আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাতায়ন বন্ধ নয়

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

তথ্যপ্রযুক্তি হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে বিশ্বকে। নতুন প্রজন্ম দ্রুত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শিখছে। তাদের জীবনযাপনের অংশ হয়ে উঠেছে এটি। মানুষ কোন একটি প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে একান্ত বাধ্য না হলে তার পরিবর্তন ঘটায় না। তবে এটাও ঠিক, এক এ্যাপ্লিকেশনের বদলে অন্য এ্যাপস গ্রহণেও সময় লাগে না মানুষের। তাই আজকের দিনে ‘রুদ্ধ দুয়ার নীতি’ কাজে আসে না। মানুষ ঠিকই বিকল্প বের করে ফেলে। বিশ্বব্যাপী ২৮ কোটি নিবন্ধনকৃত ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে ১০ কোটি মানুষ ভাইবার ব্যবহার করে থাকে। বিনামূল্যে কথা বলার সুযোগের কারণে বিশ্বব্যাপী এ সেবা বেশ জনপ্রিয়। কথা বলা ও চ্যাট করা ছাড়াও ছবি, অডিও-ভিডিও স্থান শেয়ার করা যায় ভাইবার দিয়ে। বলাবাহুল্য, অল্পকালের ভেতরে ভাইবার বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই আকস্মিকভাবে ভাইবার ও ট্যাঙ্গো বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তটি বহু মানুষকেই বিপাকে ফেলে দেবে। এটা ঠিক যে, ভাইবার ও ট্যাঙ্গোতে যে তথ্য আদান-প্রদান করা হয় তার কোন রেকর্ড থাকে না। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশে এই দুটি সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরও জানা গেল হোয়াটসঅ্যাপ, মাইপিপল ও লাইন নামের আরও তিনটি ভয়েস ও মেসেজিং সেবা বন্ধ করা হয়েছে।

মাথা থাকলে মাথা ব্যথা হবে, সে কারণে কেউ মাথা কেটে ফেলে না। মাথা ব্যথা সারানোর ব্যবস্থা নেন। ভাইবার ও ট্যাঙ্গো সার্ভিস ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা কিংবা তথ্য আদান-প্রদানের রেকর্ড সংরক্ষণে অপারগতার জন্য সার্ভিস দুটি বন্ধ রাখার পক্ষে তাই সুযুক্তি নেই। গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে নাশকতার কাজে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সারা হচ্ছে ভাইবার ব্যবহার করে। দেশে দেশে জঙ্গীরা ভাইবার ব্যবহারের মাধ্যমে পরস্পর যোগাযোগ রাখেনÑ এই তথ্য জানার পর পাকিস্তান, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। অথচ তা কোন কাজে আসেনি। পরে সেসব দেশে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। ভোক্তারা, বিশেষ করে তরুণরা বিকল্প উপায়ে এসব এ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার সক্ষমতার পরিচয় রাখে। প্রশ্ন হচ্ছে, জঙ্গীবাদ দমনে তৎপর আমেরিকায় ভাইবার বন্ধ হয়নি কেন? এর আগে দেশে একবার সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ হয়েছিল। ২০১২ সালে ভিডিও আপলোড ও দেখার জনপ্রিয় সাইট ইউটিউব বন্ধ করা হয়। প্রযুক্তি রুদ্ধ করে রাখা যে সমাধান নয় সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল পুনরায় ইউটিউব খুলে দেয়ায়।

প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে প্রায় নিখরচায় মানুষে মানুষে যোগাযোগ স্থাপনের দারুণ সব সুযোগকে কোনক্রমেই বাধাগ্রস্ত করা সমীচীন নয়। ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং বিকশিত হতে না দিলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই বাতায়ন বন্ধ নয়।

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

২১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: