রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কবিতা

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

ইচ্ছে

রেবেকা ইসলাম

মাগো আমার ইচ্ছে, হব ধূসর মেঘের মালা

কুসুম কোমল বিষ্টি হয়ে ঝরবো মাটির বুকে

আসান হবে শুষ্ক মাটির দগ্ধ পোড়া জ্বালা

বিলীন হতে চাই যে আমি পরম প্রিয় সুখে।

পাখি হওয়ার ইচ্ছে জাগে সয় না কোন তর

শঙ্খচিলের মত আমার থাকবে দুটো ডানা

উড়ে উড়ে দেখব আমি আকাশ মেয়ের ঘর

বাতাসরানির সঙ্গী হব করবে না কেউ মানা।

আমার হতে ইচ্ছে করে আঁকাবাঁকা নদী

উদার বুকে চলবে দুলে হাজার শতেক নাও

উতাল ঢেউয়ে সাগর পানে ছুটব নিরবধি

দুটি ধারে থাকবে সবুজ হিজল তমাল গাঁও।

ভীষণভাবে ইচ্ছে জাগে হতে ফুলের কুঁড়ি

মিষ্টি মধুর সুবাস মেখে ফুটব ভোরের বেলা

নানা রঙের ছোঁয়ায় রূপে থাকবে নাক জুড়ি

খোকা খুকু আমায় নিয়ে করবে কত খেলা।

শীতের পৃথিবীতে

আখতারুল ইসলাম

গাছের সবুজ পাতায় দেখি শীতের হাওয়া দোলে,

দূরের পাহাড় যায় হারিয়ে হিম কুয়াশার কোলে।

সোনা রোদে শিশির ফোটে মাঠের দূর্বাঘাসে,

ঝিম ধরা ঐ আকাশ তখন একটু ফিকে হাসে।

আমার তখন ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে দূরে,

প্রজাপতির ডানায় চড়ে দোয়েল পাখির সুরে।

রোদের কণা গায়ে মেখে উষ্ণতা সব নিতে,

বুকের ভেতর কাঁপন ধরা শীতের পৃথিবীতে।

রূপের ঢালি সাজতে দেখি শীতের সকাল বেলা,

সারাটা দিন এই আয়োজন মাঠের বুকে খেলা।

সন্ধ্যা হলে জুঁই জোনাকি ঝিঁঝিঁর ডাকে সাড়া,

জোছনা বিলায় চাঁদের বুড়ি জেগে ওঠে পাড়া।

সাদা মেঘ

সিরাজুল এহসান

বাতাসের হাত ধরে আকাশের গাঁয়ে

সাদা মেঘ হেঁটে যায় গুটিগুটি পায়ে।

রোদ পেয়ে লুটোপুটি হাসে ফিকফিক

সাথে হাসে রোদফুল করে চিকচিক।

কালো মেঘ পড়ে থাকে মুখ করে ভার

মন কালো বলে তাই সাথি নেই তার।

সাদা মেঘ সাদামন দেখে হাসে নদী

ছায়া তার বুকে ধরে চলে নিরবধি।

শাপলা, বিলের জল তাকে দেখে হাসে

সাদা মেঘ সাথি হবে কাছে যদি আসে।

কাশবন মন খুলে হেলেদুলে ডাকে

আঁকিয়ের খাতা ভরে সেই ছবি আঁকে।

কালো মেঘ দূরে থাক চাইব না তাকে

সাদা মেঘ সাথে থাক ভালোবাসি যাকে।

শীত

কাজী আবুল কাসেম রতন

শীত এসেছে তাই,

সকাল-বিকাল বকুল ফুলের

গন্ধ নাকে পাই।

শীত এসেছে তাই,

সকাল বেলা রোদে বসে

ভাপা পিঠা খাই।

শীত এসেছে তাই,

শীত ঢাকতে বাবার কাছে

গরম কাপড় চাই।

শীত এসেছে তাই,

ওদের জন্য দুঃখ যাদের

গায়ের কাপড় নাই।

পাঠশালাতে যাই

শিউল মনজুর

চলো চলো, আমরা সবাই

পাঠশালাতে যাই।

গদ্য পড়ি পদ্য পড়ি

নামতা গুনে অংক করি,

বাংলা পড়ি সমাজ পড়ি

এমনি করে জীবন গড়ি।

চলো চলো, পাঠশালাতে যাই

পড়ার ফাঁকে সবাই মিলে

দেশের গান গাই,

ছুটি হলে হেসে হেসে

খেলেধুলে ঘুরে বেড়াই,

ঘরে ফিরে স্বজন সুখে সময় কাটাই।

চলো চলো পাঠশালাতে চলো

লেখাপড়া শিখে বন্ধদুয়ার খুলো।

নদী

ফেমিনাতুল ওবায়েদ

নদীর কূলে নাও ভাসাইয়া,

মাছ ধরিরে কূল হারাইয়া।

এপাড় ভাঙ্গে ওপাড় গড়ে,

মাঝ নদীতে পাল ওড়ে।

শান্ত মনে চিন্তা করে,

মাঝি মাল্লা দূর করে।

ঘণ্টা বাজাই বিপদ কাটাই,

মানুষেরই প্রাণ বাঁচাই।

খোলা আকাশ-নীলাভ দেখায়,

পাখির ডানা উড়ে উড়ে যায়,

আসমান জমিন পরখ করে,

এসব কিছুই আলাদা নয়রে।

এপাড় ভাঙ্গে ওপাড় গড়ে,

মাঝ নদীতে পাল ওড়ে।

মেঘের কবি

সনজিত দে

ওই মেঘ তুই একটু দাঁড়া

বল না কিসের এত্তো তাড়া

কথা শুনে যা মেঘ

টুকরো মেঘের যেমন ঘুড়ি

তোর ও তেমন উড়োউড়ি

কিসের এই উদ্বেগ?

তোকে আমি যখন আঁকি

চোখের কোণে তোকে রাখি

দেখি সেই ছবিটা

কল্পনা আর উপমাতে

চিত্রকল্পের আঙিনাতে

যায় হয়ে কবিতা।

মেঘ তখনি বলল আহা

তোমার মুখে শুনছি যাহা

জুড়িয়ে গেল প্রাণ

মেঘের কবি যাও শুনে যাও

স্বপ্ন তোমার নাও বুনে নাও

বাস্তবে গাও গান।

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

২৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: