কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রেল বহরে যোগ হচ্ছে ১২০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫
  • ভারতের সঙ্গে আজ চুক্তি সই

মশিউর রহমান খান ॥ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যোগ হচ্ছে নতুন ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ। যাত্রী ভোগান্তি দূর ও রেলপথে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমানের চেয়ে আরও উন্নত যাত্রীসেবা প্রদান করতে ভারতের অর্থায়নে এ কোচগুলো সংগ্রহ করা হবে। কোচগুলো কিনতে ব্যয় হবে এক হাজার ১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের মাধ্যমে রেলপথে যোগ হলে রেল কর্তৃপক্ষ আরও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। আজ দুপুরে রেলভবনে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ’ নামের এ প্রকল্পে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইতোপূর্বে এ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আধুনিক নিরাপদ ও মানসম্পন্ন যাত্রীবাহী ক্যারেজ (কোচ) পরিচালনা করে উন্নত যাত্রীসেবার এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে নতুন কোচগুলো কাজে লাগবে। পাশপাশি পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ক্যারেজ প্রতিস্থাপন করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রীবাহী কোচের চলমান স্বল্পতা দূর করা হবে। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

প্রকল্প সূত্র জানায়, এক হাজার ১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার মধ্যে বড় অংকের টাকা আসবে ভারতীয় ডলার ক্রেডিট লাইন থেকে। এর পরিমাণ প্রায় ৭৩৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকাই অনুদান। বাকি ৫৩৯ কোটি টাকা ১ শতাংশ সুদে পরিশোধ করতে হবে ১৫ বছরের মধ্যে। প্রকল্পে সরকারী অর্থায়ন হবে ২৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কোচগুলো সংগ্রহের ক্রয় পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা গেছে, স্টেইনলেস স্টিল বডি ও অত্যাধুনিক বগির কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) থেকে তৈরি করা হবে। আর চেন্নাইয়ের ইন্টারভাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিএফ) ও ভারত আর্থ মোভার্স লিমিটেড (বিইএমএল) থেকে রেলওয়ের বিজি কোচ তৈরি করা হবে।

রেলসূত্র জানায়, প্রথমে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি ২০১৪ থেকে জুন ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রস্তাব করায় এটি প্রণয়নের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিকল্পনা কমিশন। পরে বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জুলাই ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সময় নির্ধারণের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন মতৈক্যে পৌঁছে। এডিবির অর্থায়নে গৃহীত ১০০টি মিটারগেজ এবং ৫০টি ব্রডগেজ স্টেইনলেস স্টিল প্যাসেঞ্জার সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত কোচের ব্যয়ের সঙ্গে মিল রেখে কোচ কেনা হবে। এছাড়া, ইতোপূর্বে চীন থেকে ২০০৫ সালে ৫০টি এমজি কোচের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এ ১২০টি কোচ কেনা হবে। এছাড়া কোচসমূহ স্টেইনলেস স্টিল বডি ও ফিয়াট বগি দ্বারা তৈরি করা হবে। এর ফলে ব্রডগেজ কোচের ক্ষেত্রে দেড় গুণ বেশি দাম বিবেচনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, যাত্রীদের আরও উন্নত যাত্রীসেবা প্রদান ও রেলপথে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ভারতীয় ঋণে প্রায় ১০১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ১২০টি কোচ কেনা হচ্ছে। স্টেইনলেস স্টিল বডি ও অত্যাধুনিক বগির কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরিতে (আরসিএফ) তৈরি করা হবে। আর চেন্নাইয়ের ইন্টারভাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিএফ) ও ভারত আর্থ মোভার্স লিমিটেড (বিইএমএল) থেকে রেলওয়ের বিজি কোচ তৈরি করা হবে। কোচগুলো আধুনিক মানের হওয়ার ফলে ট্রেনের পরিবহন ক্ষমতা ও ট্রেনের গতি আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পাবে। পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ক্যারেজ প্রতিস্থাপন করা হবে। ফলে কম সময়ে যাত্রী তার গন্তব্যে যেতে সক্ষম হবে। রেলওয়ের বহরে এ ১২০টি কোচ যোগ হলে যাত্রীবাহী কোচের বর্তমান সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে। এছাড়া যাত্রীদের সেবার পরিমাণ বাড়ানোর পাশপাশি রেল আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

২১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: