মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মধ্যবিত্তের জন্য ওবামা

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মধ্যবিত্তদের জন্য দরদি। মধ্যবিত্তদের সুখ-শান্তির প্রতি বেশিই গুরুত্ব দেন তিনি। আবারও সেটাই প্রমাণিত হলো। ষষ্ঠ বার্ষিক স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কল্যাণের বিষয়টি বার বার উঠে এসেছে। তিনি দেশের এই শ্রেণীর উন্নয়নের জন্য প্রগতিশীল নীতি গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আয় বৈষম্য কমানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কল্যাণের জন্য তিনি সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ার কথা তাঁর ভাষণে জানিয়েছেন। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কল্যাণের জন্য আয় বৈষম্য হ্রাস যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর ভাষণে ওঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কি এমন অর্থনীতি চাই, যেখানে হাতেগোনা কয়েকজনই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে? নাকি এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করা হবে যেখানে সবার জন্য আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’ সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির জন্য রিপাবলিকানদের আহ্বান করে বলেন, ‘কংগ্রেসে এখন পর্যন্ত যারা সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির বিপক্ষে রয়েছেন তাঁদের আহ্বান জানাচ্ছি সর্বনিম্ন মজুরি বাড়াতে হাজার হাজার খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে ভোট দিন।’ ওবামা তাঁর ভাষণে ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। ওবামা পুরো ভাষণে যেসব কর্মসূচী, পরিকল্পনা ও আহ্বান জানিয়েছেন সেগুলোর সারমর্ম সমাজ থেকে আয় বৈষম্য দূর করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কল্যাণ সাধন।

ভাল থাকবে সৌদি অর্থনীতি

তেলের দামের অস্বাভাবিক নিম্নগতি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাজস্ব আয় হুহু করে কমে গেছে। অনেক দেশকেই তাদের বাজেট পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের রাজস্ব আয় কমে গেলেও তেমন কোন সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক জ্যেষ্ঠ তেল উপদেষ্টা মোহাম্মদ আল সাব্বান। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম আরও আট বছরেও যদি না বাড়ে, তবুও ভাল যাবে সৌদি আরবের অর্থনীতি। আমাদের বর্তমান পরিকল্পনা হলো আন্তর্জাতিকভাবে দেশের বাজার ধরে রাখা। এজন্য তেলের দাম কম থাকলেও সৌদি অর্থনীতি টিকে থাকতে পারবে।’ এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাজার থেকে প্রান্তিক উত্তোলক ও রফতানিকারকদের বিতাড়িত করতে আমাদের অবশ্যই তেলের দাম যত নিচে নামতে পারে, ততটাই সহ্য করতে হবে।’ সৌদি আরবের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সৌদি অর্থনীতি অন্তত আরও আট বছর পর্যন্ত তেলের নিম্নমূল্যের মধ্যেই এগিয়ে যেতে সক্ষম। বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল রিজার্ভ এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয় কমাতে হচ্ছে সৌদি সরকারকে।’ এই উপদেষ্টার বক্তব্যেকে সমর্থন দিয়ে দেশটির তেলমন্ত্রী আলি আল নাইমি তেলের উৎপাদন না কমানোর বিষয়ে বলেন, ‘ওপেকবহিভূত তেল রফতানিকারকরা যদি চায়, তারা উত্তোলন কমাতেই পারে। তবে আমরা কমাচ্ছি না।’

ইসিবির বন্ড ক্রয় কর্মসূচী ঘোষণা

অবশেষে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) বহুল আলোচিত বন্ড ক্রয় কর্মসূচী তথা কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং (কিউই)’র ঘোষণা দিল। এই কর্মসূচীর মাধ্যেমে প্রতিমাসে ইউরোপের অর্থনীতিতে ৬০ বিলিয়ন ইউরো সরবরাহ করা হবে। ফলে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউরোপের অর্থনীতিতে এক ট্রিলিয়ন ইউরোর বেশি মুদ্রা প্রবেশ করবে। ইসিবির এই ঘোষণা নিয়ে পুরো ইউরোপজুড়েই দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জার্মানি, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, এস্তোনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বন্ড ক্রয় কর্মসূচীর ঘোষণার প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়া শুরু হয়েছে। ইউরোর মান কমে গিয়ে এখন ১ দশমিক ১৪১০৮ ডলার হয়েছে। আবার শেয়ারমূল্য সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। এই কর্মসূচী ইউরো জোন ব্যতীত ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর পণ্যের প্রতি চাহিদা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে সেইসঙ্গে তাঁরা শঙ্কাও প্রকাশ করছেন মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে। পণ্যমূল্য আরও কমে যাবে, যাতে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বন্ড ক্রয় কর্মসূচী নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখালেও আশার বাণী শুনিয়েছেন আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে। তিনি বলেন, ‘ইসিবির এই পরিকল্পিত কর্মসূচী ইউরোজোনে ঋণ নেয়ার খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি নিম্ন মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির মাত্রা কমে যাবে। ইসিবিকে এই কর্মসূচী মূল্যস্তরে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে।’ অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: