মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্ব রোবটিকস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জয়জয়কার

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

হাসান ইমাম সাগর

প্রতিবছর রোবটিকস নিয়ে আয়োজন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ইন্টারন্যাশনাল রোবটিকস চ্যালেঞ্জ (আইআরসি)। এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগী। আঞ্চলিক বাছাইপর্ব শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্ধারণ করা হয় প্রতিযোগীদের। প্রতিবছরের মতো এবারও ভারতের মুম্বাইয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং মিসরের প্রতিযোগীদের নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতার মূল আসর। ৪ জানুয়ারি প্রতিযোগিতা শেষে দেখা যায়, এ বছরও ২য়, ৩য় ও ৪র্থ স্থান ছিল বাংলাদেশী প্রতিযোগীদের দখলে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কার একটি দল। ২য় স্থানে অধিকার করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) ‘বুয়েট এক্সপোনেনশিয়াল’। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান দখল করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রোবসাস্ট’ ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজি শিক্ষার্থীদের দল ‘ডুয়েট টাইম আউট’। প্রতিযোগিতার আসরে একটি অটোনোমাস রোবট ও একটি ম্যানুয়াল রোবট নিয়ে অংশ নিতে হয়। অটোনোমাস রোবটটির পূর্বে থেকেই প্রোগ্রাম সাজান থাকে, আর ম্যানুয়াল রোবটটি নির্মাতারা নিয়ন্ত্রণ করে। লক্ষ্য থাকে প্রতিটি রোবটের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা। সবচেয়ে কম সময়ে কার্যকরভাবে কাজটি সম্পন্ন করার ওপর নির্ভর করে প্রতিযোগিতার হার-জিত।

দ্বিতীয় বুয়েট এক্সপোনেন্সিয়াল

ইন্টারন্যাশনাল রোবটিকস চ্যালেঞ্জে ২য় হয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থী খালেদ বিন মইনউদ্দীন আর আল আরাবির দল। তাদের সঙ্গে আড্ডার শুরুতেই জিজ্ঞাসা করা হয় দলের নামকরণ নিয়ে। প্রযুক্তির ভাষাতেই জবাব দিলেন মইনউদ্দীন। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারফরম্যান্সের মান এক্সপোনেন্সিয়াল লগারিদম স্কেলে বাড়তে থাকায় আমরা এই নাম দিয়েছি বুয়েট এক্সপোনেন্সিয়াল। আইআরসিতে তাদের তৈরি অটোনোমাস রোবটের কন্ট্রোল সিস্টেমে ছিল দুটি মাইক্রো-কন্ট্রোলার। এটিমেগা-৩২৮ ও এটিমেগা ৩২ ইউ৪। এই মাইক্রো-কন্ট্রোলার দুটি কাজ করে একযোগে। এতে আরও ব্যবহার করা হয় এ্যালুমিনিয়ামের আর্ম আর কিছু সার্ভো মটর। মটর চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ডিফারেন্সিয়াল হোয়েন ড্রাইভ পদ্ধতি। এছাড়া ব্যবহার করা হয় রিফ্লেকটিভ ফটো ইন্টারাপ্ট, আইআর প্রক্সমিটি এবং ট্রাকার সেন্সর। ম্যানুয়াল রোবটে ব্যবহার করা হয় ‘আরডুইনো মেগা-এডিকে’ কন্ট্রোলার। এতে ওয়ারলেস গেইমপ্যাডের মাধ্যমে ইউএসবি দিয়ে ২৪ বিট ডেটা প্রসেস করান হয়। যান্ত্রিক বাহু আর একটি ক্লাস্টার বল শুটার ছিল এতে। দুটি রোবটই ছিল অ্যালমুনিয়ামে তৈরি। ২০১৪ সালে বুয়েটে আয়োজন করা হয় আইআরসি-২০১৫ এর বাংলাদেশ বাছাই পর্ব। বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফাইনাল রাউন্ডের টিকিট পায় বুয়েট এক্সপোনেন্সিয়াল। মুম্বাইয়ে আইআরসি-২০১৫এর ১ম রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকার দলটি থেকে ৫০-এর বেশি পয়েন্টে এগিয়ে ছিল দলটি। কিন্তু ২য় রাউন্ডে নির্ধারিত কাজের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট জায়গায় বল ছুড়ঁতে গিয়ে নিশানা ব্যর্থ হয় রোবটের। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন দল থেকে ৪ পয়েন্ট কমে দ্বিতীয় স্থানে অধিকার করে দলটি। চলতি বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পাওয়ার ইলেকট্রনিক্সবিষয়ক প্রতিযোগিতা ইন্টারন্যাশনাল ফিউচার এনার্জি চ্যালেঞ্জ। ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

তৃতীয় রোবোসাস্ট

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নওশাদ সজীব, নুসরাত মুবিন, মো. রাগিব শাহরিয়ার, ফারহানুল ইসলাম, আর সাখাওয়াত হোসেন প্রয়াসকে নিয়ে গঠন করা হয় ৫ শিক্ষার্থীর দল ‘রোবোসাস্ট’। দলনেতা নওশাদ সজীব ও নুসরাত মুবিন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত। বাকি তিন জন পড়ছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। এই দলটির বানানো রোবট অন্য প্রতিযোগিদের থেকে খুব একটা আলাদা নয়। তবে ম্যানুয়াল রোবটের রিমোট কন্ট্রোলার বানানো হয় পুরাতন জয়স্টিক খুলে এর সঙ্গে ব্লুটুথ সংযোগ জুড়ে দিয়ে। আইআরসির বাংলাদেশ বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছেন বলে জানালেন রোবোসাস্টের সদস্যরা। বাছাইপর্ব থেকে দলটি নির্বাচিত হয় মুম্বাইয়ে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য। প্রতিযোগিতার তৃতীয় স্থান জিতে নিয়েই দেশে ফিরেছে দলটি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দলের সদস্য রাগীব শাহরিয়ার শুভ জানান, নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা একটি ওয়েবসাইট বানাতে চান তারা। যে ওয়েবসাইটে রোবোটিকস নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক এমন শিক্ষার্থীদের জন্য টিউটোরিয়াল ভিডিও আপলোড করা হবে।

চতুর্থ ডুয়েট টাইম আউট

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ইলেক্টট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রূপায়ন হালদার, পলাশ চন্দ্র ম-ল, উত্তম কুমার, মুসলিম উদ্দীন ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিতোষ কুমার। রূপায়নের নেতৃত্বে এই পাঁচজনে মিলে গঠন করেন ‘ডুয়েট টাইম আউট’। আইআরসিতে চতুর্থ হয়েছে দলটি। শুরুতে রোবটের যান্ত্রিক কাঠামো দাঁড় করানোর পর এর জন্য হার্ডওয়্যার ডিজাইন করা হয়। তারপর ইনস্টল করা হয় আইআরসি’র নিয়ম মেনে তৈরি সফটওয়্যার। নিজেদের রোবটে ‘এটিমেগা-৬৩২ মাইক্রো-কন্ট্রোলার’ ব্যবহার করেন ডুয়েট টাইম আউটের সদস্যরা। বাংলাদেশ একসময় প্রযুক্তি স্বনির্ভর হবে এমনটাই আশা করেন দলনেতা রূপায়ন হালদার। তিনি বলেন, আমাদের সাফল্য একসময় দেশের সকল প্রযুক্তির চাহিদা মিটিয়ে, অন্য দেশেও প্রযুক্তিগত পণ্য রফতানি করতে সক্ষম হবে ।

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

২৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: