রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মনে সাহস রেখো

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫
  • ডাক্তারের পরামর্শ

সামনে এসএসসি পরীক্ষা। একে সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। জীবনে সবসময় পরীক্ষা আছে, থাকবে। এর মুখোমুখি হতে হবে, একে সামাল দিতে হবে।

আর মনে রেখো, পরীক্ষা সামনে থাকলে মনে এক আধটু চাপ পড়বেই। আর চাপ আছে বলেই আমরা একে অতিক্রম করার প্রাণান্ত চেষ্টা করি, প্রস্তুতি নেই ভাল ফলের জন্য। পারফরম্যান্স ভাল হওয়ার পেছনে মনের চাপের একটি ভূমিকা আছে। আর দেখ; মা-বাবা, স্বজন, স্কুল কলেজ, শিক্ষক সবার একটি প্রত্যাশাও তো আছে তোমাকে ঘিরে। নয়? তাই চাপ তো থাকবেই। আর এই চাপকে নিয়ন্ত্রণ করে যদি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিতে পার, তাহলে চাপ কাজ করে ইতিবাচক : তখন পারফরম্যান্স তুঙ্গে ওঠে।

পরীক্ষার চাপ মোকাবেলার কৌশল

০ গুছিয়ে নাও নিজেকে। কেমন পরীক্ষা দিচ্ছ, তা জানলে একে সামলানোর জন্য একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা করা সম্ভব। কিভাবে পরীক্ষা হবে, সিলেবাস কি, কেমন পরীক্ষা, গত কয়েক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, সমাধান, শিক্ষকের পরামর্শ সবই জানা, কাজে দেবে। কোর্স রিভিশন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

০ পরীক্ষার বেশ আগে সময় হাতে নিয়ে রিভিশন পরিকল্পনা করতে হয়। এর একটি বাস্তবসম্মত অথচ নমনীয় সময়সূচী করা ভাল। পরীক্ষার সময়সূচীর সঙ্গে যেন তা সঙ্গতিপূর্ণ থাকে, যাতে সব বিষয় রিভিশন শেষ হয়। পরিকল্পনার সময় নিজের জন্য স্পষ্ট অগ্রাধিকার যেন থাকে, রাত দিন সময় ও এর অন্যান্য চাহিদা যেমন খাওয়াদাওয়া, ঘুম, অন্যান্য প্রাত্যহিক কাজ, এমনকি বিশ্রামের সময় সব কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে যেন রিভিশনের সময়সূচী করা হয়। দিনে রাতে পড়াশোনা করার শ্রেষ্ঠ সময় কোন্টি তাও ঠিক করে নাও।

০ সব সময় যে শান্ত, কলরবহীন এবং স্বস্তিকর স্থান পাবে রিভিশনের জন্য, তা কিন্তু নয়। বাসাতে বা স্কুলে, হোস্টেলে স্থান করে নেবে রিভিশনের জন্য, অবস্থা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী। লাইব্রেরিতেও রিভিশন দেয়া যায় খানিকটা।

রিভিশনের নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই, নিজের জন্য যা যথাযথ হয় তাই বেছে নিতে হয় আর পরীক্ষা যে রকম সে অনুযায়ী (নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা, মালটিপল চয়েস, ছোট প্রশ্নোত্তর, গণনা) প্রস্তুতি নিবে।

পদ্ধতির মধ্যে হলো টেক্সটবই থেকে যে নোট করেছ নিজে, সেগুলো রিভাইস করলে, বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্তসার দ্রুত লিখলে। কেউ জোরে পড়লে। সন তারিখ, ফরমুলা সূত্র মুখস্থ করলে। চিত্রগুলো বার বার এঁকে নিলে। এভাবে প্রস্তুতি এগুবে।

প্রতিবার রিভিশনের পর একটু ঘুরে এসো, পায়চারি করো, হাল্কা কোন কাজ করো। চাপ কমাবার জন্য বেশি চা, কফি বা কোমলপানীয় খাবে। এতে বরং উত্তেজনা বাড়ে, চাপ কমে না। সময় নির্ধারণ করে একটি প্রশ্নপত্র উত্তর করার প্রস্তুতি বেশি কাজে লাগে। টেস্ট পেপার সলভ করতে পারো এভাবে। একে বলে চৎধপঃরংরহম ঃরসবফ বীধস য়ঁবংঃরড়হং ধহফ ঢ়ধঢ়বৎং. এভাবে প্রকৃত পরীক্ষার একটি ধারণা আগে পাওয়া যাবে ও পরীক্ষাভীতিও কেটে যাবে।

চাপ হ্রাসের উপায়

কি করে শিথিল হতে হয় তা জানা উচিত। পরীক্ষার আগে, এমনকি পরীক্ষা হলে বসেও সোজাসুজি, কার্যকর ও স্বনির্ভর কৌশল বেশি উযোগী।

শ্বাসক্রিয়া কৌশল

চাপ হলে শ্বাস হতে পারে দ্রুত, অগভীর শ্বাস, হার্টের ধুকপুকানিও যায় বেড়ে। এমন হলে, কোথাও শান্ত হয়ে বসো স্বস্তিতে, পেটের উপর একটি হাত রেখে দেখো কত দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস হচ্ছে। প্রতি এক/দুই সেকেন্ডে একটি করে শ্বাস হলে, তেমন হলে নাও একটি গভীর শ্বাস এবং স্থিরভাবে গুনতে থাক। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ো বেশিরভাগ শ্বাস ছাড়ো প্রথম ৫ সেকেন্ডে। এভাবে করতে থাক। এক সময় দেখবে স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়া ফিরে পারে, স্বাভাবিক ছন্দের। মনও লঘু হয়ে যাবে।

শিথিলায়ন সূচী

০ চোখ বন্ধ কর এবং শ্বাস নাও ধীরে ও গভীরভাবে।

০ টেনশন হচ্ছে এমন স্থান বেছে নাও, সেইসব পেশী শিথিল করার চেষ্টা কর, কল্পনা করেছ টেনশন সরে যাচ্ছে, অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

০ পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের সব অংশ শিথিল কর।

০ শরীরের প্রতিটি অংশের দিকে যখন মন নিবদ্ধ করবে তখন ভাবো সে স্থানটি গরম হয়ে উঠেছে, ভারি হয়ে উঠল এবং শিথিল হলো।

০ ২০ মিনিটি পর, কয়েকটি গভীর শ্বাস নাও এবং স্ট্রেচ কর। হাত পা ছুড়ে নাও।

শরীরচর্চা

০ চাপ হ্রাসের ভাল উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো, জিমে শরীর চর্চা মন করে প্রফুল্ল, শরীর করে ঝরঝরে।

০ যোগ ব্যায়াম ও ম্যাসেজ চাপ কমাতে বেশ উপযোগী

ঘুম

ক্লান্ত হলে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ যায় বেড়ে। ঘুমাতে সমস্যা হলে চা, কফি, চকোলেট খাবে না, শোবার আগে কিছু সময় শিথিল হয়ে নেবে। উষ্ণধারা জলে স্নান করলে বা স্নানঘরে জলের সঙ্গে ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে স্নান করলে শরীর মন স্নিগ্ধ হয়, ঘুম আসে।

বন্ধু বান্ধব, পরীক্ষার্থী সহপাঠীদের সঙ্গে মনের অনুভূতি ও সমস্যা শেয়ার করলে সমস্যা অনেক সমাধান হয়। মা-বাবা ও ভাইবোন তোমার এ ব্যাপারে বড় অবলম্বন হতে পারে।

নিজেকে জানো। নিজের উপর ভরসা রাখো। তুমি পারবেই। চাপ হলেই ভয় কেন? লেখাপড়া করো মন দিয়ে। পরীক্ষা ভাল হবে। মনে হবে সব ভুলে গেছ, দেখবে পরীক্ষার হলে গেলে ঠিক মনে পড়বে। নিজের যতœ নাও। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া কর, শিথিল হওয়ার ব্যায়াম কর। মন প্রফুল্ল রাখ। দেখবে ভাল হবে পরীক্ষা। তোমাদের জন্য রইল আগাম শুভকামনা।

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস

বারডেম, ঢাকা ॥

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

২২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: