কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাশরাফিদের বিশ্বকাপ মিশন ॥ স্বপ্ন যখন সুদূরপ্রসারি

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫
মাশরাফিদের বিশ্বকাপ মিশন ॥ স্বপ্ন যখন সুদূরপ্রসারি
  • রোকসানা বেগম

নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপে অংশ নিতে এখন অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। শনিবার রওনা দিয়ে রবিবারই অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে পৌঁছে গেছে। অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছে। এখন অপেক্ষা প্রস্তুতি ম্যাচগুলো শেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার।

ব্রিসবেনে বাংলাদেশ দুই সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্প করবে। ক্যাম্পে শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার যুদ্ধে নামতে হবে। উইকেটের সঙ্গেও নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে ক্রিকেটারদের। ব্রিসবেনেই অস্ট্রেলিয়া একাদশ নামে একটি দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে।

প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে দল চলে যাবে সিডনিতে। সেখানে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে আইসিসির তত্ত্বাবধানে চলে যাবে বাংলাদেশ। গায়ে লাগবে বিশ্বকাপের উত্তাপ। সিডনিতে ৯ ও ১২ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে ক্যানবেরায় ১৮ ফেব্রুয়ারি মাশরাফিরা বিশ্বকাপের আসল মিশন শুরু করবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করবে মাশরাফিরা।

দেশ ছাড়ার আগে সবার শুভকামনা চেয়েছে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা ভাল একটি অবস্থানে যেতে চাই। আমরা যেন তা করতে পারি এ জন্য সবাই দোয়া করবেন।’ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে গেছেন তরুণ ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানি, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, মুমিনুলরা। তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বেশি উদ্দীপনা কাজ করার কথা। করেছেও। বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে ১৩ ক্রিকেটার ও ৭ টিম ম্যানেজমেন্ট গেছে। বিগব্যাশ খেলে অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়া বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দলের সঙ্গে যাননি। পরে ব্রিসবেনে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাকিব। আর মেলবোর্ন থেকে চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবালও দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

এ বিশ্বকাপেও সব ক্রিকেটারই চায় দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাতে। মাশরাফিই যেমন বলেছেন, ‘আমার চেষ্টা থাকবে প্রত্যেকটি ম্যাচে দলের প্রয়োজনে কন্ট্রিবিউশন করা। এ ছাড়া অধিনায়ক হিসেবে দলকে উজ্জীবিত করতে ভূমিকা রাখা। আমাদের যোগ্যতা আছে বিশ্বকাপ মঞ্চে ভাল কিছু করার।’ দেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, ‘আমরা ক্রমেই উন্নতি করতে থাকা একটি দল। বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে যে আমরা অনেক উন্নতি করেছি, হারিয়ে দিতে পারি বড় দলগুলোকে। ২০০৭ বিশ্বকাপে আমরা পেরেছি, হারিয়েছি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। আশা করি, এবারও আমরা কয়েকটি বড় দলকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলব।’ বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ মঞ্চে বাংলাদেশের কারও কোন সেঞ্চুরি নেই। আমার চেষ্টা থাকবে সেঞ্চুরি করার। আমাদের শুরুটা ভাল করতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’ মুশফিকুর রহিম বলেছেন, ‘আগের বিশ্বকাপগুলোতে ভাল কিছু করতে পারিনি। এবার চাই বিশ্বকাপ মঞ্চে ভাল কিছু করতে। এই বছরের শুরুটা হচ্ছে বিশ্বকাপ দিয়ে; এখানে নিজের সেরাটা দিতে চাই। দলকে জেতানোর মতো ইনিংস খেলতে চাই।’ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ‘এবার বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির অধরা স্বপ্নটাকে পূর্ণতা দিতে চাই। জিম্বাবুইয়ে সিরিজে আত্মবিশ্বাস একটু বাড়িয়ে নেয়ায় আমার জন্য একটু সুবিধাই হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভাল কিছুই করবে।’

সেই ভাল কিছু করা মানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বলেছেন, ‘আশার তো শেষ নেই। পারলে তো শেষ পর্যন্ত যেতে চাই। আমরা চেষ্টা করব দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ রয়েছে। এ ম্যাচ দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার পথে হাঁটবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্যই আবার আফগানিস্তানকে হারানো। শুরুটা ভাল করা গেলে সে আত্মবিশ্বাসটাও বাড়িয়ে নেয়া যায়। এমনটিই মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘শুরুটা ভাল করতে হবে। তাহলে সবাই একটা প্ল্যাটফর্ম পাবে। এরপর থেকে বড় ম্যাচগুলো আসবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুতেই। শুরুটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারলে সব দলকেই হারাতে পারব। তবে শুরুটা ভাল মতো করতে পারলে সব দলের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে পারব।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ব্রিসবেনে শুরুতেই দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে দল। সেখানেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ হবে। অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশ খেলবে মেলবোর্নে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২৬ ফেব্রুয়ারি হবে ম্যাচটি। এ ম্যাচটি শেষে বাংলাদেশের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকবে। যে ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে জিততেই হবে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ অন্তত দুটি ম্যাচ জিতবে; তা ধরেই নেয়া হচ্ছে। একটি, আফগানিস্তানের বিপক্ষে; আরেকটি, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। ৫ মার্চ স্কটল্যান্ডই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ থাকছে। তবে ম্যাচটি হবে নিউজিল্যান্ডের নেলসনে আবার বাংলাদেশকে ৯ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আসতে হবে অস্ট্রেলিয়ায়। এ্যাডিলেডে যে এ ম্যাচটি হবে। এরপর আবার যেতে হবে নিউজিল্যান্ডে। গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ম্যাচটি স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। খেলাটি নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে হবে। এ ম্যাচটি শেষেই বোঝা যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাংলাদেশ পূরণ করতে পেরেছে কিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হলে গ্রুপ পর্বে ৭ দলের মধ্যে পয়েন্ট তালিকায় সেরা চারে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। এ জন্য চারটি ম্যাচ জিততে হবে। তিনটি ম্যাচ জিতলে রানরেটে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে চারটি ম্যাচ জিতলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আত্মবিশ্বাস যেন এখনই আছে বাংলাদেশের। তাই তো বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে জয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোন দলের দিকে তাকিয়ে নেই। নির্দিষ্ট কোন দলকে টার্গেট করলে দলের ওপর অনেক চাপ থাকবে। আমাদের গ্রুপে যারা আছে তাদের প্রত্যেককেই আমরা বিভিন্ন সময়ে হারিয়েছি।

এমন না যে আমাদের কন্ডিশনে জিতেছি। ওদের কন্ডিশনেও আমরা জিতেছি। ইংল্যান্ডকে ওদের মাটিতে, অস্ট্রেলিয়াকে কার্ডিফে হারিয়েছি। কোন নির্দিষ্ট দল নিয়ে না, প্রতিটি দলকে নিয়ে কাজ করছি। আমাদের বেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারলে সব দলকেই হারাতে পারব।’ বাংলাদেশ শুরুতে আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারাক, এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠুক; এই আশাই সবার। তা পূরণ হলেই এখন হয়।

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫

২৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: