মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রংপুর মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন দুই চালক

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

মানিক সরকার মানিক, রংপুর ॥ ময়মনসিংহ থেকে মাল নিয়ে ট্রাক চালিয়ে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার সিংগিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম। পাশের সিটে অপর সহকর্মী বন্ধু ট্রাকচালক আব্দুল মালেক। তিনি ফিরছিলেন বিশ্ব এজতেমা থেকে। পথিমধ্যে রফিকের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বাড়ির উদ্দেশে তার ট্রাকেই চেপে বসেন তিনি। দুই চালক বন্ধুর নানা গল্পগুজবে ভালই কাটছিল সময়। বুধবার রাত অনুমান সাড়ে ৯টায় চলন্ত ট্রাকটি যখন দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার গড়েয়া ভাদগাঁ ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করছিল তখন চালক রফিকুল সামনে দেখতে পান এক যুবক এক বাসা থেকে বের হয়ে তার হাতে রাখা কী যেন এক বস্তুতে আগুন জ্বালিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। আস্তে-ধীরেই যুবকটি তার ট্রাকের কাছে এলো। রফিকুলের গাড়ির গতি তখন বেশ কম। এরই মাঝে ওই যুবক আগুনের সেই বস্তুটি আকস্মিক ছুড়ে মারল তাকে উদ্দেশ করে। নিমিষেই আগুন ধরে গেল ট্রাকের ডালা আর দুই চালক বন্ধু এবং অপর যাত্রী চৌধুরীর চোখে-মুখে। তাঁরা দ্রুত ট্রাক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে নিয়ে আসেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। বুধবার রাতে দিনাজপুরের কাহারোলে ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনার এভাবেই বর্ণনা দেন দগ্ধ চালক রফিকুলের ভাতিজা আপেল মাহমুদ।

রফিকুল (৪৫) এবং তার বন্ধু আব্দুল মালেকের (৫০) সমস্ত মুখম-ল, গলা-হাত আগুনে ঝলসে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। রফিকের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর থানার সিংগিয়া গ্রামে। তার রয়েছে চারটি মেয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন তখন তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম শুধুই আহাজারি করছিলেন। আর মালেকের বাড়ি নীলফামারী জেলার সোহাদিয়া বোচা গ্রামে। একই অবস্থা তার ক্ষেত্রেও। স্ত্রী মমতা বেগম জানালেন, রাত সাড়ে ৮টায় স্বামীকে ফোন করলে তিনি তাকে জানান, ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বাসায় পৌঁছে যাবে। কিন্তু ভোরে মোবাইলে খবর পেলেন এই দুর্ঘটনার। তাঁর রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামীর এ অবস্থা দেখে তিনিও বার বার মূর্ছা গিয়ে বলছিলেন তার সন্তানদের এখন কী হবে? জানা গেছে, ট্রাকে চৌধুরী নামে আরেক যাত্রী ছিলেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশও ঝলসে গেছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত থাকায় তাকে দিনাজপুর মেডিক্যালেই রাখা হয়েছে।

রফিকুল এবং মালেক ছাড়াও বুধবার রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অপর পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হন আনিসুল (২৬) নামের আরেক ট্রাকচালক। তারও চোখ-মুখম-লসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ঝলসে গেছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আনিসের ভাই আব্দুল ওয়াহাব জানালেন, ঘোড়াঘাট থেকে মাল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তাঁর ভাই। কিন্তু ঘোড়াঘাট থেকে আর বের হতে পারেননি। সেখানেই পেট্রোলবোমার শিকার হন তিনি। ট্রাকচালক এ তিনজন ছাড়াও রংপুর মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে পেট্রোলবোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন রংপুরের বদরগঞ্জের কালুপাড়ার আসাদুল (৩৫) ও গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ির স্বপন (৩৫)। গত ১২ জানুয়ারি রংপুর থেকে বাসে করে ঢাকায় যাওয়ার পথে গোবিন্দগঞ্জে পেট্রোলবোমার শিকার হন তাঁরা। সেখান থেকে তাঁদের বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে গত ১৫ জানুয়ারি সেখান থেকে রংপুরের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ জহুরুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

২৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: