মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বপ্নের ফাইনালে সেরেনা-শারাপোভা

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫
স্বপ্নের ফাইনালে সেরেনা-শারাপোভা

স্বদেশী মেডিসন কেইসকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সেরেনা, নিজ দেশের মাকারোভার বিপক্ষে জয়ী হয়ে শারাপোভা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন সেরেনা উইলিয়ামস ও মারিয়া শারাপোভা। বৃহস্পতিবার সরাসির সেটে সেমিফাইনালের ম্যাচ জেতে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন তারা। দিনের প্রথম অল-রাশিয়ান সেমিফাইনালে সহজ জয় তুলে নেন মারিয়া শারাপোভা। তরুণ প্রতিভাবান টেনিস খেলোয়াড় একাটেরিনা মাকারোবাকে হারান তিনি। আর অল-আমেরিকান অন্য সেমিফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামস জয় পান মেডিসন কেইসের বিপক্ষে। এর ফলে দুর্দান্ত এক ফাইনালই দেখার সুযোগ পেল টেনিস ভক্ত-অনুরাগীরা।

বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নাম্বার তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শীর্ষ বাছাইও তিনি। টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ে শারাপোভার স্থান দুইয়ে। যে কারণে মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই মাশা। টেনিস বিশ্বে এই দুই তারকার ভক্তই বেশি। তাই ফাইনালটা যে জম্পেশ হবে তা অনুমিতই। যদিওবা পরিসংখ্যানের হিসেবে সেরেনার অনেক পেছনে মারিয়া শারাপোভার অবস্থান। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৮ গ্র্যান্ডসøাম জিতেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। তার পাঁচটি এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। কিন্তু শেষবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হন ২০১০ সালে। এরপর মেলবোর্নে নিষ্প্রভ পারফর্মেন্স উপহার দেন তিনি। শিরোপা তো দূরের কথা পরের আসরগুলোতে এই টুর্নামেন্টের ফাইনালেও উঠতে পারেননি সেরেনা উইলিয়ামস। তাই মনের মধ্যে ক্ষোভটা বড় আকারই ধারণ করেছিল আমেরিকান তারকা। এ জন্য সেই ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলার লক্ষ্য নিয়েই এবারের আসরে খেলতে নামেন উইলিয়ামস পরিবারের ছোট মেয়ে। শুরু থেকে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স উপহার দিয়ে শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও গেছেন তিনি। ফাইনালে উঠার পথে সেরেনার বাধা ছিলেন স্বদেশী অবাছাই মেডিসন কেইস। দুই খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে প্রথম সেটটি গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতে ৭-৬ (৭/৫) গেমে জিতে নেন সেরেনা। এ জন্য তার সময় লাগে ৪৫ মিনিট। দ্বিতীয় সেটে প্রতিপক্ষ কেইসকে লড়াই করার তেমন সুযোগ দেননি সেরেনা। ৬-২ গেমে ওই সেটটি জিতে নেন তিনি। আর তার জন্য সময় লাগে ৩৯ মিনিট। তরুণ প্রতিভাবান তারকা খেলোয়াড় মেডিসনকে হারিয়ে অসামান্য একটা কীর্তিও গড়লেন তিনি। টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রমীলা খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠার রেকর্ড গড়লেন আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি। ৩৩ বছর বয়সী সেরেনা উইলিয়ামসের এটি ২৩তম ফাইনাল। আর একটি গ্র্যান্ডসøাম জয়ের দ্বারপ্রান্তে দারুণ রোমাঞ্চিত সেরেনা। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস শারাপোভার বিপক্ষে ফাইনালে ভাল সাহায্য করবে আমাকে। আর শারাপোভার বিপক্ষে অতীত রেকর্ডও ভাল আমার। তবে এসবের চেয়ে বড় কথা ফাইনালে অনেক বেশি ভাল খেলতে হবে। শিরোপা জয়ের জন্য যা করা দরকার তাই করব আমি।’

এর আগে দিনের প্রথম সেমিফাইনালে হেসেখেলেই জিতেছেন মারিয়া শারাপোভা। রাশিয়ান এই গ্লামারগার্ল এদিন ৬-৩ ও ৬-২ গেমে পরাজিত করেন তারই স্বদেশী টুর্নামেন্টের দশম বাছাই একটেরিনা মাকারোভাকে। প্রথম সেটটি জিততে ৪৮ মিনিট লড়াই করতে হয়েছে তাকে। আর দ্বিতীয় সেটটি ৩৯ মিনিটেই জেতে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেন মাশা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এটি তার চতুর্থ ফাইনাল। ২০০৮ সালে এখানে প্রথম শিরোপা জিতেছিলেন তিন। এরপর শুধু হতাশায় কেটেছে তার। তবে এবার শিরোপার আক্ষেপ ঘুচাতে মরিয়া এই রুশ তারকা।

ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের অভিমত জানাতে গিয়ে শারাপোভা বলেন, ‘সেমির ম্যাচ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তবে এতটা সহজে জিতব তা ভাবিনি। তবে ফাইনালে আমাকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় সেরেনা। তার বিপক্ষে জিততে হলে অনেক বেশি ভাল ও আক্রমণাত্মক টেনিস খেলতে হবে। ফাইনালে ভাল খেলার চেষ্টাই করব আমি।’

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: