রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

টয় ট্রেনে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫
  • আবু আফজাল মোহাম্মদ সালেহ

মূলত ইংরেজদের অবকাশকালীন স্থান হিসেবে দার্জিলিং বা হিমালয় পাহাড়ের এলাকা প্রতিষ্ঠত হয়। নিউজলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত ৮৮ কি.মি. ন্যারো গেজের রেললাইন উঅজঔঊঊখওঘএ ঐওগঅখঅণঅঘ জঅওখডঅণ সংক্ষেপে উঐজ। আর এ রুটের টয় ট্রেন আজ পর্যন্ত সুন্দরতম পাহাড়িয়া ট্রেন যাত্রা বলে আধুনিক এ যুগেও স্বীকৃত। বিখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন ১৮৯৬ সালে উঐজ এ রুটে টয় ট্রেনে একদিন ভ্রমণ করেছিলেন এবং সে দিনটাকে তাঁর জীবনের অন্যতম উপভোগ্য দিন বলে মন্তব্য করেন। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে টয় ট্রেনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি স্টেশন সংলগ্নে টয় ট্রেনের রেপ্লিকা আছে। বাষ্পচালিত বা কয়লাচালিত ইঞ্জিন দ্বারা শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে ৯-১০ ঘণ্টা সময় লাগলেও বর্তমানে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন দ্বারা টয় ট্রেনে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। আর ট্যাক্সিতে গেলে ( ঐওখখ ঈঅজঞ জঙঅউ ধরে) সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছেÑ ঐওখখ ঈঅজঞ জঙঅউ এর পাশাপাশি টয় ট্রেন রুট ও ছোট ছোট স্টেশনগুলো অবস্থিত। সুকনা, ঘুম বা দার্জিলিং স্টেশন সংলগ্ন মিউজিয়ামে ডিএইচআর’র ঐতিহ্য বা ইতিহাস, তথ্যাদি সংরক্ষিত আছে।

সুকনা স্টেশন থেকে বুঝা যায় ক্রমান্বয়ে উচ্চতায় উঠছে ট্রেন। বড় রকমের বাঁক শুরু“এ স্টেশন থেকে। রান্টং স্টেশন বা নিকটবর্তী এলাকা থেকে কুর্শিয়াং পাহাড়ের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ রুটে ৭৪০৭ ফুট উচ্চতায় ‘ঘুম’ স্টেশন অবস্থিত। যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় এবং সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত রেলস্টেশন। অন্যদিকে এনজিপি মাত্র ৩১৪ ফুট উপরে (সমতল ভূমি থেকে) অবস্থিত। ১৮৮০-১৮৮১ সালের দিকে এ রুটের বেশিরভাগ স্টেশনগুলো প্রতিষ্ঠিত। এর মাঝে আছে কুর্শিয়াং স্টেশন। যেখান থেকে চা বাগানের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ‘ঘুম’ স্টেশনের আগে ‘জোড় বাংলা’তে সড়কপথ ও রেলপথ ক্রস করেছে। এখানকার বাতাসিয়ার বাগান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও দার্জিলিংয়ের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়। সর্বশেষ স্টেশন হচ্ছে দার্জিলিং। এটি ৬৮১২ ফুট উচ্চতায়। ১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত দার্জিলিং স্টেশন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় যা ১৯৪৪ সালে পুনর্নির্মিত হয় যা আজ দাঁড়িয়ে আছে।

এ রুটের আঁকাবাঁকা পথ, বিপজ্জনক বাঁক (যা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রায় ৬৯ ডিগ্রী পর্যন্ত) রোমাঞ্চকে আরও বাড়িয়ে দেয়। টাং, সোনাদা, ইত্যাদি বেশ কয়েকটি ছোট ছোট স্টেশন বা বাজার এ রুটে অবস্থিত। এখান থেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য ও তাদের জীবনধারা লক্ষ্য করা যায়। এনজেপি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয় ট্রেনে ভ্রমণ করলে একদিন খুব মজা করে কাটানো যায়।

কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ৫৮৬ কি.মি.। নিউজলপাইগুড়ি এনজেপি নামেই পরিচিত। এনজেপি থেকে ভাড়ায় বা শেয়ারে ট্যাক্সি করে তিন ঘণ্টার পথ দার্জিলিং। ইচ্ছে করলে যে কেউ ‘হিমালয়ান ট্রয় ট্রেন’ -এ যেতে পারবেন। সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে এনজেপি বা গোয়াহাটিগামী যে কোন ট্রেনে চেপে যাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, পদাতিক, বা সর্বাধিক পরিচিত ‘দার্জিলিং মেল’ এ নিউ জলপাইগুড়ি তারপর দার্জিলিং! রিজার্ভেশন টিকিট করতে হলে আগেই বুকিং দিতে হবে। এনজেপি, শিলিগুড়ি বা দার্জিলিঙে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। তবে আগে থেকেই বুকিং দিলে ভাল হয়। দার্জিলিঙে প্রচ- শীত। তাই শীতের পোশাক নিতে ভুলবেন না।

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: