মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ক্রেতাশূন্য বাণিজ্যমেলা

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

নগর পুড়লে দেবালয় কি এড়ায়? না, এড়ায় না। আগুনের দহনে সব পুড়ে হয়ে যায় ছাড়খার। এখন দেশ পুড়ছে। পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে মানব ও মানবতা। ঝলসানো মুখ আর মাংসের গন্ধে হাসপাতালগুলোর বার্ন ইউনিটগুলো বীভৎস দৃশ্যে পরিপূর্ণ। কাঁদছে মানুষ, ধুঁকছে দেশ। কারণ টানা বিশদিনের সহিংস অবরোধ। পুরো দেশই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। রাজনীতিবিদদের পাশা খেলার ঘুঁটি যেন সাধারণ জনতা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ঠিক থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। প্রতিদিনই ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা। প্রতি সেক্টরেই ধস নেমেছে। ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার বিশতম আসর নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। করছেন লোকসানের শঙ্কা।

উৎসাহ-উদ্দীপনা আর প্রত্যাশা নিয়ে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ করলেও এখন সবার মাথায় হাত। অবরোধের কারণে ক্রেতাশূন্য বাণিজ্যমেলায় বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। অথচ স্টল ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। স্টল ভেদে স্টল খরচ, কর্মচারীদের খরচসহ অন্যান্য খাতে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন ব্যয় করতে হচ্ছে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা। কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রয়ের পরিমাণ অতি নগণ্য। লাভের চিন্তা এখন বিক্রেতারা করছেন না। খরচ উঠবে কিনা তা নিয়েই চরম দুর্ভাবনার মধ্যে সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিশ্বের চৌদ্দটি দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছেন। সব প্রতিষ্ঠানেরই একই দশা। শুধু শুক্র ও শনিবারে কিছু ভিড় থাকলেও সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিনে নামমাত্র বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় ক্রেতারা যেমন আসছে না বাণিজ্যমেলায়, তেমনি বিদেশী ক্রেতারাও। ফলে রফতানি অর্ডার গত বছরের থেকেও কম পাওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। ২০১০ সালে বাণিজ্যমেলার কল্যাণে দেশীয় উদ্যোক্তারা ২৩ কোটি টাকার রফতানি অর্ডার পেয়েছিল। ক্রমাগত তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০১৪ সালে আমরা দেখি রফতানি অর্ডার বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৬৮ কেটি টাকা। কিন্তু এবারের বাণিজ্যমেলায় রফতানি অর্ডারের ধসেরই শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত বছরও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। ৫ জানুয়ারির আগে পরে কিছুদিন আন্দোলন, ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে দেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছিল। তবে সরকার শক্ত হাতে বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল। প্রথমদিকের সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য বাণিজ্যমেলা দশ দিন বৃদ্ধি করাও হয়েছিল। এবং সবিশেষ দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের কারণে লোকসানের যে শঙ্কা করেছিল, তা থেকে উত্তোরণ করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইতোমধ্যে বিশটি দিন পার হয়ে গেছে। প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত বেচাবিক্রি তলানিতেই আছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এরা এত বেশিই বেপরোয়া হয়ে গেছে যে, তারা মানুষের জীবনের কথা ভাবছে না। আন্দোলন তো নয়, যেন পেট্রোলবোমার হোলি খেলায় মেতে উঠেছে তারা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে এবারের বাণিজ্যমেলা পুরোপুরিভাবেই লক্ষ্যার্জনে ব্যর্থ হতে পারে, এমনই শঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।

আরিফুর সবুজ

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: