আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজনৈতিক সঙ্কট দূর করতে সব পার্টিকে চিঠি দেবে জাতীয় পার্টি

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

রাজন ভট্টাচার্য ॥ চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগ নিচ্ছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে শক্তিশালী দেশসমূহের দূতদের সঙ্গে আলোচনা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। লক্ষ্য সকল রাজনৈতিক দলসমূহকে একত্রিত করে জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন করা। এর মধ্য দিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হবে সরকার পরিচালনা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত রূপরেখা। যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কোন সঙ্কটের সৃষ্টি না হয়। বন্ধ হয় রাজনৈতিক সহিংসতা। এজন্য প্রয়োজনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সকল দলকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া হবে জাপার পক্ষ থেকে।

দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সংসদের চলতি অধিবেশনেই জাতীয় পার্টির পক্ষে জাতীয় কনভেনশনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাবেন এরশাদ। এতে সমর্থন দেবেন বিরোধী নেতা রওশনসহ দলের নির্বাচিত সাংসদরা। এছাড়াও সংসদের বাইরে দলীয় সকল কর্মকা-েও সঙ্কট নিরসনে সকল রাজনৈতিক দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন জাপা নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রত্যাশা, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে রাজনৈতিক দলগুলো। সংলাপের মধ্য দিয়ে আগামীতে শান্তি পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু জনকণ্ঠকে বলেন, ইতোমধ্যে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আমরা কথা বলব। চলমান সঙ্কটের জাতীয় পার্টি শান্তিপূর্ণ চায়। আমরা ধ্বংসের রাজনীতি বিশ্বাস করি না। হরতাল অবরোধ দিয়ে আর মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় আসা যায় না। এটা সকল রাজনৈতিক দলের মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি মনে করে সঙ্কট উত্তোরণে সংলাপের বিকল্প নেই। এজন্য ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপিকে ছাড় দিয়ে আলোচনায় বসা উচিত। দেশের সবচেয়ে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জাপা চেয়ারম্যান আলোচনার ডাক দিয়েছেন। আশা করি দেশ ও মানুষের স্বার্থে সবাই এ ডাকে সাড়া দেবেন। প্রয়োজনে আমরা সকল দলকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেব। সংলাপে আলোচনার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পথ খুঁজে বের করা। তাছাড়া নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এতে ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ মানুষের। সহিংতায় প্রাণ যায়। এজন্য বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচনকালীন সরকারবব্যস্থা অনুসরণ করা যেতে পারে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। সর্বোপরি শান্তির বাংলাদেশ বিনির্মাণে যা যা করণীয় সবকিছুই আলোচনায় আসতে পারে।

এদিকে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিং শুরু করেছে বিরোধী দল। এরি অংশ হিসেবে ক্ষমতাধর দেশসমূহের সঙ্গে সুসস্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সংলাপ আয়োজনে তাদের সমর্থন আদায়েরও চেষ্টা চলছে। গেল সপ্তাহে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের বাসায় বৈঠক করেছেন এরশাদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাই জিএম কাদের ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের সঙ্গে এরশাদের মধুর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে মিত্র রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত চীনের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন এরশাদ।

ইতোমধ্যে রওশনের সঙ্গে এরশাদের সমঝোতা হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় পর স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দলের নেতারা অনেকটাই চাঙ্গা। তাই বিরোধী দলের করণীয় বিষয়ে রওশনও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে কথা বলবেন। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ কতটুকু কার্যকর হবে; বা কার্যকর ভূমিকা রাখবে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।

চলমান সহিংসতা বন্ধে সোচ্চার হয়েছেন এক সময়ে স্বৈরশাসক হিসেবে খ্যাত এরশাদ। সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি কান্না নিবারণের জন্য রাজনীতি করি... আমরা আহ্বান করি, আসুন সবাই বসি। সমস্যার সমাধানে আলোচনা করি। সবাই একসঙ্গে বসলে সমাধান বেরুবেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না। মানুষ পুড়বে, হত্যা করা হবে? এটা কেমন রাজনীতি। তিনি প্রশ্ন করেন, আমরা সহিংসতা করব? নাকি গণতন্ত্রের চর্চা করব?

চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধান প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, যেহেতু আমি বয়োজ্যেষ্ঠ, আমার ডাকে সাড়া দিলে খুশি হব। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে। বিএনপির এই আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যদি জনপ্রিয় দল হতো, তাহলে কর্মসূচী দিয়ে বাসায় বসে থাকত। জনগণই কর্মসূচী সফল করত। সহিংসতা চালাতে হতো না। মানুষ হত্যা করতে হতো না। বিএনপির নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনের দাবির সঙ্গেও তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন চাই না। দেশের নির্বাচন দেয়ার মতো কোন পরিস্থিতি আসেনি। আগে নির্বাচনের সংস্কৃতি ঠিক করতে হবে।

এর আগে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে ১৭ জানুয়ারি আয়োজিত শান্তি সমাবেশে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে এরশাদ বলেন, লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া এ কোন ধরনের রাজনীতি? মানুষ হত্যা করে ক্ষমতা যাওয়া যায় না। ক্ষমতায় যেতে আর কত লাশের প্রয়োজন আপনার? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ভাগ্য পরিবর্তনের নামে মানুষ হত্যা, এটা কোন রাজনীতি হতে পারে না।

পুড়িয়ে মারার রাজনীতি জাতীয় পার্টি করে না এ কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, একটি দল মানুষকে জিম্মি করে রাজনীতি করবে; আমরা তা চেয়ে চেয়ে দেখতে পারি না। এর বিহিত দরকার। জাতি আজ মহাদুর্যোগে উপনীত হয়েছে এমন মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, আয়লা ও সুনামির চেয়ে মানুষের সৃষ্টি দুর্যোগ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। দুর্যোগের নামে সহিংসতা, বর্বরতা, হিংস্রতা চলছে। মানুষের রক্ত নিয়ে হোলিখেলা কবে বন্ধ হবে জানি না। হত্যা, বোমাবাজিসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের জন্য কারও কোন সমবেদনা নেই। সহমর্মিতা নেই। আমরা সবাই যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চাই। এটা কেমন রাজনীতি। মানুষ মেরে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না হয়ত এ কথা সবাই আমরা ভুলে গেছি। ক্ষমতায় যেতে হলে প্রয়োজন মানুষকে ভালবাসা। তিনি বলেন, সবাই মিলে আলোচনায় বসলে শান্তির পথ হয়ত বের করা যেত। কিন্তু রাজনীতির নামে এখন যা হচ্ছে এতে গোটা জাতি রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘৃণা করছে। আমরা এমন প্রস্তাবে কেউ সাড়া দেয়নি। শেষ পর্যন্ত চলমান সমাধানে হয়ত এক সঙ্গে বসতে হবে। এছাড়া সামনে হয়ত আর কোন বিকল্প নেই।

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

২১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: