কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অস্কারের পথে আমেরিকান স্নাইপার

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০১৫
  • লতিফুল বারী নিবিড়

হলিউড

জনপ্রিয়তা কি সমালোচকদের প্রশংসা যেভাবেই দেখা হোক না কেন ক্লিন্ট ইস্টউড গত তিন দশকে নিজের চলচ্চিত্রের একটা নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন। গল্পের চরিত্র বাছাই কিংবা চিত্রনাট্যই হোক,নিজের কাজের একটা ছাপ পাওয়া যায় তার কাজে ফলে আর দশজনের চাইতে নিজের কাজকে আলাদা করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন ‘আমেরিকান স্নাইপার’, যা কিনা আগামী ৮৫তম অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছে ৬টি ক্যাট্যাগরিতে। সমালোচকরা বলছেন, ‘আমেরিকান স্নাইপার’র কপালেই জুটতে যাচ্ছে সেরা ছবির পুরস্কার। শুধু অস্কার নমিনেশন নয়, আমেরিকান স্নাইপারের ব্যবসায়িক রেকর্ডও কিন্তু উর্ধমুখী যার কাছে পাত্তা পাচ্ছে না সম্প্রতি জেনিফার লোপেজের ‘বয় নেক্সট ডোর’ সিনেমাটিও। আর ইরাক যুদ্ধ নিয়ে এর আগেও গ্রীন জোন, ইন দ্য ভ্যালি অফ ইলাহসহ অনেক ছবি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ‘আমেরিকান স্নাইপার’ দর্শকদের বেশি মুগ্ধ করেছে যেখানে তারা খুঁজে পেয়েছে একজন যোদ্ধার অপর পাশকেও, যা চিরকালই অজানা রয়ে যায়।

ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ইউএস নেভি সিল স্নাইপার ক্রিস কাইলের অটোবায়োগ্রাফি ‘আমেরিকান স্নাইপার’ অবলম্বনেই। ক্রিস ছিলেন আমেরিকান ইতিহাসের সব চেয়ে ভয়ানক স্নাইপার যিনি ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর ছিল ১৬০টি সফলভাবে স্নাইপার শট নেয়ার রেকর্ড, যা কিনা ভিয়েতনাম যুদ্ধে তাঁর কোন এক পূর্বসূরির নেয়া ১০৯টি শটের রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, ২০১৩ মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ক্রিস নিহত হন তাঁরই এক ইরাক ফেরত মানসিকভাবে অসুস্থ সহযোদ্ধার হাতে।

শৈশবেই বাবার কাছে শিকারের প্রশিক্ষণ পাওয়া এক কিশোরের স্নাইপার হওয়ার স্বপ্নে নেভি সিলে যোগদান এবং যুদ্ধপরবর্তী অবসর জীবনে পরিবার ও নাগরিক জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সংগ্রামকে ঘিরেই কাহিনী আবর্তিত হয়েছে।

ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন জেসন হল। আর চিত্রনাট্য লিখতে তাঁকে একাধিকবার বসতে হয়েছে সিনেমার বাস্তবের নায়ক ক্রিসের সঙ্গে। পরিকল্পনাটা বের হয় আইডেন্টিটি থেফটখ্যাত প্রযোজক পিটার মরগানের মাথা থেকে। তিনিই প্রথম চিত্রনাট্য রচয়িতা হলকে অনুপ্রাণিত করেন যে ক্রিসের জীবন নিয়ে একটা সিনেমা হতে পারে। ব্যস, হলের গন্তব্য টেক্সাস, উদ্দেশ্য ক্রিসের সঙ্গে দেখা করা। সেখানে সে দেখতে পায় ক্রিসের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে এক অনন্য সুখী জীবনের, যা কিনা তার সামরিক জীবনের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানেই প্রথম হল জানতে পারেন, ক্রিস তাঁর সামরিক জীবন নিয়ে একটা আত্মজীবনী লিখছেন। ২০১২ সালে বইটি নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী ২০ সপ্তাহ বেস্ট সেলার ছিল। পরবর্তীতে এই বইটি থেকেই শুরু হয় চিত্রনাট্য লেখার কাজ। তবে দুঃখজনক বিষয় এই যে ক্রিস যেদিন খুন হন ঠিক তার আগের দিন হল তাঁকে চিত্রনাট্য দেখিয়েছিলেন।

তবে ছবিটির কাজ শুরু করার ব্যাপারে ক্রিসের স্ত্রী টায়ার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনিই হলকে অনুপ্রাণিত করেন কাজটি এগিয়ে নিতে যেন তাঁর সন্তানদের কাছে তাঁদের বাবা সম্পর্কে একটা প্রামাণ্য দলিল হয়ে থাকে ছবিটি।

শুরুতে কিন্তু ওয়ার্নার ব্রাদার্স পরিচালক হিসেবে পছন্দ করেছিলেন স্টিফেন স্পিলবার্গকে। স্পিলবার্গ সম্মতিও জানিয়েছিলেন। তবে চিত্রনাট্য এদিক ওদিক করার বিষয়ে বনিবনা না হওয়ায় দৃশ্যপটে আসেন ইস্টউড। নিজের রয়েছে ফ্ল্যাগস অফ আওয়ার ফাদারস, হার্টব্রেক রিজসহ অসংখ্য যুদ্ধবিষয়ক সিনেমা তৈরির অভিজ্ঞতা। সঙ্গে যোগ হলো জেসন হলের দুর্দান্ত স্ক্রিপ্ট। আর বাকিটুকু ইতিহাস।

ছবি তৈরির পেছনের গল্প বলতে যেয়ে ইস্টউড বলেন, ‘যখন আমরা ছবিটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেই তখন প্রথমেই ক্রিস এর চরিত্রে রূপদানকারী ব্রাডলি কুপারকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিসের বিধবা স্ত্রী টায়ার সঙ্গে দেখা করি। আমরা বোঝার চেষ্টা করি ক্রিস কেমন জীবনাচরণে অভ্যস্ত ছিল, কী কী ছিল পছন্দ ও অপছন্দের তালিকায় আর এসবই করা হয়েছে সিনেমাটাকে আরও বেশি বাস্তবসম্মত করার জন্যেই।’ উল্লেখ্য টায়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়েনা মিলার।

‘কুপারের জন্য এটি একটা উল্লেখযোগ্য কাজ হয়ে থাকবে। কারণ সে ক্রিসের ভূমিকায় অভিনয় করতে তাঁর পরিবারের আবেগ অনুভূতিকে ধারণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল’, বললেন গুণী এ পরিচালক।

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০১৫

২৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: