কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আর নয় পরীক্ষাভীতি

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫
  • টিপস্ এ্যান্ড ট্রিকস্

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পরীক্ষা। বাড়ছে উৎকণ্ঠা। কি হবে, কি করব এমন চিন্তা বাসা বাঁধছে সর্বক্ষণ। পরীক্ষার আগে এরকম পরিস্থিতিতে পড়েনি এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে যারা পরীক্ষাভীতি উৎরে যেতে পারে, তারাই পায় কাক্সিক্ষত ফল। তাই নিজের স্বপ্ন পূরণে দূর করতে হবে পরীক্ষা ভীতি। কিছু নিয়ম মেনে চললে দূর করা যায় সব ভয়-ভীতি। পরীক্ষা দেয়াটা হয়ে উঠবে উপভোগ্য। আস জেনে নেই, এমনই কিছু টিপস।

১. পরীক্ষার আগে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়ে তা হলো, সিলেবাস শেষ করতে না পারা। অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা যায় সিলেবাস পুরো শেষ করতে না পেরে অযথাই টেনশনে সময় নষ্ট করে। যতটুকু সিলেবাস শেষ হয়েছে, সেগুলোই ভালভাবে রিভিশন দেয়া উচিত। মনে রাখবে, পরীক্ষার কিছু দিন আগ থেকে নতুন পড়া বন্ধ করে পুরনো পড়াগুলো বার বার পড়াই উত্তম।

২. পরীক্ষার আগে টেস্ট পেপার সমাধান করা উচিত। তাহলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এতে বিভিন্ন বোর্ড বা স্কুলের প্রশ্নপত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। টেস্ট পেপারে অনেক মডেল টেস্ট থাকে। সেগুলো নিজেরা ঘরে বসে দিতে পার। এতে নিজেদের পরখ করে নিতে পারবে। কোথায়, কোন দুর্বলতা আছে, খুঁজে বের করতে পারবে সহজে। এছাড়াও বার বার মডেল টেস্ট দিলে পরীক্ষা ভীতি কমে যায়। পরীক্ষা দেয়ার অনুশীলনের ফলে আসল পরীক্ষায় অনভ্যস্ততার সমস্যায় পড়তে হয় না। এজন্য যত বেশি পারো মডেল টেস্ট দাও।

৩. তুমি কখন পড়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ কর, তার ভিত্তিতে রুটিন করে পড়া উচিত। এলোমেলোভাবে পড়লে মনে হবে কিছুই পড়া হয়নি। তাই রুটিন করে পড়। যে সময়টাতে তুমি গণিত করতে ভালবাস, সে সময়টা গণিতের জন্য বরাদ্দ রাখ। এভাবে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ আর ভাললাগাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি বিষয়ের রুটিন তৈরি করে পড়।

৪. রুুটিন তৈরির সময় কোন বিষয় কতটুকু বাকি আছে, তা বিবেচনা করতে হবে। যে বিষয়টির পড়া অনেক বেশি বাকি, সেখানে বেশি সময় দিতে হবে। কিন্তু মনে রাখবে, কেবল একটি বিষয় নিয়েই পরে থাকলে হবে না। সব বিষয়ের ওপর তোমার সামগ্রিক ফলাফল নির্ভর করে। তাই সব বিষয়ই প্রতিদিনের রুটিনে থাকা উচিত। প্রতিদিন না হলেও অন্তত সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন প্রতিটি বিষয় পড়া হবে, এমনভাবে রুটিন তৈরি করে পড়তে হবে।

৫. অনেক সময়ই দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শুধু গণিত লেখে, অন্য কোন বিষয় লেখে না। শুধু মুখস্ত বিদ্যাকে ভরসা করে পরীক্ষার হলে যায়। কিন্তু ভাল ফলাফলের জন্য পড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিখতেও হবে। পড়ার সঙ্গে লেখা হলে বিষয়টি ভালভাবে মনে থাকে। পরীক্ষার সময় কি যেন পড়েছিলাম, কি যেন পড়েছিলাম এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মেলে।

শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে সব প্রশ্নের উত্তর লিখে শেষ করতে পারে না। প্রথম দিকে ধীরে ধীরে লেখে, আর শেষের দিকে তাড়াহুড়ো পড়ে যায় তবু শেষ হয় না অনেক প্রশ্নের উত্তরই। এজন্য দরকার সময় বেঁধে লেখার অভ্যাস।

৬. ভুলে গেছি, যা পড়েছি সব ভুলে গেছি, কিছুই মনে পড়ছে না, এরকম নানা মন্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রায়ই করতে দেখা যায়। একারণে অনেকেই বিষণœœতা, দুশ্চিন্তায় ভোগে। এটা হয় সাধারণত দুশ্চিন্তা থেকে। তাই এমদম দুশ্চিন্তা করা চলবে না।

৭. স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল-এই প্রবাদের সঙ্গে তোমরা নিশ্চয়ই পরিচিত। পরীক্ষার আগে স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে পরীক্ষা ভীতি অনেক বেড়ে যায়। এজন্য স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সচেষ্ট থাকতে হবে। অনেক শিক্ষার্থীই নাওয়া খাওয়া ভুলে কেবল পড়ে, মন মগজকে বিশ্রাম দেয় না। এটা ঠিক নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। একটানা অনেকক্ষণ পড়া উচিত হবে না। পড়ার মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে হবে।

৮. ভীতি একটি মানসিক ব্যাপার। ইয়োগা বা যোগব্যায়াম কিংবা মেডিটেশনের মাধ্যমে শরীরে শিথিলায়ন আনা যায়। ফলে দুশ্চিন্তা কমে যায়, সেই সঙ্গে কমে যায় ভীতি। তোমরাও এগুলো করতে পার।

৯. অনেক শিক্ষার্থী নতুন জায়গায় খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে অচেনা পরীক্ষা কেন্দ্র তার ভয় বাড়িয়ে দেয়। এজন্য পরীক্ষার আগে সম্ভব হলে পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে আসা উচিত। তাহলে প্রথম দিন পরীক্ষা দিতে অচেনা জায়গার ভীতি দূর হয়ে যাবে।

১০. তোমার অমুক বন্ধু এটা শেষ করে ফেলেছে, তমুক বন্ধু ওটা শেষ করে ফেলেছে, এমন তুলনায় যাবে না। মনে রাখবে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে গেলেই ভয় আঁকড়ে ধরবে। তুলনা না করে নিজে যা পড়েছ, সেটাই মনে মনে আওড়াবে।

এই টিপসগুলো অনুসরণ করলে দেখবে পরীক্ষা নিয়ে তোমার মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে গেছে। আত্মবিশ্বাসই পারে পরীক্ষাভীতিকে পরাজিত করতে। তাই টিপস অনুযায়ী চলার সঙ্গে সঙ্গে আমি পারি, আমি পারব এই কথাগুলো বার বার নিজে নিজে আওড়াতে থাকো, দেখবে তোমার মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। তোমাদের জন্য রইল শুভকামনা।

আরিফুর সবুজ

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

২২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: