কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তারকার পতন

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫
তারকার পতন
  • মাহমুদা সুবর্ণা

মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। এখান থেকেই টেনিস তারকাদের স্বপ্নের শুরু। মেজর এই টুর্নামেন্টে ভাল করা মানেই পুরো মৌসুমেই আত্মবিশ্বাসী থাকা। কিন্তু এবারের আসরেই ঘটেছে ব্যতিক্রম ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথমদিনেই অঘটন দেখে টেনিস বিশ্ব। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বেই হেরে যান সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচ। মেজর এই ইভেন্টের ফেবারিট ছিলেন তিনি। কিন্তু টুর্নামেন্টের পঞ্চম বাছাই ইভানোভিচকে পরাজয়ের স্বাদ উপহার দিয়ে টেনিস বিশ্বকে চমকে দেন চেক প্রজাতন্ত্রের অখ্যাত খেলোয়াড় লুসি রাদেকা। প্রথম পর্বের ম্যাচে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৪২তম স্থানে থাকা রাদেকা ১-৬, ৬-৩ এবং ৬-২ গেমে হারান সাবেক এক নম্বর তারকা আনা ইভানোভিচকে।

আর ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমে লুসি রাদেকার কাছে হেরে হতাশ হয়েছেন আনা ইভানোভিচ, ‘এটা সত্যিই হতাশাজনক। সম্ভবত আমার সবচেয়ে বাজে পরাজয়ও।’ প্রায় অর্ধযুগেরও বেশি সময় আগে প্রথমবারের মতো কোন গ্র্যান্ডসøাম জিতেছিলেন ইভানোভিচ। এর পর কখনই গ্র্যান্ডসøাম জিততে পারেননি তিনি। কিন্তু নতুন মৌসুমের শুরুতেই হেরে বড় একটা ধাক্কা খেলেন এই সার্বিয়ান। তাই অনেকেই মনে করছেন সংশয়ের মধ্যে ঝুলে গেল ইভানোভিচের ক্যারিয়ার। কারণ তাঁর বর্তমান বয়স ২৭। এছাড়া গত কয়েক মৌসুম ধরেই ফর্মহীনতায় ভুগছেন তিনি। তাই মৌসুমের বাকি সময়টাতে নিজেকে মেল ধরতে পারবেন কী না তার উত্তর এখন সময়ের হাতে। ইভানোভিচকে হারালেও খুব বেশিদূর এগুতে পারেননি রাদেকা। কিন্তু মেলবোর্নে প্রথম ম্যাচেই ইভানোভিচকে হারিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাদেকা, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে এটা বাস্তব। আনা ইভানোভিচের মতো খেলোয়াড়কে হারাতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’

মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের চতুর্থ দিনে ছিটকে পড়েন ক্যারোলিন ওজনিয়াকিও। ড্যানিশ টেনিস তারকাকে পরাজয়ের স্বাদ উপহার দেন দীর্ঘদিন ধরেই ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নম্বর ওয়ান তারকা ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে ৬-৪ এবং ৬-২ গেমে হারান অষ্টম বাছাই ক্যারোলিন ওজনিয়াকিকে। মৌসুমের প্রথম মেজর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্ব থেকেই বিদায় নিয়ে হতাশ ওজনিয়াকি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই ড্যানিশ কন্যা। কিন্তু কখনই গ্র্যান্ডসøাম জেতা হলো না তাঁর। আর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা বিদায় নেন চতুর্থ পর্ব থেকে। তাঁকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেন সেøাভাকিয়ার ১১তম বাছাই ডোমিনিকা সিবুলকোভা। সেøাভাকিয়ার এই তারকা খেলোয়াড় আজারেঙ্কাকে ৬-২, ৩-৬, ৬-৩ সেটে হারান।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মহিলা এককে প্রথম দিনেই অঘটন দেখেছিল টেনিস বিশ্ব। কিন্তু পুরুষ এককে তেমন বড় কোন অঘটন দেখেনি প্রথম চারদিন। তবে পঞ্চম দিনেই পুরুষ এককে প্রথম অঘটন দেখে টেনিস ভক্তরা। কারণ টুর্নামেন্টের তৃতীয় পর্ব থেকেই বিদায় নেন ১৭টি গ্র্যান্ডসøাম জয়ের মালিক রজার ফেদেরার। আর টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকা জীবন্ত কিংবদন্তি ফেদেরারকে হারিয়ে বড় বিস্ময়টা উপহার দেন ৪৬তম অবস্থানে থাকা আন্দ্রেয়াস সেপ্পি। রড লেভার এ্যারেনায় প্রায় তিন ঘণ্টার লড়াই শেষে সেপ্পির কাছে পরাজয় মানেন ৩৩ বছর বয়সী ফেদেরার। ইতালির আন্দ্রেয়া সেপ্পি তৃতীয় পর্বে ৬-৪, ৭-৬ (৭/৫), ৪-৬ এবং ৭-৬ (৭/৫) গেমে পরাস্থ করেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাইকে। অথচ এর আগেও দশবার মুখোমুখি হয়েছিল সেপ্পি-ফেদেরার। যে লড়াইয়ের সবগুলোতেই জয় তুলে নেন ফেদেরার। কিন্তু ১১তম দেখায় সেপ্পি পেয় গেলেন বহুল কাক্সিক্ষত সেই জয়ের স্বাদ। ফলে ১৪ বছরের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এটাই ফেদেরারের সবচেয়ে বাজে পারফর্মেন্স। তার ১৪ বছর আগে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। এরপর গত ১১ বার টানা সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার অসামান্য কীর্তি গড়েন সুইস এই তারকা খেলোয়াড়। তাই এবার স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ফেদেরার। বছরের প্রথম মেজর টুর্নামেন্টে হারলেও এখনও তাঁর চোখেমুখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। পরাজয়ের পরপরই তিনি বলেন, ‘এমন পরাজয় কোনদিনই কাম্য নয়। তাই খুবই খারাপ লাগছে। তবে আশা করছি হতাশা ভুলে দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাব।’

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টেনিস বিশ্বে রাজত্ব করছেন ফেদেরার। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৭টি গ্র্যান্ডসøাম জিতেছেন তিনি। এছাড়াও গড়েছেন অসাধারণ সব কীর্তি। তবে গত কয়েকটি মৌসুম একেবারেই নিষ্প্রভ কাটছে তাঁর। শেষ গ্র্যান্ডসøাম জিতেছিলেন ২০১২ সালে। উইম্বল্ডনে। সতেরোতম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের পরের দুটি মৌসুমই নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন ফেদেরার। তবে নতুন মৌসুমের শুরুতেই ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট জিতে স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফেদেরার। কিন্তু তাঁর জয়রথ থামিয়ে দিলেন সেপ্পি। কিংবদন্তি রজার ফেদেরার-বধের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ৩০ বছর বয়সী আন্দ্রেয়াস সেপ্পি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কেবল সেন্টার কোর্টে খেলাটাই উপভোগের চেষ্টা করেছি। প্রকৃতপক্ষে সেন্টার কোর্টে খেলার সুযোগ সবসময় আসে না। কেবল নিজের সেরাটা দেযার চেষ্টা করেছি। রজারের বিপক্ষে জেতায় বলব, এটাই আসার জীবনের সেরা ম্যাচ।’

তবে চতুর্থ পর্বেই থেমে যায় আন্দ্রেয়াস সেপ্পির স্বপ্নের দৌড়। আর এই ইতালিয়ানকে হতাশায় ডুবান ১৯ বছরের একজন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ, নিক কিরগিওস। চতুর্থ সেটে একটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে পাঁচ সেটের ম্যারাথন ম্যাচ জিতে জায়গা করে নিয়েছেন বছরের প্রথম গ্র্যান্ডসøামের কোয়ার্টার ফাইনালে। গত বছর উইম্বলডনেও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিলেন তিনি। ২০০১ সালে রজার ফেদেরারের পর এত কম বয়সে একটির বেশি গ্র্যান্ডসøামের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা প্রথম খেলোয়াড়ও নিক কিরগিওস।

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫

২৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: