আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উত্তরের সড়ক-মহাসড়কে নাশকতা দমনে বিজিবি আরও তৎপর হচ্ছে

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • ডিজি রংপুরে ॥ আজ কর্মকর্তাদের ব্রিফ করবেন

মানিক সরকার মানিক, রংপুর থেকে ॥ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের অর্ধশতাধিক পয়েন্ট এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এসব পয়েন্টকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আর এই ঝুঁকি মোকাবেলায় পুলিশ ও বিজিবির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যেই এই ১৬ জেলার পুলিশ প্রশাসনের বাইরেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রিজিয়ন সদর দফতর, রংপুরের অধীনে এসব জেলার সড়ক মহাসড়কে বিজিবির ৫২ প্লাটুন নিয়মিত কাজ করছে। এছাড়া আরও ২২ প্লাটুন রিজার্ভ রয়েছে। যে কোন প্রয়োজনে তারাও মাঠে নেমে আসবেন বলে জানিয়েছেন বিজিবির রংপুর রিজিয়ন সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার কমান্ডার মোঃ মাহফুজার রহমান। শুধু তাই নয়, যেহেতু এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধশত পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ তাই এসব এলাকায় বিজিবির কর্মতৎপরতা রণকৌশল সম্পর্কে অধীনস্ত কর্মকর্তাদের বিস্তারিত ব্রিফিং করতে শনিবার রংপুরে এসেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। আজ রবিবার তিনি তার কর্মকর্তাদের পরবর্তী কলাকৌশল সম্পর্কে ব্রিফিং দেবেন। এছাড়াও আজ তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন। কিন্তু এত কিছুর পর থেমে নেই চোরাগোপ্তা হামলা নাশকতার ঘটনা। ঘটেই চলছে প্রাণহানি আর অগ্নিদগ্ধের ঘটনা। উত্তরের ১৬ জেলায় চলমান এ অবরোধ হরতালে পেট্রোল বোমা আর নাশকতায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি এবং কমপক্ষে অর্ধশত অগ্নিদগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যু যাতনায় ছটফট করছেন। এদের অনেকের অবস্থাই এখন আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহত এই ১০ জনের মধ্যে শুধুমাত্র রংপুরেই রয়েছে ৭ জন।

শনিবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে আরও দু’জন ভর্তি হয়েছেন। অগ্নিদগ্ধদের মিছিলে ক্রমশই লম্বা হচ্ছে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটটি। শনিবার নতুন করে যে দু’জন ভর্তি হয়েছেন তারা হলেন দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকার ট্রাক চালক হামিদুর রহমান (৪৫) ও একই এলাকার একই ট্রাকের হেলপার আব্দুর রশিদ (৩৫)। ঢাকা থেকে দিনাজপুর ফেরার পথে শুক্রবার মধ্যরাতে দিনাজপুরের ভুষিরবন্দর এলাকায় পেট্রোল বোমার শিকার হন তারা। পরে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা জানান, দু’জনের মধ্যে হেলপার রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়াও এখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন গত বুধবার রাতে দিনাজপুরের কাহারোলে পেট্রোল বোমার শিকার দুই ট্রাকচালক আব্দুল মালেক ও রফিকুল ইসলাম।

উত্তরের ১৬ জেলার যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সেগুলো হলো রংপুরের মিঠাপুকুর, সদর উপজেলার হাজিরহাট, পীরগাছা, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি ও সুন্দরগঞ্জ, নীলফামারীর জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, দিনাজপুরের রানীবন্দর, ভুষিরবন্দর, কাহারোল, ঘোড়াঘাট, লালমনিরহাটের বড়বাড়ি, বগুড়ার মাটিডালি, গোদাগাড়িসহ ৫টি পয়েন্ট, সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের ২টি পয়েন্ট, রাহশাহীর মতিহার, পুঠিয়ার কাঠালবাড়ি ও খড়খড়ি বাইপাসহ ৬টি পয়েন্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪টি পয়েন্ট জয়পুরহাটের দুটি পয়েন্ট। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এসব সড়ক মহাসড়কের সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাশকতা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিলেও রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশকিছু পয়েন্টে নাশকতার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এসব এলাকায় অবরোধ চলাকালীন অন্তত ২০ বার নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এসব নাশকতায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অন্তত ৫০ জন। এদিকে বিজিবির সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় বিগত দিনে তারা ৫৯টি পিস্তল রিভলবার আটক এবং ২৪৮ রাউন্ড গুলি, ৫৪টি ম্যাগাজিন, ৩৩ কেজি গান পাউডার উদ্ধার করেছে। রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক জানান, মিঠাপুকুরসহ রংপুরের যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে সেসব এলাকায় কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই নাশকতা করতে দেয়া হবে না।

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: