কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ক্যারিয়ারই শেষ কস্টনারের

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫
  • ১৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা

মাহমুদা সুবর্ণা ॥ অবশেষে নিষিদ্ধই হলেন ফিগার স্কেটিং তারকা ক্যারোলিনা কস্টনার। ২০১২ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কস্টনারকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অলিম্পিক রেস ওয়াকার স্বর্ণপদকজয়ী এ্যালেক্স শোয়াজারকে ডোপিং আইন ভাঙ্গার পর সমর্থন দেয়ার কারণে। পরে জিজ্ঞাসাবাদেও সেভাবে সহযোগিতা করেননি ইতালিয়ান স্ক্যাটার ক্যারোলিনা। আর এই অপরাধে শুক্রবার তাকে ১৬ মাসের জন্য সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে অনেকেই মনে করছেন ২৭ বছর বয়সী ক্যারোলিনা কস্টনারের ক্যারিয়ার কার্যত শেষই হয়ে গেছে।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচবার স্বর্ণ জিতেছেন ক্যারোলিনা কস্টনার। আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে একবার। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে এছাড়াও নানা কীর্তি গড়েছেন তিনি। এদিকে ২০০৮ সালে শোয়াজার অলিম্পিক স্বর্ণজয় করেছিলেন। পরে ২০১২ অলিম্পিকে তিনি অংশ নিতে পারেননি ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার কারণে। তাঁর রক্তে উদ্দীপক পদার্থ ইপিও ধরা পড়েছিল। পরে এ্যাথলেটিক্স ছাড়ার পর তাঁকে সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় ২০১৩ সালে। কিন্তু গত বছর আবারও চার বছরের নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলা হয় তার বিপক্ষে। এবার অভিযোগ আন্তর্জাতিক ডোপিং আইন লঙ্ঘন। আর এসব ক্ষেত্রে শোয়জারের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন কস্টনার। আর এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁকেও সাজা দেয়ার দাবি করে আসছিল সরকারী আইনজীবী। এবার সেই শাস্তিটাই পেতে হলো কস্টনারকে। ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তে এসে দারুণ কষ্টকর এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির এন্টি ডোপিং (সিওএনআই) বিভাগের সরকারী আইনজীবীর দাবিতে নিষিদ্ধ হন তিনি। তাহলে কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে প্রতিভাময়ী এ ফিগার স্কেটারের ক্যারিয়ার? ১৬ মাস নিষেধাজ্ঞার কবলে পরার পর বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করছেন। মাত্র চার বছর বয়সে স্কেটিং শুরু করেছিলেন কস্টনার। তাঁর বাবার পরিবারের অধিকাংশই ক্রীড়াঙ্গনে জড়িত। সেভাবেই যে কোন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দিকে আকৃষ্ট হয়েছেন। তবে সেটা শৈল্পিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর পেছনেও একটা কারণ রয়েছে। কস্টনারের মায়ের পরিবার আবার শিল্পকলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একইসঙ্গে শিল্প আর ক্রীড়া ফিগার স্কেটিংয়ের চেয়ে ভাল মঞ্চ আর কি হতে পারে? তাই যেন ফিগার স্কেটিংয়ের সঙ্গেই যুক্ত হলেন তিনি। এ বিষয়ে কস্টনার নিজেই এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ক্রীড়া এবং শিল্পের দারুণ সমন্বয় ফিগার স্কেটিং।’

তবে কস্টনারের জীবনটা ছিল কষ্টের। ২০০১ সালে ভূমিধসে তাঁদের বাড়ি পুরোপুরি ভেঙ্গে গিয়েছিল। পরে জার্মানিতে চলে আসে তাঁর পরিবার। বোলজানো নামের সেই স্থান থেকে চার ঘণ্টার গাড়ি ভ্রমণের দূরত্বে অবার্স্টডর্ফে মাইকেল হাথের সঙ্গে স্কেটিংয়ে দীক্ষা নেয়া শুরু। ২০০২-০৩ মৌসুমে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরুর আগে জুনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ আর জুনিয়র গ্রাঁ প্রিতে রৌপ্য জিতেছিলেন তিনি। তাও আবার রেকর্ড গড়ে। প্রথম কোন ইতালিয়ান নারীর জুনিয়র বিশ্ব আসরে পদক জয়ের ঘটনা। তবে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরুর পর বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। ২০০৫ সালে মস্কো বিশ্ব আসরে ও ২০০৬ সালে ইউরোপিয়ান আসরে ব্রোঞ্জ জিতে আবারও পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন তিনি। সে বছর শীতকালীন অলিম্পিকে ইতালি দলের পতাকা বাহকের সম্মানও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। সেবার বিশ্ব আসরে দ্বাদশ হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসে স্বর্ণ জয়ের পর ২০১০, ২০১২ ও ২০১৩ সালেও গড়েন স্বর্ণপদক জয়ের রেকর্ড। ২০১২ বিশ্ব আসরেও সোনা জিতে নিজেকে ইতালির অন্যতম সেরা ফিগার স্কেটার হিসেবে বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত করেছিলেন। তবে তার অসাধারণ সেই সাফল্য এখন ইতিহাস। ডোপিংয়ে সহযোগিতা করার কারণে নিষিদ্ধ হওয়ায় এখন সব অর্জনই ম্লান।

ষোল মাস নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০১৬ সালের মে মাসের ১৫ তারিখে শেষ হবে তার নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে সে বছরই অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারবেন না তিনি। তবে ২০১৮ সালের অলিম্পিকে ঠিক অংশ নিতে পারবেন কস্টনার। আর সেবার তার বয়স হবে ৩২। আর সেবার দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে বয়সের জন্য বিবেচিত হবেন কি না তার উত্তর এখন কেবল সমই দিতে পারে। তবে শুক্রবারের রায়ে মোটেও খুশি হতে পারেননি কস্টনার। বরং হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে কস্টনারের অভিমত হলো, ‘এই রায়ে অবশ্যই আমি সন্তুষ্ট না। এই রায় খুবই তিক্ততার এবং হতাশার।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘শোয়াজারের সম্মানেই আমি কেবল মিথ্যা কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমি কখনোই তাকে সহযোগিতা করিনি। কারণ প্রকৃতপক্ষে আমি জানতামই না যে সে কি করছে।’

শুধু কস্টনারই নন। শোয়াজারের কোচ মাইকেল দিদোনি ১৯৯৫ সালে গোথেনবার্গে ২০ কিলোমিটারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। সম্প্রতি তাকেও সিওএনআই থেকে তলব করা হয়। যদিও সেটার কোন প্রত্যুত্তর করেননি দিদোনি। তাকে শোয়াজারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি না আসায় এখন তাঁর পেছনেও লেগেছে সিওএনআই। তাঁকেও এবার শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

২১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: