রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দাও

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

এসএসসি পরীক্ষার আর বেশি দিন নেই। তাই এ সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি হিসেবে সব বিষয়ের প্রতি সমান মনোযোগ দেবে। সাধারণত শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিবেচনায় কঠিন বিষয়ের দিকেই বেশি নজর দেয়। অপেক্ষাকৃত সহজ বিষয়গুলোর ব্যাপারে তেমন মনোযোগ দেয় না। এটা ঠিক নয়। সব বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী অংশের উত্তর খুব সতর্কতার সঙ্গে পড়তে হবে।

ছাত্রছাত্রীরা এ বছরের জন্য যা যা বাছাই করেছে, শুধু সেসব বিষয় রিভিশন দিলেই চলবে। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পরে তা অন্তত দুইবার পড়ে নেবে। দেখবে কোনটি তোমার শেখা থেকে এসেছে। এরপর নির্বাচন করবে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর দেবে। সঠিকভাবে প্রশ্ন নির্বাচন করে তবেই উত্তর লেখা আরম্ভ করবে। দৃঢ় আত্মবিশ^াস ও আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে তোমাদের কিছু বিষয় মনে রাখা একান্ত প্রয়োজন। যা আত্মবিশ^াস বৃৃদ্ধি ও পরীক্ষায় ভাল ফলের জন্য অত্যাবশ্যক। যেমনÑ

১. কঠিন বিষয়গুলো পড়ার পাশাপাশি বেশি করে লিখবে। কারণ এতে বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হবে এবং আত্মবিশ^াস বাড়বে।

২. পরীক্ষার ব্যাপারে কোন দুশ্চিন্তা করবে না। তুমি পড়াশোনা করেছ। সুতরাং পরীক্ষা অবশ্যই ভাল হবে।

৩. কাক্সিক্ষত ভাল ফলের জন্য সব বিষয় সমগুরুত্ব দিয়ে পড়বে।

৪. মনে রাখবে পরীক্ষা পরীক্ষাই। এটি জীবনের সবকিছু নয়। জীবনে এ রকম অনেক পরীক্ষায় তোমাকে অবতীর্ণ হতে হবে। পরীক্ষার ফল যাই হোক, এই পরীক্ষায় অর্জিত অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে তোমাকে সামনের দিনগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সাহস ও প্রেরণা যোগাবে।

৫. সুতরাং নির্ভয়ে নিশ্চিন্ত মনে ঠা-া মাথায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এই মুহূর্তে তোমার সুস্থ থাকার বিষয়টি খুবই প্রয়োজন। শরীর ও মনের সর্বোচ্চ স্ফুর্তি নিয়ে সুস্থ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে খুব ভাল ফল করবে।

৬. তুমি ভাল ফল করলে শুধু তোমার আনন্দ নয়; তোমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং তোমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই আনন্দিত হবেন। সর্বোপরি তোমার মতো আলোকিত শিক্ষার্থী আমাদের আলোকিত বাংলাদেশ উপহার দিবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা

অধ্যক্ষ, রাজউক উত্তরা কলেজ

শিক্ষকের পরামর্শ

আস্থা রাখ নিজের ওপর

প্রিয় পরীক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। এসএসসি পরীক্ষার আর তেমন সময় নেই। এ সময়ে তোমাদের উদ্দেশে পরামর্শ হলো, পরীক্ষা কিছুটা ভাল-মন্দ হতেই পারে, এ নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামিও না, এমনকি পরীক্ষা ভাল হলেও নয়, কারণ এ ক্ষেত্রে অনেকে অতি উৎফুল্ল হয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছুটা অমনোযোগী বা উদাসিন হয়ে পড়ার সম্ভবনা থাকে। আর খারাপ হলে মন খারাপ এবং হতাশা থেকে মানসিক এমনকি শারীরিকভাবেও ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থেকে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি খারাপ হওয়াসহ সমগ্র পরীক্ষাই খারাপ হতে পারে। যা অত্যন্ত দুংখজনক। তাই যে পরীক্ষাটি শেষ হলো সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বরং পরের পরীক্ষাটি নিয়ে চিন্তা করা অর্থাৎ ভালভাবে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া উচিত। বিষয়টিতে অভিভাবকদেরই উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ করে তাঁদের উচিত বিগত পরীক্ষা ভাল-মন্দ যাই হোক সেটা নিয়ে নিজে মাথা না ঘামানো এবং সন্তানও যাতে তা করার সুয়োগ না পায়, সেজন্য প্রশ্ন অন্যত্র সরিয়ে রাখা উচিত।

আর পরীক্ষার রাতে অতিরিক্ত রাত জেগে পড়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাই চেষ্টা করবে এটি পরিহার করতে। এ সময়ে নিয়মিত পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করবে এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশ ও এর প্রভাব বলয় থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলবে। বিশেষ করে শরীরের কোন অঙ্গে আঘাত লাগতে পারে এমন খেলাধুলা বর্জন করবে। আর পরীক্ষাকে কখনও ভয় পাবে না। নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখবে।

এমএ কালাম

অধ্যক্ষ, গুলশান কমার্স কলেজ, ঢাকা

আত্মবিশ্বাসী হও

পরীক্ষার খাতায় লেখার মাধ্যমে নিজের পারদর্শিতা প্রমাণ করতে হয়। আর লিখতে হয় একটি কলম দিয়ে। মূলত পরীক্ষায় আশানুরূপ রেজাল্ট অর্জনের পেছনে এই কলমেরও গুরুত্ব থাকে। যেহেতু তুমি এতদিন নানা রকম কলম ব্যবহার করে লিখছ। একটু ভেবে দেখ তো, কোন কলমটি দিয়ে তুমি আরমদায়কভাবে লিখতে পেরেছে। ঐ কলমটি বেশ কয়েকটি সংগ্রহ কর এবং এখন থেকে যা-ই লিখবে নির্দিষ্ট কলমটি দিয়েই লেখার চেষ্টা করবে। এর ফলে পরীক্ষার হলে কলম নিয়ে তোমার অস্বস্তি থাকবে না। সেই সঙ্গে নিশ্চিন্তে কাক্সিক্ষত লেখাটুকু লিখতে পারবে।

অনেকে পরীক্ষার খাতায় নানা রঙের কলম ও কালি ব্যবহার করে থাকে। এতে সময় যেমন নষ্ট হয় তেমনি খাতার উপস্থাপনার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। তাই তোমরা এরকমটি করবে না। মার্জিন করার ক্ষেত্রে একটি ভাল মানের পেন্সিল ব্যবহার করবে। বিশেষ পয়েন্ট চিহ্নিত করার জন্য সবুজ, নীল বা হলুদ যে কোন একটি অথবা তোমার লেখার কলম অথবা মার্জিনের পেন্সিলটিও ব্যবহার করতে পার। মনে রাখবে, নানা রকম অতিরঞ্জিত কালি ব্যবহার করলে খাতার সৌন্দর্য নষ্ট হবে এবং তা নম্বর প্রাপ্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষার খাতায় লিখতে গিয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর যদি পৃষ্ঠার শেষাংশে গিয়ে সমাপ্ত হয় তবে অন্য পৃষ্ঠায় গিয়ে পরবর্তী প্রশ্নের উত্তরটি লিখতে হবে। লেখার সময় উপরে ও বামপাশে একস্কেল এবং নিচে ও ডানপাশে হাফস্কেল জায়গা ফাঁকা রাখবে।

অনেক সময় লিখতে গিয়ে ভুল হয়। সেক্ষেত্রে একটানে ভুল লেখাটি কাটবে এবং সামনে থেকে পরবর্তী লেখা শুরু করবে। অহেতুক একাধিক ক্রস চিহ্ন বা কাটাকাটি করবে না। যে কোন বিষয় লেখার সময় একটি কথা খেয়াল রাখবে ন, ণ এবং শ, স, ষ ্ইত্যাদির ব্যবহার ঠিক মতো হলো কি না। কারণ এগুলোর ক্ষেত্রে বানান ভুল হয়। যদি কেউ এগুলো শুদ্ধ করতে পার তবে যিনি খাতা মূল্যায়ন করবে পরীক্ষার্থী সম্পর্কে তার ধারণা ভাল থাকবে এবং নম্বর প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে।

কর্নেল নুরন্ নবী (অব.)

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ

মাইলস্টোন কলেজ

উত্তরা, ঢাকা

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

২২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: