আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিদ্যুতের লাইফ লাইনে পরিবর্তন চায় বিতরণ কোম্পানি

প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ

রশিদ মামুন ॥ বিদ্যুতের লাইফ লাইনে (প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দেয়া কম দামের বিশেষ সুবিধা) পরিবর্তন চায় বিতরণ কোম্পানি। নিম্ন আয়ের মানুষকে বিদ্যুত সুবিধা দিতে সরকার বিশেষ এই সুবিধা দিয়েছে। এখনকার বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ প্রথায় প্রথম ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের লাইফ লাইন গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ গরিব মানুষকে দেয়া এই সুবিধা ২০ ইউনিট কমিয়ে নির্ধারণের জন্য সব বিতরণ কোম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে আবেদন করছে। সø্যাব প্রথার পুনর্বিন্যাসে বিতরণ কোম্পানির লাভ হলেও নিম্ন আয়ের মানুষ আর কম দামে বিদ্যুত পাবেন না। একই সঙ্গে বেশিরভাগ গ্রাহক লাইফ লাইনের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন।

প্রান্তিক গ্রাহককে বিদ্যুত সুবিধা দিতে প্রথম ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারীর জন্য বিদ্যুতের দাম কম রাখা হয়। আগে এই সুবিধা প্রথম ১০০ ইউনিটে থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা কমিয়ে ৫০ এ নামিয়ে আনা হয়। নির্ধারিত এই সীমায় প্রান্তিক মানুষ বিদ্যুত সুবিধা পেয়ে থাকেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে শিক্ষা, সচেতনতা এবং বিজ্ঞান মনস্কতা বৃদ্ধির জন্য সকল উন্নয়নশীল দেশ এই সুবিধা দিয়ে থাকে। দেশেও এই সুবিধা রয়েছে। হিসেবে দেখা গেছে একেবারে প্রান্তিক মানুষ প্রথম ৫০ ইউনিটের মধ্যে তাদের ব্যবহার সীমিত রাখলে ১৭৫ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিদ্যুত বিল সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এর উপরের ধাপে গেলেই বিদ্যুত বিল বাড়তে থাকে। এভাবে যতবার বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ধাপের পরিবর্তন হবে ততবারই বিল বৃদ্ধি পাবে। এখন বিদ্যুত বিলের প্রথম সø্যাব এক থেকে ৫০ এর স্থলে এক থেকে ৩০ ইউনিট নির্ধারণের সুপারিশ করছে বিতরণ কোম্পানি। প্রথম সø্যাবের তুলনায় দ্বিতীয় সø্যাবে গিয়ে বিল প্রতি ইউনিটে এক থেকে দেড় টাকা বেশি প্রস্তাব করছে বিতরণ কোম্পানি। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্র জানায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে সবগুলো বিতরণ কোম্পানি বিদ্যমান বিদ্যুতের দামে লাভ করছে। এর উপর সামান্য পরিমাণ বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধি করলেও বিতরণ কোম্পানিগুলো লাভই করবে। এরপরও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিল বাড়িয়ে নিতে সø্যাব পরিবর্তনের জন্য আবেদন করছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুতের দাম সেভাবে না বাড়লেও সø্যাব বা ধাপ পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করলে বিতরণ কোম্পানির বিপুল পরিমাণ মুনাফা হবে। এর আগে সø্যাব পরিবর্তন হলে আগের সø্যাবের সুবিধা না পাওয়ার বিধানে সায় দিয়েছিল এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এত একজন গ্রাহকের বিদ্যুত বিল কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরে কমিশন ওই প্রথা বাতিল করে। এর মধ্যে গ্রাহকের কাছ কয়েক শ’ কোটি টাকা তুলে নেয় বিতরণ কোম্পানি। তখন কমিশন বুঝেছিল কোম্পানিগুলোকে এ ধরনের অনৈতিক সুুবিধা দেয়া কমিশনের ভুল ছিল। এখন আবার বিতরণ কোম্পানিগুলো একই চালাকি করছে।

আরইবি সূত্র জানায়, শুধু গ্রামীণ এলাকায় তাদের এমন নয় লাখ প্রান্তিক গ্রাহক রয়েছেন। যারা সমাজের একেবারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। দেখা গেছে একটি পরিবারে দুটি বাতি একটি পাখা এবং একটি টেলিভিশন ব্যবহার করলেই কেবল ৫০ ইউনিটের মধ্যে ব্যবহার সীমিত রাখা যায়। দেশে বিদ্যুতের ব্যাপক বিস্তারে শিক্ষার হার যেমন বেড়েছে তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এলাকায় বিদ্যুত রয়েছে সেখানের শিক্ষার হার বিদ্যুতবিহীন এলাকার তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে বিদ্যুত রয়েছে এমন গ্রামীণ জনপদ অন্য এলাকার তুলনায় এগিয়ে। সেখানে সø্যাব প্রথা নির্ধারণে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতির এই ধারা বিঘিœত হবে।

সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের কাছে বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দিতে চায়। সেজন্য বিশাল এক কর্মযোগ্য চলছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছরই বিদ্যুতের নতুন সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুত বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হলে তাদের জীবনযাত্রার উপর চাপ বাড়বে।

শুধু গ্রামীণ এলাকার মানুষই নয় শহরের মানুষকে এই সুবিধা দিতেও প্রত্যেকটি বিতরণ কোম্পানির রয়েছে লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য ব্যবস্থা। তবে শহরের লাইফ লাইন গ্রাহকের তুলনায় গ্রামের একই ধরনের গ্রাহকদের বেশি বিদ্যুতের দাম দিতে হয়। শহরের বস্তিবাসী অথবা নিম্ন আয়ের মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছেন। শহুরে কোম্পানির লাইফ লাইন গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুত পান ৩ টাকা ৩৩ পয়সা দরে।

প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারী ২০১৫

২৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: