মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সেমিনারে মন্তব্য

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন গভীর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আগামীতে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর সম্পর্ক হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারত শুধু নিছক প্রতিবেশীই নয়, উন্নয়ন অংশীদারও। শুক্রবার ‘ভারতের ৬৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস ও সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়া’-শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি।

সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এখন এই সম্পর্ক উচ্চতর মাত্রায় পৌঁছেছে। আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর সম্পর্ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ভারত বাংলাদেশের শুধু প্রতিবেশী নয়, একটি উন্নয়ন অংশীদারও। ’২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতেরও অংশগ্রহণ রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে দুই দেশ সামনের দিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে। যেমন বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মহিলারা শাড়ি পরেন। আবার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের মায়েরা চান তাদের সন্তান চিকিৎসক, প্রকৌশলী হবে। এমন অনেক মিলই দেখা যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্ক দুই দেশেরই ধরে রাখতে হবে। ভারতের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ইতোমধ্যেই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন। এসব খুবই ইতিবাচক।

পঙ্কজ শরণ বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে বাস, ট্রাক চলাচলের জন্য আগামী মাসে কলকাতায় চার দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হবে। এছাড়া এই চার দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সম্পর্ক বাড়াতে দিল্লীতে বৈঠক হবে বলেও তিনি জানান।

দিল্লীর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় কে ভরদ্বাজ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় সফল হয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা সমস্যা রয়েছে। এই নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবেলায় দুই দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ভারতে বিভিন্ন জাতি ও ধর্ম থাকলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা চলছে। এই চর্চা বাংলাদেশেও হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ চর্চা দুই দেশকেই ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতাকে নানাভাবে বিভিন্ন দেশে ব্যাখ্যা করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে অসাম্প্রদায়িকতা। সেটা অনেকেই ভুলে যান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে নতুন করে দেখতে হবে। বাংলাদেশ এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশ পোশাক শিল্প ও বৈদেশিক রেমিটেন্সের কারণে অনেক দূরে এগিয়ে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) আবদুর রশীদ, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, বাংলাদেশ ভারত-মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুশারী প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

২৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: