মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হত্যার হুকুমের আসামি খালেদার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫
হত্যার হুকুমের আসামি খালেদার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা
  • সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, ঘরবাড়ি ছেলে দলীয় কার্যালয়ে বসে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অবরোধ-হরতালের নামে মানুষ হত্যার হুকুম দিচ্ছেন। তাঁর হুকুমেই মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে, মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। মানুষ হত্যার ‘হুকুমের আসামি’ হিসেবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই যুক্তিযুক্ত। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকারের উন্নয়নে ভীত হয়েই বিএনপি-জামায়াত জোট নাশকতা ও দেশে অরাজকতা করার চেষ্টা করছে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাবেন ধরে পুলিশে সোপর্দ করুন। আপনারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নাশকতার পূর্ব তথ্য সরবরাহ করে জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা করুন। সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সর্বদা তৎপর রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও নির্বাচন বানচালের নামে শত শত মানুষকে হত্যা করেছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। নৃশংসভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন তিনি। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়। দেশকে আমরা সবদিক থেকে এগিয়ে নিচ্ছি, জাতীয়-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন পরিচিত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষ যখন একটু শান্তির মুখ দেখছে, উন্নয়নের ছোঁয়া পাচ্ছে, দু’বেলা খেয়েপরে স্বস্তিতে রয়েছে, ঠিক তখনই হঠাৎ করে কোন ইস্যু ছাড়াই খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা শুরু করেছেন। ২০১৩ সালের মতো পুনরায় মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা শুরু করেছেন। ইসলাম ধর্মও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা সমর্থন করে না। অথচ উনি হুকুম দিয়ে মানুষ খুন করাচ্ছেন।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, খালেদা জিয়া কেন মানুষ হত্যায় নেমেছেন? কেন নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছেন, প্রাণ কেড়ে নিচ্ছেন- তা বোধগম্য নয়। আহত-নিহতদের পুনর্বাসনে সরকার থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী অনিকের মুখে বোমা মেরে তার এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়া হয়েছে, অন্য চোখও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার কী অপরাধ ছিল? অনিককে আমরা মাদ্রাজে শংকর নেত্রালয়ে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। বিএনপি-জামায়াতের হামলায় আহতদের চিকিৎসাসহ নানা সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর মূল প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে ভীত হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট নাশকতামূলক কাজ এবং অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের কোন সমর্থন না পেয়ে তারা আরও নাশকতামূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তারা বিবেক-বর্জিতভাবে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, কোথাও যাত্রীবাহী গাড়িতে গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত আগুন দিয়ে নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করছে। সম্প্রতি একজন গর্ভবতী মহিলা তাদের নাশকতার শিকার হয়েছেন, তার শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে গেছে এবং গর্ভের শিশুটি মারা গেছে। তাদের এমন পৈশাচিক হত্যাকা- ১৯৭১ সালের পাক-সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। আমার প্রশ্ন- এটা কোন রাজনীতি? এরকম কাজে যারা লিপ্ত তারা কি মানুষ? তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব সরকারের। এজন্য পুলিশ, বিজিবি, আনসার বাহিনী নিয়োগ করে সন্ত্রাস ও নাশকতা দমনের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, পুলিশ-বিজিবির বিশেষ পাহারায় বাস ও ট্রাক চালানো, রেললাইন পাহারা দেয়ার জন্য আনসার নিয়োগসহ নাশকতা মোকাবেলায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছে সরকার। তা সত্ত্বেও বিএনপি-জামায়াত চোরাগোপ্তা নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত পুলিশ বাহিনী। এ বাহিনীকে অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার বহুবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। কার্যকরভাবে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা, রংপুর ও গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠন এবং এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সকল প্রকার অপরাধী তথা-জঙ্গী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল বা দ্রব্য উদ্ধারকল্পে অব্যাহতভাবে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জঙ্গীবাদসহ নিত্যনতুন অপরাধ দমনে বিজ্ঞানভিত্তিক এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

সরকারী দলের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০১৩ সালে সহিংস তা-ব চালিয়ে নৃশংসভাবে বহু মানুষ হত্যা করেছে, পুলিশ মেরেছে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সে সময় সাতক্ষীরা জেলাতেও জামায়াত-শিবির ও বিএনপির তা-বে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৬ জন নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের সরকারীভাবে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের ও আহতদের মধ্যে ৮৩ জনকে সরকারীভাবে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এ দেশের মেহনতি কৃষক উদয়াস্ত পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলায়। আমাদের কৃষিবান্ধব কর্মকা- অর্থাৎ কৃষি উন্নয়নে সমন্বিত, যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আমরা খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। ফলে বর্তমান সরকার শ্রীলঙ্কায় চাল রফতানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর ইতোমধ্যে ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল শ্রীলঙ্কায় রফতানি করা হয়েছে। এছাড়া ভারত সরকারও ২০-৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশ থেকে ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে চাল রফতানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

২২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: