মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশসেরা তিন নারী ফ্রিল্যান্সার

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫
  • সুলতানা পারভীন

নোয়াখালীর মেয়ে, উচ্চ মাধ্যমিকের পর বিয়ে হয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করার পর ভাবলেন নিজে কিছু করবেন। নৌ-পরিবার কল্যাণ সংঘ এবং নৌবাহিনী লেডিস ক্লাবের সাংগঠনিক কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন। আগে থেকেই লেখার অভ্যাস থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের খাবারের রেসিপি লিখে জমাতে থাকেন। ২০০৯-২০১০ সালে স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে ইংরেজীতে ডিপ্লোমা কোর্স করেন। সেখানে থাকার সময় বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও ইন্টারনেটে বিভিন্ন লেখা পড়ে আউটসোর্সিংয়ের ওপর আগ্রহ জন্মে সুলতানার।

২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে ২ দিনের একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চট্টগ্রামের বিকন আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ চলাকালেই ওডেস্কে এ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করেন। প্রথমে ৫ ডলারের একটি প্রজেক্ট পান ইয়াহু এ্যান্সারের। তখন দেখলেন আউটসোর্সিংয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে কাজ করার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই লেখালেখির বিষয়ে আবারও মনোযোগ দেন। বর্তমানে রেসিপি, বুক রিভিউ, রিজিউম, কাভার লেটার ও লিংকডইনের কাজ করেন ও ভাল সাড়া পান। মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন দেশসেরা এই নারী ফ্রিল্যান্সার। আগামীতে নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেখালেখি (কনটেন্ট রাইটিং) সেবা দিতে চান সুলতানা পারভীন। এছাড়া নিজস্ব একটি রেসিপি সাইট করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

মাহফুজা সেলিম

তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মাহফুজা সেলিম। পড়াশোনা ও কাজের খাতিরে গত ৮ বছর ধরে ময়মনসিংহের মেয়ে বড় বোনের সঙ্গে থাকেন রাজধানীতে। বর্তমানে মিরপুর সরকারী বাঙলা কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে পড়ছেন। আউটসোর্সিং পেশা শুরু করার আগে ২০১০ সালে গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর একটা কোর্স করেন মিরপুরে অবস্থিত ‘নিডিট’ নামক প্রতিষ্ঠান থেকে। এরপর চাকরি খুঁজছিলেন।

২০১১ সালের প্রথমদিকে এক বন্ধুর কাছ থেকে শোনেন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে। তাঁর কথা শুনে বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ নেন। ওই বছরে ওডেস্কে একটা এ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করেন। মাহফুজা সেলিম কাজ করছেন গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে। ‘চিলড্রেন’স বুক ইলাস্ট্রেশনের কাজ বেশি করেন। মূলত শিশুতোষ গল্পগুলোকে চিত্রে রূপ দেন তিনি। বর্তমানে প্রতিমাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। আগামীতে আউটসোর্সিং পোশাকে আরও ছড়িয়ে দিতে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট দিতে চান মাহফুজা। তিনি মনে করেন, তাঁর এখনও শেখার অনেক বাকি আছে। তাই নিজেকে আরও ভালভাবে তৈরি করতে চান তিনি। শুধু টাকার জন্য নয়, শেখার জন্যও কাজ করছেন তিনি।

সায়মা মুহিব

চাঁদপুরের মেয়ে সায়মা। ঢাকা সিটি কলেজ থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনকারী সায়মা মুহিব তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। ২০১১ সালে কলেজে থাকাকালে ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও এবং আর্টিকেল পড়ে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কাজ শেখেন। ওডেস্কে প্রোফাইল খুলে শুরু করেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ। বর্তমানে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজও করেন। ওডেস্কে সর্বোচ্চ ৫ রেটিংয়ে প্রোফাইল থাকা সায়মা মুহিব বর্তমানে দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করেন।

স্বামী মহিউদ্দিন মুহিবও আছেন আউটসোর্সিং পেশায়। গত বছর তিনিও বেসিস আউটসোর্সিং এ্যাওয়ার্ড পান। মূলত স্বামীর অনুপ্রেরণাতেই এগিয়ে গেছেন, এমনটাই মন্তব্য করেন সায়মা। সংসারের পাশাপাশি পুরোদমে চলছে সায়মা মুহিবের ফ্রিল্যান্সিং পেশা। বর্তমানে মাসে দেড় লাখের বেশি আয় করেন তিনি। সায়মা মনে করেন, ফ্রিল্যান্সার ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্ভব নয়। তাই দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে আগামীতে কাজ করতে চান তিনি।

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: