রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৬.১ °C
 
১৭ জানুয়ারী ২০১৭, ৪ মাঘ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আউশভিৎস বন্দী শিবির ॥ নাৎসি নিষ্ঠুরতার স্থায়ী দলিল

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • মুক্তির ৭ বছর পূর্তি ২৭ জানুয়ারি

আউশভিৎস কনসেন্ট্রশন ক্যাম্প বা বন্দী শিবির। নাৎসিদের ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার অন্যতম প্রতীক। বর্তমানে তা পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার লোক প্রতিবছর এই বন্দী শিবির পরিদর্শন করতে আসে এবং নাৎসিদের নির্যাতন বা ফাইনাল সলিউশনের ব্যবহৃত গ্যাস চেম্বার সম্পর্কে জানতে পারে। ১৯৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সাবেক সোভিয়েত সেনাবাহিনী নাৎসিদের কুখ্যাত এই ক্যাম্পটি মুক্ত করে। ইহুদী নিধনযজ্ঞের মূল এই কেন্দ্রে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

‘আউশভিৎস’ নামটি মানবজাতির ইতিহাসের এক কলঙ্ক। পোল্যান্ডের প্রায় জনমানবশূন্য এক এলাকায় প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে জার্মান শাসক হিটলারের নাৎসি ক্ষমতাযন্ত্র গড়ে তুলেছিল আউশভিৎস-বির্কেনাউ নিধন শিবির। এই শিবিরের বাইরের ফটকের ওপরে টাঙ্গানো ছিল ‘আর্বাইট মাখট ফ্রাই’ বা ‘কর্মের মাধ্যমেই মুক্তি সাধন হয়’ লেখা বোর্ড।

সংখ্যায় ইহুদীরাই বেশি হলেও নাৎসিদেও রোষের শিকার হতে হয়েছে অনেক রাজনৈতিক বন্দী, অসুস্থ, সমকামী মানুষকে। রেলপথে মালগাড়ি করে গবাদি পশুর মতো যেসব মানুষকে শিবিরে নিয়ে আশাহত, প্রথমেই তাদের মধ্য থেকে কর্মক্ষম মানুষদের আলাদা করা হতো। এরপর বাকিদের পাঠিয়ে দেয়া হতো গ্যাস চেম্বারে। নারকীয় সেই নিধনযজ্ঞের পর আউশভিৎসের মধ্যে অবস্থিত চারটি শ্মশানে তাদের লাশের গণদাহ করা হতো। নাৎসিদের সূত্র অনুযায়ী দিনে প্রায় চার হাজার ৭শ’ দেহ পোড়ানো হতো। বন্দীদের কারখানায় দাস হিসেবে কাজ করতে হতো। ১৯৪৪ ও ৪৫ সালে রেড আর্মি এগিয়ে আসার খবর পেয়ে অসংখ্য বন্দীকে হাঁটিয়ে অন্যান্য কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল নাৎসিরা। এই হাঁটা ‘ডেথ মার্চ’ বা ‘মৃত্যুর পাদচারণা’ বলে পরিচিত। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি যখন সোভিয়েত সৈন্যরা আউশভিৎস মুক্ত করে, তখন সেখানে মুমূর্ষু ও মৃতপ্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ছিল। ১৯৪৭ সালে পোল্যান্ডের পার্লামেন্ট আউশভিৎস শিবিরকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দেয়। ফরাসী ইতিহাসবিদ জর্জ বেনসুসান বলেছেন, ১৯৪২ সালের গ্রীষ্ম থেকে জার্মান বাহিনীর অধিকৃত ভূখ-ে ইহুদীদের হত্যাযজ্ঞের কথা সম্পূর্ণভাবেই জানা যায়। রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারাসহ মিত্র ও নিরপেক্ষ দেশগুলোও এ তথ্য জানতেন। নাৎসি মৃত্যুশিবির সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের সরকারকে দেখেও না দেখার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই বন্দী শিবিরগুলোতে আসলে কি হয়েছিল সে বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দিয়ে ১৯৪৩ সালের অক্টোবরে ‘ব্ল্যাক বুক অব পোলিশ জিউরি’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল।- এএফপি।

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: