কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিশুদের জন্য মজার মজার ছবি, নির্মাতা হওয়ার হাতছানি

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
শিশুদের জন্য মজার মজার ছবি, নির্মাতা হওয়ার হাতছানি
  • আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

মোরসালিন মিজান

ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে। বয়সেই শুধু ছোট। তবে বড়দের মতো কাজ। কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে। কেউ বিচারক। জুরি বোর্ডের সদস্য হয়ে ছবি দেখছে। নম্বর দিচ্ছে। বাকিরা এই দায়িত্ব ওই দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। এভাবে প্রথম দিনই মোটামুটি জমে ওঠেছে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ সেøাগানে উৎসবের আয়োজন করেছে চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ। এটি অষ্টম আসর। উৎস উপলক্ষে এবারও ক্ষুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠেছে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার চত্বর। আঙিনাজুড়ে উৎসবের আনন্দ। হাসিরাশি। ভেতরে মজার মজার শিশুতোষ চলচ্চিত্র। মানের দিক থেকে এগুলো স্পষ্টত এগিয়ে। দেখে তাই ছোটরা যেমন, তেমন বড়রাও খুশি। সপ্তাহব্যাপী উৎসব ঢাকা ছাড়াও একযোগে চলছে চট্টগ্রাম ও সিলেটে।

শনিবার বিকেলে জাতীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, একটু একটু করে রং ছড়াচ্ছে উৎসব। চমৎকার করে সাজিয়ে নেয়া হয়েছে চারপাশ। ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছোটাছুটি। বেশ কয়েকটি বুথ খুলে কাজ করছিল তাঁরা। কোথায় কোন ছবি, দর্শকে জানাচ্ছিল। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিল ঝটপট। এরই মাঝে চলছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। বিকেলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, উৎসব উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মুস্তাফা মনোয়ার, সোসাইটির সভাপতি লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদসহ ক্ষুদে নির্মাতাদের সঙ্গে নিয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় রঙিন বেলুন আকাশে উড়িয়ে দেয়া হয়। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পাতাকা ও উৎসব পতাকা উত্তোলন করা হয়। মিলনায়তনেও ছিল উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। প্রদীপ প্রজ্বলন ও আলোচনায় অংশ নেন অতিথিরা। শিশু আয়োজকদের পক্ষে উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরে পরিচালক রায়ীদ মোরশেদ। শিশুদের পাশে থাকার কথার ইচ্ছের কথা জানান দুই মন্ত্রী। উৎসব আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা খুব জরুরী। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেয়া হলে শিশুরা করতালীর মাধ্যমে স্বাগত জানায়। নাতিদীর্ঘ আলোচনা শেষে শুরু হয় চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। প্রথম ছবি জার্মানীর ‘লোলা অন দ্যা পি’। হল ভর্তি দর্শক মজা করেই দেখেন এই চলচ্চিত্র। আয়োজকদের পক্ষে মুঈদ হাসান তড়িৎ জানায়, এখানে প্রতিদিন বিকেল ৩টা, ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় একটি করে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে প্রদর্শনী চলবে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমি, আঁলিয়স ফ্রঁসেজ, ডেফডিল ইউনিভার্সিটি ও ডেফডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। সব ভেন্যুতেই বিনা টাকায় ছবি দেখার সুযোগ পাবে শিশুরা।

উৎসবে ৪৬ দেশের দুই শতাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখানো হবে। থাকছে বাংলাদেশী শিশুদের নির্মিত চলচ্চিত্র। এটি আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা বিভাগ। এই বিভাগে এবার ৮০টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে নির্বাচিত করা হয় ৩০টি। ছবিগুলি প্রদর্শিত হবে উৎসবে। এসব ছবির মধ্যে থেকে পাঁচটি ছবির জন্য থাকছে পুরস্কারের ব্যবস্থা। সপ্তাহব্যাপী আয়োজন চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: