কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই নেত্রীর আলোচনা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫
  • মুনতাসীর মামুন

(২৫ জানুয়ারির পর)

আওয়ামী লীগের বহুদিনের তত্ত্ব, বিএনপি-জামায়াতকে আলাদা করা যাতে নির্বাচনে ভোটের সুবিধা হয়। এই অবস্থান আদর্শগত দিক থেকেও বেশি সুবিধাবাদ। প্রথমে দেখা যাক দুটি দলের আদর্শ ও লক্ষ্য কি? কয়েকটি উদাহরণ দেবÑ

১. বিএনপি ও জামায়াত ঐতিহাসিকভাবে ভায়োলেন্সে বিশ্বাসী এবং ভায়োলেন্সের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে বা দখলে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে যদি সাধারণ মানুষেরও কষ্ট হয় বা মৃত্যু হয় তাতেও তাদের আপত্তি নেই।

২. যুদ্ধাপরাধ বিচারে দুটি দলেরই আপত্তি। দুটি দলেই রাজাকারের সংখ্যা বেশি। এবং বর্তমান সংঘাতের কারণও তাই।

৩. পাকিস্তান সংসদ যখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে তখন জামায়াত নিশ্চুপ থাকে এবং বিএনপি ‘মর্মাহত’ হয়। প্রেমিক চলে গেলে মর্মাহত হতে পারে কেউ। কিন্তু নিন্দা প্রস্তাব বা প্রতিবাদ ‘মর্মাহত’ থেকে আলাদা বিষয়।

৪. বিএনপি ঐতিহাসিক হিসেবেই জামায়াতের সাথী। আওয়ামী লীগের নয়।

৫. গত বছর নির্বাচনের আগে ও পরে যৌথভাবেই তারা মানুষ পুড়িয়ে, কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করেছে। ১০০০-এর বেশি যানবাহন পুড়িয়েছে। অগণিত মানুষকে জখম করেছে।

৬. এখনও যৌথভাবেই তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে, জখম করছে। যানবাহন পুড়িয়েছে এবং পোড়াচ্ছে।

৭. খালেদা জিয়া ও তার পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছেন। জামায়াতী জঙ্গীরাও শেখ হাসিনাকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চেয়েছে। গ্রেনেড হামলায়ও জঙ্গীরা প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

৮. দু’দলই সংলাপ এবং পরে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে সংলাপ চায়।

তাহলে বিএনপি-জামায়াত এ দুটি দল আলাদা হলো কিভাবে? এমন যদি হতোÑ তিনটি দলই মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী, তাহলে এই তত্ত্ব খাটত। জামায়াতকে গালাগাল করার একটি সুবিধা আছে। কারণ, দেশবাসী একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে যে, তারা অপরাধী। জামায়াত ১৯৭১ সালে যে ভূমিকা রেখেছে তা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। সেজন্য জামায়াতকে সব সময় দোষী করা সহজ। আমাদের অনেকের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। স্বার্থগত কারণেই কি আমরা বিএনপিকে আলাদাভাবে দেখাতে চাই?

ধরা যাক, নির্বাচনে একটি এলাকায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিএনপি-জামায়াত আলাদা হলে কি জামায়াত সমর্থকরা নৌকায় ভোট দেবে? কখনই না। ১৯৭১ যেমন পাকিস্তান ভোলেনি, জামায়াতও কখনও তা ভোলেনি। এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের কারণে কখনও জামায়াতীরা ভোট দেবে না আওয়ামী লীগকে। এ সহজ সত্যটা কেন আমরা বিস্মৃত হই। চীনা বিপ্লবের সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টি একই সঙ্গে কুওমিনটাং ও জাপানীদের বিরুদ্ধে লড়েছিল। এখানেও প্রতিরোধটা দুই ফ্রন্টে হতে হবে। জামায়াত-বিএনপির রাজনীতি যেহেতু একই রকম সে কারণে দুটি দলের রাজনীতি প্রতিরোধই বাঞ্ছনীয়। আরেকটি উদাহরণ দিই, বঙ্গবন্ধুকে বিএনপি সব সময় হেয় করে। কিন্তু জামায়াত কি পূজা করে তাঁকে? বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে দুটি দলের ভূমিকাও এক রকম। এ ক্ষেত্রে তাহলে কী হবে?

আমাদের মনে রাখতে হবে দুটি দলই এখন একদল। জামায়াত নিষিদ্ধ করলে তারা সব বিএনপি করবে। নাকি আওয়ামী ভাইরা মনে করে তারা আওয়ামী হবে? এই ভুল তত্ত্ব অনেক আওয়ামী নেতা গ্রহণ করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রায়ই বলেন, বৃক্ষ কর্তনের আগে তার ডালপালা ছাঁটতে হয়। আমি বলি, এখন আর সেই সময় নেইÑ গাছের গোড়ায়ই তোপ দাগতে হবে।

আমরা মনে করি, যা আগেই উল্লেখ করেছি তা হলো, বাংলাদেশে রাজনীতি করলে সবাইকে বাংলাদেশের মূল স্পিরিটটাকে সমর্থন করতে হবে। আধাআধি কোন ব্যাপার নেই। তা না হলে এ দ্বন্দ্ব থাকবেই। দু’নেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি বিচার করলেও তা প্রতিভাত। পরে তা খানিকটা আলোচনা করব। কারণ, এ দৃষ্টিভঙ্গিও রাজনীতি প্রভাবিত করে।

আমাদের মনে রাখা উচিত, বিএনপির নেতা তারেক জিয়া বলেছিলেন। জামায়াত-বিএনপি একই বৃন্তে দুটি ফুল। আমি মনে করি, তারেক এ ব্যাপারে স্বচ্ছ। আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় নেতা ও তাদের সমর্থকরা এ ব্যাপারে স্বচ্ছ নয়।

৭.

দুই নেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি

একটা উদাহরণ দিলে দুই দলের নেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যাবে। আমি অনেকবার লিখেছি এবং বলেছিও যে, খালেদা জিয়া কখনও কোন প্রশ্নের উত্তর দেন না। প্রেস কনফারেন্স করলে তো নয়ই। ‘আত্মমর্যাদাসম্পন্ন’ সাংবাদিকরা কেন যান সেসব সংবাদ সম্মেলনে? এ ধরনের বক্তব্যে সংবাদকর্মীদের অনেকেই আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। কিন্তু তাতে মূল যুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়নি। এ প্রসঙ্গে দুটি ঘটনার উল্লেখ করি। ২০১৪ সালে অবরোধের সময় ব্যবসায়ীদের একটি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইল। তিনি তাঁর অন্যান্য কর্মসূচী বাতিল করে দুই ঘণ্টা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করলেন। এরপর ব্যবসায়ী নেতারা গেলেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে। তিনি দেখা করলেন না বরং একজন পার্শ্বচরকে পাঠালেন স্মারকলিপি গ্রহণ করার জন্য।

নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে তিনি এক গ্র্যান্ড সাংবাদিক সম্মেলন করলেন। বিরাট এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে উঠে চলে গেলেন।

(চলবে)

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫

২৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: