হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মঞ্চকথা

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • পৌষ-মাঘ ১৪২১, জানুয়ারি ২১৫ বর্ষসংখ্যা

আমাদের সংস্কৃতি ক্ষেত্রে যে কথাটি সবচেয়ে সুন্দর এবং গর্ব করার মতো সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের নাটক আজ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত। অর্থাৎ মঞ্চ নাটক আজ পিছিয়ে নেই। বিশ্ববাজারে টিকে আছে স্বগৌরবে, স্বমহিমায়।

কিন্তু তাই বলে আমাদের দেশে নাটক করতে কোন সমস্যা নেইÑ একথা বলা যাবে না। মিলনায়তন সমস্যা, দর্শক সমস্যা, সরকারী অনুদান সমস্যা এবং সর্বোপরি পেশাদারিত্বের সমস্যা। পেশাদারি দক্ষতার সঙ্গে নাটক মঞ্চায়ন হলেও বাংলাদেশের নাটক পেশাদারি পর্যায়ে পড়ে না। অভিযোগ আছে, ছোটখাট দলগুলো নিয়মিত হলেও বরাদ্দ পায় না। এই যেখানে অবস্থা, সেখানে নাটকের পত্রিকা চালিয়ে যাওয়া কী কষ্টকর, কী ঝুঁকিপূর্ণ, কী অর্থদণ্ডÑ তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। রামেন্দু মজুমদারের মতো দক্ষ ব্যক্তিও কখনও কখনও তার থিয়েটার চালিয়ে রাখতে গলদঘর্ম হয়ে পড়েন। ‘নটনন্দন’, ‘থিয়েটারওয়ালা’ খুব আশার আলো জ্বালিয়েছিল, কিন্তু ভর্তুকি দিতে দিতে একসময় নিভে গেল। তবে প্রতি সংখ্যা ভর্তুকি দিয়েও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি নাট্য সাময়িকী ‘মঞ্চকথা।’ অনিয়মিত হলেও বের হয়। সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও বছরের নতুন সংখ্যাটি সংস্কৃতি অঙ্গনে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। বোঝাই যায়, সম্পাদক ও প্রকাশক ওয়াহিদুল ইসলাম খুব মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে এবারের সংখ্যাটি প্রকাশ করেছেন। প্রবীণ-নবীনের লেখায় পাঠকের কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি করতে পেরেছে।

ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব পর্যায়ে মামুনুর রশীদকে নিয়ে প্রথম লেখাটি লিখেছেন অলোক বসু। মামুনুর রশীদকে ‘মঞ্চের যুধিষ্ঠির’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। সমসাময়িকরা অবশ্য প্রশ্ন রেখেছেন, ‘যুধিষ্ঠির’ কেন? পাল্টা আরেক পক্ষ বলছেন, তাহলে ‘মঞ্চসারথি’ কেন? ‘মঞ্চকুসুম’ কেন? থাক, এ বিতর্কে আমরা যাব না। আমাদের সংস্কৃতিজনরা কাজেই বিখ্যাত, বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। এ সংখ্যায় কয়েকটি সুলিখিত রচনা স্থান পেয়েছে। যেমনÑ সৈয়দ শামসুল হকের নাটক নিয়ে ড. তানভীর আহমেদ সিডনির গবেষণামূলক রচনা, ‘শিখ-ীকথা জাতীয় উৎসব’ নিয়ে অমৃতাভ মিহিরের মনোজ্ঞ আলোচনা এবং রুবাইয়াৎ আহমেদের বিগত বছরজুড়ে নতুন নাটকের পর্যালোচনা। নাটকে পেশাদারিত্ব প্রসঙ্গে লিখেছেন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, গোলাম সারওয়ার এবং নাটকে পেশাদারি ভাবনার উপর অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তথ্যবহুল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন প্রাবন্ধিক অপূর্ব কুমার কুণ্ডু। ড. ইসলাম শফিকের ‘আধুনিক বাংলা নাটকে শম্ভু মিত্র অধ্যায়’ এবং যশোরের আঞ্চলিক উপখ্যান নিয়ে নাসরীন মুস্তাফার ‘কুটে-কাহার’ নামে নাটকের পাণ্ডুলিপিটি সংখ্যাটিকে নতুন মাত্রা দান করেছে। আরেকদিকে সমকালীন শিল্প-সংস্কৃতি ও শিল্পকলা একাডেমির নানা কার্যক্রম নিয়ে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর বিশেষ সাক্ষাতকার, যেটি গ্রহণ করেছেন সাংবাদিক ফারুক হোসেন শিহাবÑ খুবই সময়োচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হয়েছে।

মঞ্চকথা উপদেষ্টা পরিষদে আছেন ড. আফসার আহমদ, দেবপ্রসাদ দেবনাথ, কাজী রফিক। সম্পাদকম-লীতেÑ ড. তানভীর আহমেদ সিডনি ও আরেফা সুলতানা লিনা। কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি নিয়ে প্রচ্ছদটি ভাল হয়েছে। অন্যবারের চেয়ে এবারের লেখা নির্বাচন ও মান দুই-ই ভাল। এই ‘ভাল’ কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে সেটা নির্ভর করে সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলামের মনমানসিকতা ও সামগ্রিকতার ওপর। ‘মঞ্চকথা’র যাত্রা শুভ হোক।

-মিলন কান্তি দে

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

২৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: