মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নজরকাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নাম কুয়াকাটা

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • মিঠা পানির জন্য কাটা কুয়ার নামে কুয়াকাটা

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া থেকে ॥ কুয়াকাটা পর্যটক-দর্শনার্থীরা এক নামে চেনেন। শুধু দেশে নয়, কুয়াকাটার পরিচিতি এখন বিশ্বজুড়ে। বেলাভূমের একই স্পটে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বিরল মনোরম সৌন্দর্য দেখার সমুদ্র সৈকত। নজরকাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কুয়াকাটার রয়েছে আলাদা সুখ্যাতি। এককথায় কুয়াকাটা হচ্ছে প্রকৃতির হাতে গড়া সাজানো ছিমছাম নৈসর্গ। দেশের সর্বদক্ষিণে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের শেষপ্রান্তে সাগরপারের এ জনপদ কুয়াকাটা। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এক কিলোমিটার প্রস্থ সৈকতের সর্বত্র রয়েছে সুন্দরের সমাহার। চোখ ধাঁধানো সবকিছু। রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, যার মধ্যে বয়ে গেছে অসংখ্য লেক। সৈকত লাগোয়া নারিকেল বীথি। রয়েছে জাতীয় উদ্যান অধীন ইকোপার্ক ও আন্ধার মানিক মোহনার উল্টোদিকের ফাতড়ার বিশাল বনাঞ্চল। রয়েছে শুঁটকিপল্লী। অদূরেই রয়েছে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি সৈকত। পরিচ্ছন্নতার জন্য কুয়াকাটার রয়েছে আলাদা পরিচিতি। সুন্দরের স্বকীয়তায় কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগরকন্যা। প্রতিদিন শত শত পর্যটক-দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকছে কুয়াকাটা। বেলাভূমের সর্বত্র হৈ-হুল্লুড় চলে আগতদের। সাগরের হিম শীতল পানির স্পর্শে শরীরে শিহরণ জাগায় আগতদের। নির্মল আনন্দ আর গভীর প্রশান্তি পেতে মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্য খুঁজে বেড়ায়। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে, ক্লান্তি, মনের জড়তা ঘুঁচিয়ে দেয়। সেই প্রশান্তির জায়গা হচ্ছে কুয়াকাটা। জীবনের আমুদে সময় কাটাতে ও মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করতে কুয়াকাটায় ভ্রমণের বিকল্প নেই। প্রায় সোয়া দুই শ’ বছর আগে আরাকান থেকে বিতাড়িত দেড় শ’ রাখাইন পরিবার নৌকায় ভাসতে ভাসতে সাগরপারে নোঙ্গর করে। স্বাপদ-শঙ্কুলের এ জনপদে গড়ে তোলে বসতি। খাওয়ার নিরাপদ পানি ছিল না। কুয়া কেটে মিঠা, নিরাপদ পানি সংগ্রহ করে। ওই কুয়ার নামানুসারেই আজকের কুয়াকাটা। কুয়াকাটার অবিচ্ছেদ্য অংশ উপজাতি এখানকার আদি বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়। এদের ভিন্ন আদলের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। চোখে পড়বে এদের তাঁতসহ উল বুনন কার্যক্রম। সুযোগ মেলে অন্যতম সৌন্দর্য ইন্দোচীনের আদলে রাখাইনদের শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার দর্শনের। এছাড়া কুয়াকাটার অদূরে মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে সীমা বৌদ্ধবিহার। এ বিহারের মধ্যে গৌতম বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন বিশাল আকৃতির মূর্তি শোভা পাচ্ছে। রাখাইনদের দাবি, এশিয়ার বৃহত্তম বুদ্ধমূর্তি এটি। নিজের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে কুয়াকাটায় ভ্রমণের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক শোভাম-িত দৃশ্যপট অবলোকনের পাশাপাশি দেশের প্রাচীন পুরাকীর্তি বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও প্রাচীন কুয়া স্বচক্ষে দেখার সুযোগ রয়েছে।

রূপসী কুয়াকাটার নৈসর্গিক রূপ অন্যান্য সৈকতের চেয়ে বহুলাংশে আকর্ষণীয়। জেলেরা এখানে সারা দিনরাত মাছ ধরে। ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালী করা জীবন-জীবিকার যুদ্ধ অবলোকন করা যায়। কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধাবিহারের সামনেই সংরক্ষিত রয়েছে ঐতিহাসিক কুয়ার পাশেই সম্প্রতি নতুন সংযোজিত দুই শ’ বছরের প্রাচীন নৌকা।

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

২৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: