মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সত্ত্বেও ২ ফেব্রুয়ারিই এসএসসি পরীক্ষা

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০১৫
  • আল্লাহর দোহাই, ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী থামান ॥ শিক্ষামন্ত্রী

বিভাষ বাড়ৈ ॥ তীব্র ক্ষোভের পরেও বিএনপি-জামায়াত জোট হরতাল-অবরোধ অব্যাহত রাখলে দেশের শিক্ষার স্বার্থে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুসারেই ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গঠন করা হয়েছে একটি জাতীয় মনিটরিং কমিটিসহ মোট ১২ তদারকি কমিটি। বাকি ১১ কমিটির মধ্যে ১০ শিক্ষা বোর্ডে দশটি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে আরও একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থী, কেন্দ্র ও পরীক্ষা সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটিকে শক্ত অবস্থান নেয়ার নির্দেশ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, রেলপথ এবং বিদ্যুত বিভাগের চার সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এদিকে লাগাতার হরতাল-অবরোধে ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী ও ২৮ লাখ অভিভাবকের উৎকণ্ঠার প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা চলবে- একথা স্পষ্ট জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, হরতাল -অবরোধের তো কোন সময়সীমা নেই। তাই আমরা পরীক্ষা যে পিছিয়ে দেব তারও তো কোন উপায় নেই। হরতাল-অবরোধ করে বিএনপির কোন ‘লাভ’ হচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা শিক্ষার্থী ও পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটা কারও কাম্য নয়, এটা হতে দেয়া যায় না। যদি তারা মানুষের কথা চিন্তা করে অবরোধ চালিয়ে যায় তবে তার মধ্যেই পরীক্ষা নেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। কেবল মন্ত্রী নন, দেশের স্বার্থের সেøাগান দিয়ে মুখে ফুলঝুরি ফোটালেও দেশের শিক্ষা এমনকি পাবলিক পরীক্ষার কথা বিবেচনায় না নিয়ে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচীর চালানোয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এভাবে পরীক্ষার মধ্যে হরতাল ডাকা যুক্তিহীন, দায়িত্বহীন, জ্ঞানহীন ও অবিবেচকের কাজ। ব্যাপক রাজনৈতিক সঙ্কটেও ইতোপূর্বে পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচী দিয়েছে বিভিন্ন দল। কিন্তু এই সংস্কৃতি নষ্ট করছে দুটি দল। বিএনপি-জামায়াতের শিক্ষাবিরোধী লাগাতার অপরাজনীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের ছাত্রছাত্রী। জিম্মি হয়ে পড়েছে তাদের শিক্ষকসহ পুরো পরিবার। দফায় দফায় কর্মসূচী দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনকে অনিশ্চিত করে ফেলা হচ্ছে বলেও বলছেন বিক্ষুব্ধ মানুষ। জানা গেছে, পরীক্ষা যত এগিয়ে আসছে, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শঙ্কা তত বাড়ছে। নাশকতার কারণে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বছরের শুরু থেকেই রাজনৈতিক সহিংসতায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পরও হরতাল-অবরোধ অব্যাহত থাকায় রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আদৌ নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। আবার কর্মসূচীর নামে নাশকতা চালানোয় পরীক্ষা হলেও নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। গত ৫ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী লাগাতার অবরোধ কর্মসূচী পালন করছে বিএনপি। তারই মধ্যে মাঝে মধ্যেই হরতাল থাকছে। কর্মসূচীর নামে চালানো নাশকতা ও সহিংসতায় সারাদেশে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াতের হরতালের কারণে ২০১৩ সালে এসএসসির ৩৭ বিষয় এবং এইচএসসির ৪১ বিষয়ের পরীক্ষা পেছাতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের জেএসসি-জেডিসির ১৭ বিষয় এবং প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীর দুটি বিষয়ের পরীক্ষা হরতালের কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া গত বছরের শেষ দিকে জেএসসি-জেডিসি এবং প্রাথমিক ও এবতেদায়ী পরীক্ষাও বিএনপির হরতালের কবলে পড়লে কয়েকটি পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। কিন্তু এবার কর্মসূচীর শেষ হওয়ার কোন দিনক্ষণ না থাকায় প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আগের মতো হরতাল-অবরোধ শেষ হওয়ার কোন সীমা নেই এবার। লাগাতার কর্মসূচী চালানোয় এবার নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়, বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের।

মন্ত্রণালয়ে জরুরী বৈঠক, পরীক্ষা হবে ॥ শিক্ষার এ সঙ্কট নিয়েই বুধবার এসএসসি পরীক্ষা ‘সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক’ পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বসে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটি বৈঠক। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় ছিলেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা হবে। ২ ফেব্রুয়ারি-ই সারাদেশে একযোগে শুরু হবে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যাতে ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেবে। আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি, “আল্লাহর দোহাই, খোদার দোহাই, মানবতার দোহাই, তারা (বিএনপি) দয়া করে আমাদের ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা নিশ্চিন্তে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিন।” শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, অবরোধের মধ্যে এবারের পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের মতো তিনিও উদ্বিগ্ন।

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০১৫

২৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: