মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বপ্নের মেট্রোরেল নির্মাণে সংসদে বিল পাস

প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারী ২০১৫

সংসদ রিপোর্টার ॥ রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে বহুল আলোচিত স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের পর্দা উঠলো। মেট্রোরেল আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার জাতীয় সংসদে ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৫’ নামের বহুল আলোচিত বিলটি পাস হয়েছে। এ বিলটি পাসের মাধ্যমে রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর কাজ আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত সরকার স্বল্পব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

বিলটি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের এবং বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প হচ্ছে দেশের ইতিহাসে প্রথম এ মেট্রোরেল স্থাপন প্রকল্প। পদ্মা সেতুর মতো বর্তমান সরকার স্বপ্নের এ মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাইকা জানিয়েছে ৫ বছর আগেই অর্থাৎ এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালেই। ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দীর্ঘ নির্মিতব্য এ মেট্রোরেলের স্টেশন হবে ১৬টি। ভ্রমণ সময় হবে মাত্র ২৮ মিনিট। ঘণ্টায় এ মেট্রোরেল প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করতে পারবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে আর মেট্রোরেল জাইকার সহযোগিতায় হচ্ছে।

সোমবার বিকেলে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিলের ওপর বিরোধী দলীয় ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, হাজী মোহাম্মদ সেলিম, রুস্তম আলী ফরাজী জনমত যাচাই ও বাছাই প্রস্তাব জমা দিলেও তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এর আগে গত ৩০ নবেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলটি পাসের আগে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং জনসাধারণকে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা দেয়ার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ প্রথম মেট্রোরেল চালু হবে। তাই মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। সেজন্য এ বিলটি আনা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত বিলে মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া মেট্রোরেল পরিচালনা ও অনুমোদন ছাড়া মালিকানা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ রেল স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলে চলাচলকারী সকলের বীমা থাকবেন। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।

বিলে এ রেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি, বিনা টিকেটে ভ্রমণ এবং নিরাপত্তা বিঘিœত করলে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে রয়েছে ১০ বছর কারাদ- ও এক কোটি টাকা জরিমানা। বিলে মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য বীমার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ আইনের বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন ॥ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন-২০১৫ বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের জনস্বার্থ সংস্থাসমূহের, বিশেষ করে কর্পোরেট সেক্টর, পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশন, সরকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা, ব্যাংক, আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়ন, হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা কাজে সংশ্লিষ্টদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ রেগুলেটারি সংস্থা গঠনের জন্য এ বিলটি আনা হয়েছে। এ সংস্থাটি গঠিত হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে বিলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারী ২০১৫

২৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: