। কিন্তু এমনটা না করে যদি প্রতিবাদ করা যায় তাহলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর সে ক্ষেত্রে শুধু প্রতিবাদী হলে চলবে না। হতে হবে আত্মবিশ্বাসী আর এর পাশাপাশি যদি আত্মরক্ষার কৌশল জানা থাকে তবে এ সব ঘটনা প্রতিরোধে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। শুধু নারীর আত্মরক্ষাই নয়, আত্মবিশ্বাসের সূচনাও হোক এর মাধ্যমে। তবেই দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে নারী।

সাবিনা ইয়াসমিন

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: