মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিস্ময়ের নাম এবি ডি ভিলিয়ার্স!

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫
  • ওয়ানডেতে দ্রুততম পাঁচ সেঞ্চুরি

ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড গড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকান উইলোবাজ এবি ডিভিলিয়ার্স। ১৮ জানুয়ারি’ ২০১৫ নিজেদের মাঠ জোহানেসবার্গে দুর্দান্ত এই কীর্তি গড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি, ৩১ বলে সেঞ্চুরি- ওয়ানডেতে দু’ক্ষেত্রেই গড়েন নতুন রেকর্ড! মাত্র ৪৪ বলে ৯ চার ও ১৬ ছক্কায় ১৪৯ রানের ম্যারাথন ইনিংসের পথে উলট-পালট করে দেন এক দিবসীয় ক্রিকেটের অনেক সমীকরণ। ৫০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৩৯ রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তার মানে দুই অপরাজিতসহ ব্যাট করেন চারজন, ডেভিড মিলার অপরাজিত ০, বাকি তিন ব্যাটসম্যানের তিনজনই হাঁকান সেঞ্চুরি- ডিভিলিয়ার্স ১৪৯, রাইলি রোজাউ ১২৮ ও হাসিম আমলা অপরাজিত ১৫৩! ওয়ানডের ইতিহাসে এমন ঘটনাও এই প্রথম, যেখানে ‘বল ফেস’ করা প্রত্যেকে পেয়েছেন সেঞ্চুরি!

ওয়ান্ডারার্সে যা ঘটেটেছে তার বর্ণনা অসম্ভব। ১১তম ওয়ানডেতে রোজাউর প্রথম সেঞ্চুরি, আমলার ক্যারিয়ারসেরা। কিন্তু ব্যাট হাতে রেকর্ড গড়ে তাদের ম্লান করে দিয়েছেন ডিভিলিয়ার্স। ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি। দ্রুততম সেঞ্চুরির সেই রেকর্ড টিকে ছিল ১৮ বছর। গত বছরের প্রথম দিনে সেটি ভেঙে দিয়ে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি হাকিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের কোরি এ্যান্ডারসন, কাকতালীয় এই ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই বিপক্ষে। এবার মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোরিকে ম্লান করে দিয়ে নায়ক ডিভিলিয়ার্স। ১৬ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা প্রিটোরিয়ান প্রতিভাবান উইলোবাজ রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির মাইলস্টোনে পৌঁছান মাত্র ৩১ বলে, চার ৮ ও ছক্কা ১০টি! বিস্ময়ে ঘোরলাগানিয়া ব্যাটিং বলতে যা বোঝায়। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান নয়, মাঠের বাইরে গ্যালারির দর্শকদের ফিল্ডার বানিয়ে নেন ডিভিলিয়ার্স। ১৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির আগের রেকর্ডটি ছিল সাবেক শ্রীলঙ্কান তারকা সনাথ জয়সুরিয়ার, ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

১৬ ছক্কা রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড। সময়ের হিসেবে ১৯ মিনিটে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো ডিভিলিয়ার্স সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাত্র ৪০ মিনিটে। তিন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিও ওয়ানডেতে নতুন রেকর্ড (দলীয় ইনিংসে)। ৪৩৯/২Ñ ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দলীয় সংগ্রহের নজির। ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান করে এ তালিকায় সবার ওপরে শ্রীলঙ্কা, ২০০৬ সালে হল্যান্ডের বিপক্ষে। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান টপকে জয়ের রেকর্ড প্রোটিয়াদের দখলে, ৪৩৮/৯ (৪৯.৫ ওভার), অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২০০৬ সালে। সেটিও এই ওয়ান্ডারার্সেই! ‘ক্রিজে গিয়ে হাসিম আমলা ও রাইলি রোজাউর এমন সুন্দর ব্যাটিং দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। একদম চাপ অনুভব করিনি। লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব আক্রমণাত্মক ব্যাট চালানো। রেকর্ডের কথা ভেবে কেউ কখনও ক্রিকেট খেলেন না, আমার মাথায়ও সেটা ছিল না। অবশ্য ব্যাটে-বলে সংযোগ হওয়ায় দ্রুত যখন ৯০ রান হয়ে গেল, তখন সিঙ্গেলস না নিয়ে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠানোর সামান্য চেষ্টা তো ছিলই! আমি কেবল সামনে তাকিয়েছি, আর সবকিছু ঠিকঠাক ঘটে গেছে। এটা ভাগ্যের ব্যাপার। আসলে দিনটি ছিল কেবলই আমার।’ খেলা শেষে বলেন রেকর্ডম্যান ডিভিলিয়ার্স। তিনি আরও যোগ করেন ‘প্রথম উইকেট পতনের পর আমি চেয়েছিলাম তিন নম্বরে ব্যাট করুক ডেভিড মিলার। কিন্তু কোচ চেয়েছিলেন আমিই নামি। ক্রিজে গিয়ে প্রথম লক্ষ্য ছিল ২/১ ওভার দেখে-শুনে তারপর মেরে খেলা। যা হয়েছে তা ভাগ্যের সহায়তায়। সতীর্থদের সমর্থনে। কোচ ডমিঙ্গোকেও ধন্যবাদ কারণ দারুণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে।’ বলেন প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক। রোজাউ আউট হওয়ার পর মাঠে নামা নিয়ে ডিভিলিয়ার্সের সঙ্গে কোচের ২/৩ মিনিট কথা হয় বলেও জানান তিনি। ওদিকে অবিশ্বাস্য ডিভিলিয়ার্সকে স্যালুট জানিয়েছেন রেকর্ড হাতছাড়া হওয়া এ্যান্ডারসন। কিউই তারকা অলরাউন্ডার বলেন, ‘রেকর্ডের সৃষ্টিই হয় ভাঙার জন্য। ডিভিলিয়ার্সকে স্যালুট যে সে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন ইতিহাস গড়েছে। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে এমন অর্জনের জন্য সেই উপযুক্ত ব্যাটসম্যান! ৪৪ বলে ১৪৯Ñ আসলেই অসম্ভব সুন্দর।’ এ্যান্ডারসন মনে করেন ডিভিলিয়ার্সের এই রেকর্ডও একদিন কেউ ভেঙে ফেলবেন। ‘৩১ বলে সেঞ্চুরি, খুবই দ্রুত। বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে, যদি সেখানে এমনটা হয় তাহলে দারুণ হবে। তবে একদিন কেউ হয়ত এই রেকর্ডও ভেঙে ফেলবে!’

প্রায় দুই দশক ধরে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড যার দখলে ছিল, সেই আফ্রিদির মন্তব্য, ‘দারুণ খেলেছ বন্ধু। নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিও।’ সাবেক ভারতীয় তারকা রাহুল দ্রাবিড় মজা করে বলেন, ‘টেনশনে ক্রিকেটের নিয়মকানুনই না বদলে যায় এরপর!’ অনিল কুম্বলেরও একই অবস্থা, ‘অবিশ্বাস্য! অনবদ্য ব্যাটিং। বিশ্বের দ্রততম সেঞ্চুরির জন্য ডিভিলিয়ার্সকে অভিনন্দন।’ ডিন জোন্স আবার মনে করেন ভবিষ্যতে এই রেকর্ড আর কেউই ভাঙতে পারবে না! সাবেক ইংলিশ সেনাপতি মাইকেল ভনের বক্তব্য, ‘ক্রিকেট জিনিয়াসের সঙ্গা হতে পারে ডিভিলিয়ার্স-ই।’

ব্যাটসম্যান রান বল ৬/৪ প্রতিপক্ষ ভেন্যু তারিখ

ডিভিলিয়ার্স (দ.আফ্রিকা) ১৪৯ ৩১ ১৬/৯ ও.ইন্ডিজ জোহানেসবার্গ ১৮/০১/২০১৫

এ্যান্ডারসন (নিউজিল্যান্ড) ১৩১* ৩৬ ১৪/৬ ও.ইন্ডিজ কুইন্সটাউন ০১/০১/২০১৪

আফ্রিদি (পাকিস্তান) ১০২ ৩৭ ১১/৬ শ্রীলঙ্কা নাইরোবি ০৪/১০/১৯৯৬

বাউচার (দ.আফ্রিকা) ১৪৭* ৪৪ ১০/৮ জিম্বাবুইয়ে পচেফস্ট্রম ২০/০৯/২০০৬

লারা (ও.ইন্ডিজ) ১১৭ ৪৫ ৪/১৮ বাংলাদেশ ঢাকা ০৯/১০/১৯৯৯

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

২১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: