কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যথাসময়ে কাজ শেষ করবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫
যথাসময়ে কাজ শেষ  করবেন যেভাবে

অনেক মানুষই আছেন যাঁরা অযথাই কাজকর্ম ধীরে ধীরে করেন। এর জন্য হয়ত সব জায়গাতেই আপনাকে কথা শুনতে হয় এবং আপনি নিজেও লজ্জিত থাকেন। আচ্ছা, এই যে আপনার কাজের ধীর গতি, কেন আপনি দ্রুত কাজ করতে পারেন না। কেন সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেন না। একি কখনও ভেবে দেখেছেন? আপনি কখনও কি দ্রুত হাতের কাজগুলো করার চেষ্টা করেছেন? নাকি আপনার ধারণা দ্রুত কাজ করলে সঠিকভাবে করা যায় না? এসব কিছু না ভেবে নিজেকে একটু বদলে ফেলুন। কারণ দ্রুত কাজ করেও সঠিকভাবে কাজ করলে তা সম্পন্ন করা যায়। এটা সম্পন্নভাবেই নিজের ওপর নির্ভর করে। মনে রাখবেন সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং সময় মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা সারা জীবন মেনে চলতে হয়। না হলে আপনার সফলতার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই বিষয়। তাই আগেই নিজের এই অভ্যাস ত্যাগ করে সময়কে দাম দিতে শিখুন। সঠিকভাবে দ্রুত কাজ করা এবং সময়ের মধ্যে কর্ম শেষ করার কিছু সহজ পদ্ধতি আছে। যেমন :

আপনার যদি কর্মস্থলে যেতে প্রায়ই দেরি হয়ে যায়, এবং অনেক চেষ্টা করেও আপনি সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারেন না। তাহলে আপনি যা করবেন। আপনার কর্মস্থলের সময় যদি সকাল ৯.০০টা হয়ে থাকে। তাহলে আপনি ধরে নিবেন ৮.৩০ মিনিট আপনার কর্মস্থলে সময়। এই আধা ঘণ্টা সময় মাথায় রেখে আপনি চেষ্টা করুন। দেখবেন অবশ্যই সঠিক সময়ের আগেই আপনি কর্মস্থলে পৌঁছে গেছেন।

হাতের কাজ দ্রুত শেষ করতে পারেন না? ধরুন আপনার গোসলে বিশ মিনিট লাগে। কেন? কারণ প্রতি গোসলেই আপনি সাবান। শ্যাম্পু ব্যবহার করেন বলে। সময় যদি বাঁচাতে চান তো একদিন পর পর শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। দেখবেন প্রতি গোসলে আপনার অনেক সময় বেঁচে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা আপনি যদি মাথায় এই চিন্তাটা রাখতে পারেন যে করেই হোক গোসলে পাঁচ মিনিট সময় কম লাগাবেন। এতেই বাঁচাতে পারবেন এবং এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।

প্রত্যেহ আপনি যে সময় ব্যয় করেন তা ভালভাবে জরিপ করুন এবং ভালভাবেই অনুধাবন করলেই বোঝা যাবে সময় কোথায় যায়।

কোন কাজটি করতে কত সময় লাগবে তা আগেই হিসাব করে নিন এবং সেই হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।

শর্টকাট পদ্ধতিতে কাজ করতে পারলেও অনেক সময় বাঁচানো যায়।

নিজেকে কখন কোন কাজে লাগাবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে ফেলুন। কিভাবে অযথা সময় ব্যয় করছেন তারও একটা তালিকা করুন।

আপনি যে সকল কাজে অদক্ষ তা সতর্কতার সঙ্গে করতে চেষ্টা করুন। যে সমস্ত কাজ আপনার করণীয় তা আজ হোক আর কাল হোক সুষ্ঠুভাবে তা আপনাকেই করতে হবে। সদিচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব।

যদি আপনার কাজের কথা মনে রাখতে না পারেন। তাহলে যা করবেন প্রয়োজনীয় সব কাজের তালিকা করে রাখুন। আসল বিষয় হলো পদ্ধতিগত বিন্যাসের মাধ্যমে কাজ যেমন সহজ হয়ে ওঠে তেমনি সময়ও অপচয় হয়।

‘হাউ টু লিভ অন টোয়েন্টিফোর আওয়ার্স এ ডে’ গ্রন্থটিতে লেখক মি. আর্নল্ড লিখেছিলেন : জীবনের সময় চলে যাওয়াটা সত্যই অলৌকিক বিষয়। সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর অবাক বিস্ময়ে দেখতে পাবেন যে, আপনার জীবনে চব্বিশটি ঘণ্টা মন্ত্রবলেই যেন প্রকৃতি আপনার মূলধনের সঙ্গে গেঁথে দিয়েছেন। আপনাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি সারা জীবন ধরে বলেন না। আর একটু সময় পেলেই আমি জীবনের অনেক পরিবর্তন আনতে পারতাম। আসলে সত্য যা, তাহলো আমরা আর কখনই এর চেয়ে বেশি সময় পাব না। আমাদের হাতে সময় আছে। সবসময় ছিল আর তা ভবিষ্যতেও থাকবে। মনে রাখবেন সময়কে যে যত বেশি কাজে লাগাতে পারে, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারে সে সফল হবেই।

শহিদুল ইসলাম

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫

২৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: