কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উপমহাদেশের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫
উপমহাদেশের চ্যালেঞ্জ
  • ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২১৫, সম্ভাবনা ও বাস্তবতা

মোঃ নুরুজ্জামান ॥ ধারণা করা হয় ক্রিকেটের জন্ম ইংল্যান্ডে। ইংলিশদের সঙ্গে কুলিন-কাতারে অস্ট্রেলিয়ার নাম। অথচ জনপ্রিয়তা, প্রশাসনিক ক্ষমতা সব বিচারেই এখন এগিয়ে উপমহাদেশের দলগুলো। হবেই বা না কেন? ইতোমধ্যে বিশ্বজয় করেছে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আগামীর আলো ছড়াতে উল্কার বেগে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। আরেকটি বিশ্বকাপ যখন দ্বারে, তখন ভক্তমনে প্রশ্ন, এবার কেমন করবে উপমহাদেশ তথা এশিয়ার দলগুলো? উত্তরটা সহজ নয়! কারণ এবার বিশ্বসেরার আয়োজন বসতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। এই অঞ্চলের দলগুলোর জন্য যা খুবই দুর্গম। ঘাসে ভরা দ্রুতগতির বাউন্সি উইকেটে ভারত-পাকিস্তানের মতো পরাশক্তিদের সাফল্যও নিশ্চিত নয়। অবশ্য ফেবারিট না হয়েও ১৯৯২ সালে এই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকেই ট্রফি জয় করেছিল ইমরান খানের পাকিস্তান!

এশিয়ার দল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সবার আগে আসবে ভারতের নাম। দলটি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখার কঠিন মিশন মহেন্দ্র সিং ধোনিদের সামনে। যদিও সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স ও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে মহেন্দ্র সিং ধোনিদের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি নিয়ে বড় রকমের প্রশ্ন থাকছে! আড়াই মাস আগে গিয়েও এখন পর্যন্ত ছন্দহীন ক্রিকেট-মোড়লরা। প্রথমে টেস্ট সিরিজে ২-০তে হারের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডেতে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে মাথা নোয়ায় ভারত। যদিও এক টেস্ট সিরিজের ফল দিয়ে বিচার করা যায় না। ২০১২-২০১৩ মৌসুমে ইংল্যন্ড-অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ভরাডুবির পরও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে ক্রিকেটের সব কটি বৈষয়িক শিরোপা ঘরে তুলেছিল তারা। বর্তমানে ওয়ানডেতে র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে ভারত। র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরাদশের দুই ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি-শিখর ধাওয়ান, বোলিংয়ে ভুবনেশ্বর। তার চেয়ে বড় দলটির অধিনায়ক ‘ক্যাপ্টেন কুল’ ধোনি। যাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ আটাশ বছর পর গতবার শিরোপা পুনরুদ্ধার করে ভারত। শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে বাজিমাত করে। এরপর একে একে আইসিসির সবগুলো ট্রফি শোকেসে সাজিয়েছেন ধোনি। শিরোপা ধরে রাখতে জীবন বাজি রেখে লড়বেন কোহলি, ধাওয়ান, রবিচন্দ্রন আশ্বিনরা।

ধোনির নেতৃত্বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ২০১২ সালে ১২টি করে জয়-পরাজয়ের রেকর্ড নিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ছিল মিশ্র অবস্থানে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার পর র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানেই আছে চ্যাম্পিয়নরা। তবে গত বছরের কিছু কিছু হার ধোনি এবং কোচ ডানকান ফ্লেচারকে সবচয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলবে। বিশেষ করে যেখানে সাতটি ম্যাচই ভারত পরাজিত হয়েছে দেশের বাইরে! বিশ্বকাপে নামার ঠিক আগ মুহূর্তে ত্রিদেশীয় সিরিজেও অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাছে টানা দুই ওয়ানডেতে হারে তারা! নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মাটিতে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ও ত্রিদেশীয় সিরিজে দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সেরে নিতে যে মরিয়া সন্দেহ নেই। ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দী পাকিস্তানের বিপক্ষে এডিলেডে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। শক্তিশালী ব্যাটিং ইউনিট নিয়ে ভারত সব সময়ই আলাদা আত্মবিশ্বাসে থাকে। যা এবারও তাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে।

ভারতের পর উঠে আসবে শ্রীলঙ্কার নাম। ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়ন, ২০০৭ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত এবং চার বছর আগে ভারতের কাছে পরাজিত হওয়া শ্রীলঙ্কা গত বছরের অন্যতম ধারাবাহিক দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে। এশিয়ার কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপের মতো দুটি বড় আসরের অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসদের সাফল্য তো সবারই জানা। যদিও ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ হোয়াইটওয়াশের পর বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজেই অত্যন্ত বাজেভাবে হারে লঙ্কানরা! প্রধান পেসার লাসিথ মালিঙ্গার সুস্থতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পুরোপুরি ফিট নন স্পিনার রঙ্গনা হেরাথও। নিউজিল্যান্ডের কাছে বাজে হারের পর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ সনাথ জয়সুরিয়া। যদিও দলে আছেন কুমারসাঙ্গাকার-মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারতেœ দিলশানের মতো মহাতারকা। আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানকে নিয়ে বিশেষ করে না বললেই নয়। আরব আমিরাতে দুর্ধর্ষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের পর নিউজিল্যান্ডের কাছে খেই হারায় দলটি। ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা পাচ্ছে না দলের বড় তারকা স্পিনার সাইদ আজমলের সার্ভিস। অবৈধ বোলিং এ্যাকশনের কারণে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন আজমল। মিসবাহ উল হক এবং অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির মধ্যে অধিনায়নায়কত্বের টানা-হেঁচড়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা উড়িয়ে দিয়ে মিসবাহর ওপরই ভরসা রখার কথা জানিয়ে দেয় দেশটির বোর্ড। মাঠের বাইরের সমস্যা ছাড়া পাকিস্তানকে মোটেই খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। দলে এমন কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন যাদের সঙ্গে ১৯৯২ সালের ইমরনা খানের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অনায়াসেই তুলনা করা যায়। আছেন শহীদ আফ্রিদি, ইউনুস খান, মিসবাহ উল হকরা। বাংলাদেশ-আফগানিস্তান আগামীর শক্তি। নিজেদের দিনে যেকোন দলকে ভড়কে দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে উভয়েরই। যদিও আফগানরা এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে এবং ২০ সালের বিশ্বকাপে ভারতকে বিদায় করে দেয়া বাংলাদেশকে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশই সমীহ করে চলে। যদিও ২০১৪ সালটা মোটেই ভাল কাটেনি টাইগারদের। ছিল না একটিও জয়! তবে সর্বশেষ সিরিজে জিম্বাবুইয়েকে পর্যুদস্তু করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় মুশফিকুর রহীম-তামিম ইকবালরা। মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের তুরপের তাস হয়ে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নকআউট পর্বে টাইগারদের নিয়ে অন্য দেশগুলোর সব সময়ই আলাদা একটি ভাবনা থাকবে। আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ছাড়া আছে শক্তিধর শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫

২৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: