কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শীতার্তদের পাশে

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫
শীতার্তদের  পাশে
  • এইচএসএম তারিফ

দেশে বেশ কিছু দিন থেকেই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। এতে সকলেই শীতের তীব্রতায় জীবনযাপন কিছুটা হলেও পরিবর্তন করেছে। প্রচ শীতের শক্ত ছোবলের হাত থেকে বাঁচতে সবাই মোটা ও গরম বস্ত্র পরিধান করছে, তেমনি সন্ধ্যা হলেই নিজ ঘরে মধ্যে আশ্রয় নেন। যদিও এ চিত্রটি উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। ঠিক তার বিপরীত চিত্র নিম্নবিত্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের। এসব মানুষ শীতের দিনগুলো কাটাচ্ছে খুবই করুণ-অসহায়ভাবে। অর্থের অভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে না পারায় শীতের প্রতিটি দিন কাটাতে হয় অসহনীয় যন্ত্রণার সঙ্গে। অনেক সময় শীতবস্ত্র না থাকায় শীতে আক্রান্ত হয়ে নিম্নবিত্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের অধিকাংশ শিশুদের শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হতে হয়। ফলে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এ রূপ চিত্র কিছুটা হলেও বদলে দিতে পারে দায়িত্বশীল বিত্তবান ও প্রতিষ্ঠানসহ দেশের উদ্যমী তরুণ সমাজ। দেশের অনেক সমাজসেবী মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এসব দুস্থ ও অসহায় মানুষকে শীতের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দিচ্ছেন শীতবস্ত্র। তেমনি দেশের তরুণরাও সংগঠিত হয়ে নিজেদের সামর্থের সঙ্গে অন্যের সাহায্য নিয়ে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে শীতার্থ মানুষদের নিকটে গিয়ে তুলে দিচ্ছে। এর ফলে দেশের অসংখ্য শীতার্থ মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকার, বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিসের তরুণরা একত্র হয়ে প্রচারণা চালিয়ে শীতবস্ত্র বা অর্থ সংগ্রহ করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ বস্ত্র সংগ্রহ করে অধিক শীতে আক্রান্ত এবং দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে গিয়ে শীতার্থ মানুষের হাতে তুলে দিয়ে আসছে। রাজধানী শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তা পরিবাগে অবস্থিত পথশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দানকারী সংগঠন প্রথম সূর্য এবার শীতে জামালপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুস্থ শীতার্থদের মাঝে একশটির অধিক কম্বল ও তিন বস্তা পরিধানযোগ্য শীতবস্ত্র বিতরণ করে। শীতবস্ত্র বিতরণ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রথম সূর্যে’র অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের (মিডফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) ইন্টার্ন ডাক্তার ডাঃ ফাহাদ বলেন, ‘শীতকালে প্রচ ঠা ায় আমাদেরই প্রচ কষ্ট হয়। আমরা অধিক শীতবস্ত্র এবং রাতের বেলায় কম্বল গায়ে দেয়ার পরও শীতের কষ্ট কিছুটা হলেও পাই। কিন্তু যারা দুস্থ, যাদের শীতের পোশাক ক্রয় করার সাধ্য নেই তাদের প্রতিটি দিন কাটছে প্রচ কষ্টে। এ সময় তাদের অনেকে শিশুসন্তান নিয়ে ভাসমান জীবনযাপন করে একটু আরামের আশায়। কিন্তু যা একেবারেই অধিকতর কষ্টের। তাই আমরা কিছুসংখ্যক শীতার্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এক্ষেত্রে নিজেদের এবং অন্যের সহযোগিতা নিয়ে এসব বস্ত্র সংগ্রহ করা হয়। এ কাজের মাধ্যমে নিজেদের কিছুটা হলেও সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।’ প্রতিটি মানুষই সমাজের সদস্য। তাই যে কেহ সমস্যায় জর্জরিত থাকলে তাদের প্রতি দৃষ্টি দেয়া এবং সাধ্যমতো সহযোগিতা করা আমাদের কর্তব্য। শীতার্থদের মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়ানো সম্পর্কে ঢাকায় অবস্থিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কনসাস ইয়ুথ ভলেন্টিয়ার নেটওয়ার্কের (সিভন) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাহমুদ-উল-আলম বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত বলে থাকি মানুষ মানুষের জন্য। কিন্তু মুখে এ কথা বললেও কাজে তা করার চেষ্টা করি না সবাই। অনেকে মনে করেন, মানুষের জন্য কাজ করা অনেক কষ্টের এবং অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা, নিজের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেই মানুষের সেবা ও সাহায্য করা সম্ভব। সমাজের প্রতিটি অসহায় মানুষের এবং বিশেষ করে এ শীতের সময় শীতার্থদের মানুষের সাহায্যার্থে পাশে থাকা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।’ শীতের এসময় আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাসম্পন্ন বেশ কয়েকজন মিলে পরিচিত এবং আশপাশের বড় ও ছোট সকলের নিকট হতে পরিধানযোগ্য শীতবস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানের দুস্থ ও অসহায় মানুষদের নিকট শীতবস্ত্র বিতরণ করে সমাজ ও মানুষের সেবায় নিজেকে জড়িয়ে রাখা সম্ভব।

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫

২৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: