মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইউক্রেনে কয়েক ফ্রন্টে যুদ্ধ

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • অত্যাধুনিক রুশ অস্ত্র পেয়েছে বিদ্রোহীরা ॥ ন্যাটো

ইউক্রেনের কয়েকটি ফ্রন্টে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। রুশ সৈন্য ও সাজসরঞ্জাম আবারও ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে বলে ক্রমবর্ধমান প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষণভঙ্গুর অস্ত্রবিরতির আর কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিদ্রোহী নেতারা আবারও হামলা চালানোর সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। প্রধান রুশপন্থী বিদ্রোহী নেতা আলেকজান্ডার জাসারচেঙ্কো বলেছেন, তার সৈন্যরা আক্রমণে লিপ্ত রয়েছে এবং তিনি কিয়েভের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে চান না। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতির বেসামরিক এলাকায় দুর্বৃত্তের মতো গোলাবর্ষণের দায়ে ইউক্রেনের সরকারী বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন। ইতোপূর্বে ইউক্রেন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানি যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানায়। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সরকারী বাহিনী দোনেৎস্ক বিমানবন্দরের প্রধান টারমিনাল থেকে সরে যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেখানে তুমুল লড়াই হয়। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি।

নতুন লড়াই গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত এক অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার যে কোন আশাকে বিলীন করে দিয়েছে। ন্যাটোর মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অত্যাধুনিক রুশ অস্ত্রশস্ত্রের চালান পেয়ে নতুন করে সাহসী হয়ে ওঠা বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা অস্ত্রবিরতির সব আলোচনাই পরিত্যাগ করেছেন। বিদ্রোহী দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকান দলের নেতা জাসারচেঙ্কো শুক্রবার বলেন, তারা একদিন আগে দোনেৎস্ক বিমানবন্দর দখলকে কাজে লাগিয়ে কয়েকটি সেক্টরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের সীমান্ত থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আমরা আক্রমণ চালাব। তার বক্তব্য রুশ বার্তা সংস্থাগুলো প্রচার করে।

জাসারচেঙ্কো বলেন, আমরা আমাদের দিক থেকে অস্ত্রবিরতি নিয়ে আলোচনার কোন চেষ্টা করব না। কিয়েভ কি প্রতিক্রিয়া দেখায় এখন আমরা তা লক্ষ্য করতে যাচ্ছি। আমরা যে একই সময়ে তিন দিক থেকে আক্রমণ করতে পারি, তা কিয়েভ বুঝতে পারছে না।

ইউক্রেন সরকার ও এর পশ্চিমা মিত্ররা বলছে, রাশিয়ার নিয়মিত সৈন্যরা রাশিয়ার ভারি কামান ও ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে লড়াই করছে। মস্কো বলছে, কেবল রুশ স্বেচ্ছাসেবীরাই বিদ্রোহীদের দলে যোগ দিয়েছে।

বিদ্রোহীরা গত এপ্রিলে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের বিরাট ভূখ- দখল করার পর লড়াইয়ে ৫ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়। এতে ১০ লাখেরও বেশি লোক বাস্তচ্যুত হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দোনেৎস্ক ও হরলিভকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর গোলাবর্ষণে ১৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয় বলে শুক্রবার বিদ্রোহীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়।

মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিন রুশ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, ইউক্রেন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর ওপর ভারি, কামান, রকেট ও বিমান নির্বিচারে ব্যবহার করছে। বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স এ কথা জানায়। তিনি বলেন, সেজন্য তারাই দায়ী যারা এরূপ অপরাধমূলক নির্দেশ দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে ভারি অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নিতে তার দেয়া প্রস্তাবের প্রতি কিয়েভ স্পষ্ট ভাষায় সাড়া দেয়নি।

বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র এডোয়ার্ড বাসুরিন জানান, সর্বশেষ লড়াইয়ে ২৪ বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। তিনি একে ২৪ ঘণ্টায় তার দলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি বলে অভিহিত করেন। বিদ্রোহীরা হামলা চালিয়েছিল বলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান আলেকজান্ডার তারচিনভ শুক্রবার নিশ্চিত করেন। তিনি প্রচ- গোলাগুলি বর্ষণের দায়ে বিদ্রোহী ও রুশ বাহিনীকে অভিযুক্ত করেন।

তিনি বলেন, রুশ সন্ত্রাসী দলগুলোই মূলত আগের সব অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করছে। আজ তারা সক্রিয় আক্রমণাত্মক তৎপরতা শুরু করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা রুশ সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় ইউনিটগুলোর কথা বলছি। কিয়েভের মতে, বিদ্রোহীদের পাশে ৯ হাজার রুশ সৈন্য লড়াই করছে।

ইউক্রেন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানি এক অস্ত্রবিরতির জন্য যৌথভাবে আহ্বান জানানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর লড়াই শুরু হয়।

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: