মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শীতের ফুল

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

চয়ন বিকাশ ভদ্র

শীতের নির্জীব প্রকৃতিতে অনেক ফুল তাদের শোভা মেলে ধরে। প্রকৃতিতে ফুল আনে প্রাণের ছোঁয়া। বাগান, আঙিনা আর ছাদ হয়ে উঠে রঙে আর রূপে বর্ণিল। ফুল রঙ্গিন হওয়ার কারণ হলো- রং মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সত্য, কিন্তু পতঙ্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না। সে জন্য ফুলের রং পতঙ্গের উপযোগী করে তৈরি হয়। ফুলের গড়ন অনুযায়ী একেক ধরনের ফুলে একেক ধরনের পতঙ্গ এসে বসে। ভিন্ন ভিন্ন রং ভিন্ন ভিন্ন পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে। তাই ফুলের পাপড়ির বর্ণও ভিন্ন হয়ে থাকে। রঙিন ফুলের রং দিনের বেলায় ভাল দেখতে পায় বলে যে ফুল দিনের বেলায় ফোটে, তাদেরই পাপড়িগুলো রঙিন হয়ে থাকে। রাতে ফোটা ফুল সাধারণত বর্ণহীন হয়ে থাকে। তবে তাদের বেশিরভাগেরই গন্ধ থাকে। ফুলের পরাগরেণু স্থানান্তরের জন্য কীট-পতঙ্গের প্রয়োজন। আর এই প্রয়োজনের কথা ভেবেই ফুলের পাপড়ি রঙ্গিন হয়ে থাকে।

শীতকালে ফোটে এমনি কিছু ফুলের পরিচিতি তুলে ধরা হলোÑ

গাঁদা

গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম : ঞধমবঃবং বৎবপঃধ, এটি অংঃবৎধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। চাকমাদের কাছে এই ফুল ‘সওরং ফুল’ নামে পরিচিত। ত্রিপুরারা বলে ‘ক্ষেতারা’। ইংরেজী নাম গধৎরমড়ষফ, পাতা বহু খ-ে বিভক্ত। পত্রকের কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। গাছ ও পাতায় সূক্ষ্ম লোম ও ঝাঁঝালো গন্ধ আছে। বীজ কালো, ছোট। কেটে গেলে পাতা কচলিয়ে লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। মূত্র বৃদ্ধি কারক হিসেবেও এর পাতা ব্যবহৃত হয়। ভারত ও বাংলাদেশে গাঁদার পাঁচটি জাত রয়েছেÑ বড় ইনকা গাঁদা, ছোট ছোট চায়না গাঁদা, রক্ত গাঁদা, দেশী গাঁদা, জাম্বো গাঁদা। আদি নিবাস মেক্সিকো।

ডালিয়া

এটি বহুবর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম : উধযষরধ াধৎরধনরষরং, এরা অংঃবৎধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। আমাদের উপমহাদেশে এই ফুল এসেছে ১৮৫৭-৬০ এর দিকে। শীত মৌসুমের এটি খুব জনপ্রিয় ফুল। আলুর মতো টিউবার থেকে ভাল চারা উৎপন্ন হয়। পাতা করাতের মতো খাঁজকাটা। প্রজাতির সংখ্যা ২০। ফুল একক ও যুগ্ম। ডালিয়ার একক ও যুগ্ম ফুল আছে। লাল, চকোলেট, হলুদ, সাদা, গোলাপী, বেগুনী প্রভৃতি বর্ণের ফুল রয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাত হলো এ্যানিমোন, ডেকোরেটিভ, কলারেট, পিওনি, পমপন, মারলিন ইত্যাদি। আদিনিবাস মেক্সিকো।

চন্দ্রমল্লিকা

এটি ক্ষুদ্রাকার ঝোপালো উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম : ঈযৎুংবহঃযবসঁস ংঢ়. এটি অংঃবৎধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। ২৫ সেমি পর্যন্ত বড় হতে পারে। পাতা উপবৃত্তাকৃতির। পত্রফলকের কিনারা খ-িত বা করাতের মতো। আদিবাস চীন। ঈযৎুংবহঃযবসঁস গণে প্রজাতির সংখ্যা ২০০। প্রজাতির মধ্যে ঈযৎুংবহঃযবসঁস পড়ৎড়হধৎরঁস, ঈযৎুংবহঃযবসঁস ংবমবঃঁস, ঈযৎুংবহঃযবসঁস পধৎরহধঃঁস, ঈযৎুংবহঃযবসঁস ঢ়ধৎঃযবহরঁস উল্লেখযোগ্য।

চন্দ্রমল্লিকার নানা আকৃতির একক ও যুগ্ম ফুল হয়। যেমন : এ্যানিমন, পমপন, হেয়ারি, ইনকার্ভড , ক্যাসকেইড। এই ফুল সাদা, হলুদ, লেবু, বেগুনী, লাল, নীল ইত্যাদি বর্ণের হয়। ক্রিসমাসের সময় ফোটে বলে এর নাম ঈযৎুংবহঃযবসঁস, চন্দ্রমল্লিকা চাষের জন্য উর্বর, উঁচু, শুষ্ক ও সহজে পানি নিষ্কাশিত হয় এমন জমি আবশ্যক। টবেও এর চাষ হয়। ফুল আসার সময় অবাঞ্ছিত কুঁড়ি ছিঁড়ে ফেললে ফুল বড় হয় ও সুন্দর দেখায়।

ক্যালেন্ডুলা

ক্যালেন্ডুলা বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম : ঈধষবহফঁষধ ড়ভভরপরহধষরং, এটি অংঃবৎধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। এটি খুব জনপ্রিয় শীতকালের মৌসুমী ফুল। গাছ ৩০ থেকে ৬০ সেমি লম্বা। পাতা লম্বা, রোমশ, অমসৃণ। গোড়ার কা- জড়িয়ে থাকে। ফুল কমলা, লাল ও হলুদ বর্ণের হয়। লম্বা ডাটার মাথায় ফুল ফোটে। গণে প্রজাতির সংখ্যা ৩০। ফুল আকারে বড় (প্রায় ১০ সেমি.)। ক্যালেন্ডুলা নামকরণ করা হয়েছে ল্যাটিন শব্দ ঈধষবহফধব অর্থাৎ মাসের প্রথম দিন থেকে বা অনেক দিন ধরে ফুল গাছে থাকার প্রেক্ষিতে। বীজ সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বপন করা হয়। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফুল হয়। ক্যালেন্ডুলা টবেও লাগানো যায়। ছায়াতে এই গাছ ভাল হয় না, হলেও ফুল ধরে না। গাছের আগা রোপণের এক মাস পর ভেঙ্গে দিলে ভাল ফুল হয়।

জনপ্রিয় জাতের মধ্যে ক্যামফায়ার, ড্যানিয়া, গোল্ডেন এ্যাম্পেরর, অরেঞ্জ কিং, অরেঞ্জ সান, প্যাসিফিক বিউটি, নোভা উল্লেখযোগ্য। আদি নিবাস ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল।

কসমস

কসমস বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম : ঈড়ংসড়ং নরঢ়রহহধঃঁং, এটি অংঃবৎধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। কসমস অপূর্ব বাহারী শীতকালীন ফুল। পাতা সবুজ এবং বেশ সরু । শাখা-প্রশাখা অনেক। গাছ ৯০ থেকে ১২০ সেমি. বড় হয়। ফুল সাদা, লাল বা গোলাপী বর্ণের হয়।

কার্নেশন

কার্নেশন বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম : উরধহঃযঁং পধৎুড়ঢ়যুষষঁং, এটি ঈধৎুড়ঢ়যুষষধপবধব পরিবারের সদস্য। উরধহঃযঁং শব্দের অর্থ হচ্ছে স্বর্গীয় ফুল। খ্রিস্টের জন্মের পর এ ফুলের চাষ হতো ফ্রান্সে। ৬০০ থেকে ৭০০ খ্রিস্টাব্দে সুগন্ধি তৈরির জন্য এর চাষ হতো আরব দেশে। ফুল দিয়ে তোড়া তৈরি করা যায়। বাগানে তিন প্রকার কার্নেশনের চাষ হয়ে থাকে। বর্ডার কার্নেশন, পারপ্যাচুয়েল ফ্লাওয়ারিং এবং মার্গারিট। বর্ডার কার্নেশনের মধ্যে ম্যাডোনা, ¯েœা ক্লোভ এবং পারপ্যাচুয়েল ফ্লাওয়ারিংয়ের মধ্যে গোল্ডেন রেইন, নিরো উল্লেখযোগ্য। ফুলে লবঙ্গের মতো গন্ধ থাকে। আদি নিবাস দক্ষিণ ফ্রান্স। উদ্ভিদ ৪৫ থেকে ৯০ সেমি. বড় হয়। পাতা ঘাসের মতো। গোলাপের মতো ফুল। রঙ গোলাপী, লাল, হলুদ, সাদা। আকারে ও বর্ণে গোলাপের পরেই এর স্থান।

পিটুনিয়া

পিটুনিয়া শীত মৌসুমী ফুল। বৈজ্ঞানিক নাম : চবঃঁহরধ যুনৎরফধ, এটি ঝড়ষধহধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। কা- দুর্বল, তাই গাছটি লতানো প্রকৃতির। দোআঁশ মাটি চাষের উপযোগী। আদি নিবাস আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনা। এটিকে ছোট টবে লাগানো যায়।

গ্যাজানিয়া

বৈজ্ঞানিক নাম : এধুধহরধ হরাবধ, এটি অংঃবৎধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। শীতের মৌসুমী ফুল। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্যাজানিয়া বহুবর্ষজীবী বীরুৎ হলেও আমাদের দেশে এটি বর্ষজীবী বীরুৎ হিসেবে জনপ্রিয়। গাছ ছোট। ২০ থেকে ২৫ সেমি. লম্বা। কিছুটা লতানো। পাতা সরু, লোমযুক্ত। ফুল অনেকটা সূর্যমুখীর মতো। সাদা, লাল, কমলা, হলুদ রঙের ফুল হয়। পাহাড়ী এলাকায় এরা ভাল জন্মে। প্রখর সূর্যের আলো এদের পছন্দ। সকালে রোদ পেলে ফুল ফোটে এবং বিকেলে স্তিমিত হয়ে যায়। বীজের সাহায্যে বংশ বৃদ্ধি হয়। তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফুল হয়। আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকা। এটিকে ছোট টবে লাগানো যায়।

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: