কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

ভালোবাসা কিংবা সোনার হরিণের গল্প

কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায়

সে ছিল ভালোবাসার কাঙ্গাল,

কেউ একটু হাসলেই

তাকে উজাড় করে সব দিতে

চাইত মন।

অবুঝ মন বোঝেনি

ভালবাসা ছিল না,

ছিল রাংতা মোড়া

একরাশ বিদ্রƒপ।

তাও তখন ছিল না অত স্বার্থের বন্ধন,

তাই সম্পর্কের রূপ ছিল মুখোশহীন।

পৃথিবী তাকে বুঝিয়েছিল

সে আসলে কেউ না।

ফালতু।

মনের জগতের চৌকাঠে পা রাখা মাত্র,

হাসি-গান-আনন্দের নিমন্ত্রণ তার জন্য নেই।

দিনের পর দিন যায়,

নিবিড় হয় স্বর্থের বন্ধন।

এখন সে চৌকাঠ পেরিয়ে বসার ঘরে বসতে পারে,

হাসি আনন্দের নিমন্ত্রণে মেকি ভদ্রতার ভাগীদার সে।

কেমন আছো, ভালো তো?

শুধায় তাকে পৃথিবী।

জবাব শোনার জন্য নয়,

নিছকই ভদ্রতার খাতির।

তাই ভালোবাসা আজও সোনার হরিণ।

সে শুধু বোকার মতো ভাবে

কাউকে উজাড় করে দিলে বুঝি

পৃথিবী তাকে বুঝবে।

মুচকি হাসে।

তার ভালোবাসার হাহাকারের ছিদ্রপথে

স্বার্থের নাগিনী ঢোকে।

দংশনে দংশনে নীল হয়ে

মুখ থুবড়ে পড়ে সে দেখে,

চারদিকে নিকষ অন্ধকার,

নিবিড় শূন্যতা রয়ে গিয়েছে তার সখা হয়ে।

সেই স্কুলের প্রথম দিনের মতো।

পূর্ণিমা

নুরুল করিম নাসিম

পূর্ণিমা গায়ে মেখে শুয়ে আছে আছে যে নারী

সে আজ বড় বেশি রতিক্লান্ত

তবু তার সুখ নেই,

তৃপ্তি নেই

মনের ভেতর তার

জমে আছে মেঘ

শুধু মেঘ

কেবলই মেঘ

কে যেন সন্ধ্যায় কাাঁদিয়েছে তাকে

এখন মধ্যরাত

সেই নারী চোখ মেলে চেয়ে আছে দেয়ালের দিকে

সেলফোন পড়ে আছে

ফেসবুক পড়ে আছে

ই-মেইল পাথরের চোখ

রাত্রিতার ঢেকে আছে শরীরকে

পূর্ণিমার কাছে তার যত ঋণী

অমাবস্যা সেকথা জানে না

এরোড্রামে প্লেনগুলো কার অপেক্ষায়

নারীকেও নিয়ে যাবে একদিন দূরগামী ফ্লাইট

তুমি তাকে কাঁদিয়েছ

তুমি তাকে শব্দ দাও

স্পর্শ দাও

একটি নিকোনো দুপুর দাও

বিনিদ্ররাত্রি দাও

ল্যাপটপ দিও না তাকে

প্রযুক্তি নয়, পরবাস নয়

পূর্ণিমা মেখে আজ

সেই নারী সুখী হতে চায়।

তোমার আকাশের বাইরে

দ্বিত্ব শুভ্রা

তোমার আকাশের বাইরে আমার যাওয়া চাই,

নাটাই-এর সুতো ছিঁড়ে হব ইচ্ছে-ঘুড়ি

দিকচক্রবালিকায় বিন্দুর মতো টিপ হয়ে

শুকতারা হব, ছোঁব না চাঁদ।

লাল গোলাপের শয্যায় অপেক্ষারত ময়ূরাক্ষী

জানু নত করে তুমি সমর্পিত আজ্ঞারাজ

শরাবের গ্লাসে মদির প্রণতি তোমার

যেন সে গন্ধগোকুল, নিশুথির প্রলোভন

দহনে পতঙ্গ পোড়ে, তুমি দেবে ঝাঁপ।

আসমুদ্রহিমাচল উঠবে নড়ে, তবু

দূরতিপরিক্রমা বেছে নিয়ে নিরন্তর পরিভ্রমণ

তোমায় কেন্দ্র করি;

আমার প্রকৃত আচার ব্যথিত হবে

তবু তোমার সাধ্যের বাইরে আমার থাকা চাই।

আশ্চর্য পোয়াতিকাল

চৈতী আহমেদ

চমৎকার এই সকালের আগে কেটে গেছে সুন্দর একটা রাত:

সুঁই সুতো নিয়ে বসতেই মনে এলো এক অদ্ভুত বিবমিশা

Ñকি হবে লিখে তুমি তো আর পড়বে না! আজকাল

তুমি তো আস রাতের বুকে কিছু আবছায়া এঁকে দিতে

বিবসন আবছায়াকে গাঁথা যায় না, লেখা যায় না,

আশ্চর্য পোয়াতি কাল! শুধু আমার করে রাখা যায়।

তলপেটে তোমার মায়াবী স্পর্শগুলো জোড়া দিয়ে দিয়ে

দিনমান ভেঙে ভেঙে গড়ে চলি মন মতো ঈশ্বরের কায়া।

শীতরাতের কথা

আলমগীর মাসুদ

তোমাকে জাগিয়ে রাখে আমার বিশ্বাস

আঁচলে লজ্জা ঢাকো

আমার দু’হাত উত্তেজিত শীতের ঘরে।

নকশীকাঁথার গল্প জানে না নতুন বউ

স্কুলের কথা বলতেই মনে পড়ে

কলেজে যুবকের হাত ধরে স্তন বৃত্তান্তের সংলাপ!

কাকের ভালোবাসা কেবলি ক্ষণিক

শীতরাতে আমার আদর ভালো লাগে না

চিলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখো একটি সংসারের;

কারণ, পশুতে কখনো পর্দা থাকে না

চরিত্র তোমার, প্রথম রাতেই জানা হয়।

ঘনত্ব

পলিয়ার ওয়াহিদ

অপেক্ষার ছুরি ঝুলে আছে দুপুরের গালে

চুলফিতায় মেপে নিচ্ছো পুরনো সম্পর্ক

আর আবিষ্কার করছোÑ অশ্রুর ঘনত্বে বেড়ে ওঠা

রক্ত-লবণের খরচা কতো?

বকেয়া কিছু ছায়াদের হুড়োহুড়ি

প্রাপ্তিকে দূরে টেনে নেয়

দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসে ঢুকে পড়ি

মেটে রঙের গন্ধ, গবাদি ঘ্রাণ

প্রতীক্ষার ধোঁয়ায় উড়ে যায়।

‘তুমি আগের চেয়ে ছোট হয়ে গেছো’

দেবির সামনে অসহায় পূজারী-

‘কুমড়ো ফুলের মতো শুকিয়ে ছিলাম’

জোছনার ফাঁদে চুরি হয়ে জেনেছি

নারীকে ভালোবাসার মোজেজা।

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

২৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: