মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অবরোধের কবলে পাবনা ও কেরানীগঞ্জের পোশাক শিল্প

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • মালিক-শ্রমিক পরিবারে হাহাকার

কৃষ্ণ ভৌমিক, পাবনা থেকে ॥ জেলার ৩১ হাজার গার্মেন্টস মালিক শ্রমিক পরিবারের মধ্যে চলছে হাহাকার। বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধের কারণে জেলার গার্মেন্টসে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি করা যাচ্ছে না। দেশের মধ্যেও বিক্রি না হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহসহ শ্রমিকের মজুরি পরিশোধও সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রতিদিনই গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৩০ ভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩১ হাজার পরিবার মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। গার্মেন্টস মালিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, দেশের গার্মেন্টস শিল্পের জুটকেন্দ্রিক পাবনায় ১ হাজার ছোট বড় গার্মেন্টস কারখানা গড়ে ওঠে। এসব কারখানায় প্রতিদিন ৫ লাখ পিস টি শার্ট, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন ধরনের হোসিয়ারি পণ্য উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ পিসই ভারত, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দুবাই ও মায়ানমার রফতানি করা হয়। বাকি ৫০ হাজার পিস দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি করা হয়। এ শিল্পে ৩০ হাজার শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। পাবনায় গার্মেন্টস শিল্পের পর্যাপ্ত শ্রমিক ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় প্রতিদিনই শিক্ষিত যুবকেরা নতুন নতুন গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তুলছিল। ঠিক সে সময়েই বিএনপি-জামায়াত জোট একটানা অবরোধ ডেকে বসে। এ অবরোধের কবলে গার্মেন্টসে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে না। তেমনি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি মহাজনরাও পাবনায় পণ্য-সামগ্রী কিনতে আসছেন না। এ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস মালিকরা ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে গার্মেন্টস জুটও কিনতে পারছে না। টাকার অভাবে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অনেক গার্মেন্টস কারখানাই বন্ধ করতে হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন কারখানা বন্ধ হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ কারখানার শ্রমিক পরিবার অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটাচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা গার্মেন্টস শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন একটানা অবরোধের কারণে ১ হাজার গার্মেন্টস মালিক ও ৩০ হাজার শ্রমিক পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন পাবনায় ৫০ লাখ টাকার গার্মেন্টস পণ্য বিক্রি হতো সেখানে বর্তমানে তা শূন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে আরও জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মালিকরা গার্মেন্টস কারখানার উৎপাদন চালু রেখেছিল। টানা অবরোধের কারণে অনেক কারখানাই বন্ধ করতে হয়েছে। ব্যাংক ও এনজিও কিস্তি পরিশোধের তাগিদে তাদের পালিয়ে বেড়ানোর মতো উপক্রম হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পাবনার গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে বলেও তিনি জানান। সালাহউদ্দিন মিয়া কেরানীগঞ্জ থেকে জানান, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় গভীর সঙ্কটের মুখে পড়তে যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের তৈরি পোশাকের প্রতিষ্ঠানগুলো। হরতাল অবরোধের কারণে প্রতিদিনই গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকার লোকসান। সহসাই এর পরিবর্তন না এলে পথে বসবে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সহস্রাধিক ব্যবসায়ী। বেকার হবে ৭ লক্ষাধিক শ্রমিক। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে অবরোধ প্রতিরোধে মাঠে নামতে বাধ্য হবেন গার্মেন্টস মালিকরা। কেরানীগঞ্জ তৈরি পোশাক মার্কেট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। গোডাউন ও দোকান ভর্তি পণ্য থাকলেও ক্রেতা নেই। কেউ কেউ দোকান খোলা রাখলেও দিনের বেশিরভাগ সময়ই পার করছেন পত্রিকা ও টিভি দেখে। বিকিকিনি না থাকায় অনেকেই রেখেছেন দোকান বন্ধ। একই অবস্থা বিরাজ করছে কারখানাগুলোতে। পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় চলছে না সেলাই মেশিনসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো। মালামাল না থাকায় অনেকেই বন্ধ করে দিচ্ছেন কারখানা।

গার্মেন্টস মালিক হাজী আবুল কালাম আব্দুর রশিদ জানান, হরতাল অবরোধের কারণে কেরানীগঞ্জ তৈরি পোশাক মার্কেট ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। এখানে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেলাই মেশিনগুলো শব্দ করে চলত। গত কয়েক দিন যাবৎ হরতাল-অবরোধের কারণে আর মেশিনের শব্দ শোনা যায় না। মফঃস্বলের পাইকারগুলো তৈরি পোশাক খরিদ করার জন্য ভয়ে এখানে আসছে না। সারা দেশের পাইকাররা বাস ট্রেন ও নদী পথে তৈরি পোশাক কেনার জন্য এখানে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ বাস ট্রেন ও নদী পথে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমার হামলার ভয়ে তৈরি পোশাক ক্রয়ের জন্য আসছে না।

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

২৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: